ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুষ্ঠু নির্বাচনে আনসার সদস্যদের পেশাদার ভূমিকার ওপর জোর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সেন্টমার্টিনে ২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ হোয়াইক্যংয়ে স্থানীয়দের মানববন্ধন-নিরাপদ সীমান্ত চাই,নিরীহ মানুষের রক্ত নয় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ : হোয়াইক্যংয়ে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন স্কুলছাত্রীকে গলাকেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল গ্রেফতার মিলন গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু ইসিতে শুরু তৃতীয় দিনের আপিল শুনানি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগে করা মামলার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসলেই কি ১৫ বছর লাগবে? সীমান্তে গুলিবিদ্ধ আফনানের অপারেশন চলছে চমেকে চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী পিতার মৃত্যু,দুপুর ২টায় জানাযা মিয়ানমার সীমান্তে ‘কোলাবরেটিভ ফোর্স’ সময়ের দাবি মিয়ানমারে সংঘাত: দিনভর উত্তপ্ত টেকনাফ সীমান্ত, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩ : আটক ৫৩ কলাতলী সমুদ্র এলাকায় অস্ত্রসহ ১৯ ডাকাত আটক, গুলিবিদ্ধ ডাকাতের মৃত্যু

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নৃশংসতার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালতে আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পুলিশ ও সেনা ছাউনিতে হামলার জের ধরে দেশটির সেনাবাহিনী সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ অভিযান চালায়। সেই সময় বর্মী বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে টিকে থাকতে না পেরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।

জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক তদন্ত দল এই অভিযানকে সরাসরি ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সেই তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই গণহত্যা মামলাটি দায়ের করে।

মিয়ানমারে এই অভিযান চলাকালে দেশটির বেসামরিক সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন অং সান সু চি, যিনি সে সময় জাতিসংঘের প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তবে, ২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সু চি বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, আইসিজে-তে শুরু হওয়া এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান মনে করেন, গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এই ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই শুনানি বিশ্বজুড়ে একটি ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুষ্ঠু নির্বাচনে আনসার সদস্যদের পেশাদার ভূমিকার ওপর জোর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

This will close in 6 seconds

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নৃশংসতার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালতে আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পুলিশ ও সেনা ছাউনিতে হামলার জের ধরে দেশটির সেনাবাহিনী সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ অভিযান চালায়। সেই সময় বর্মী বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে টিকে থাকতে না পেরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।

জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক তদন্ত দল এই অভিযানকে সরাসরি ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সেই তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই গণহত্যা মামলাটি দায়ের করে।

মিয়ানমারে এই অভিযান চলাকালে দেশটির বেসামরিক সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন অং সান সু চি, যিনি সে সময় জাতিসংঘের প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তবে, ২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সু চি বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, আইসিজে-তে শুরু হওয়া এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান মনে করেন, গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এই ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই শুনানি বিশ্বজুড়ে একটি ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর