ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমদের উখিয়া সফর: প্রচারণা বন্ধের ঘোষণা জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারীর ১৭ মিনিটের ব্যবধানে ২ ভূমিকম্প! পেকুয়ায় তিন ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার বিজিবি ক্যাম্প চৌধুরী পাড়ার হাসান আলী আর নেই : জানাজা বুধবার কক্সবাজারে ৫.৯ মাত্রার ভূকম্পন: উৎপত্তিস্থল ইয়াংগুন পালংখালীতে ৩ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান কক্সবাজার-৩ আসনের জনগনকে পবিত্র শবে বরাতের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লুৎফর রহমান কাজল গ্যাসের জন্যে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীর উপর তুলে দিলো মারছা বাস,নিহত খুরুশকুলের মুজিব সাদিক কায়েমকে ‘বেয়াদব’ বলায় এনসিপির আইনজীবীনেতা নাজমুস সাকিবকে অব্যাহতি গর্জনিয়ার হত্যাচেষ্টা মামলার পলাতক আসামী আব্বাস গ্রেপ্তার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে — সালাহউদ্দিন আহমদ র‌্যাব নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ আজ পবিত্র শবে বরাত: পুণ্যময় রজনীর আহ্বান প্রার্থী ও দলের পক্ষে কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা— কোস্ট গার্ডের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নৃশংসতার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালতে আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পুলিশ ও সেনা ছাউনিতে হামলার জের ধরে দেশটির সেনাবাহিনী সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ অভিযান চালায়। সেই সময় বর্মী বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে টিকে থাকতে না পেরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।

জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক তদন্ত দল এই অভিযানকে সরাসরি ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সেই তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই গণহত্যা মামলাটি দায়ের করে।

মিয়ানমারে এই অভিযান চলাকালে দেশটির বেসামরিক সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন অং সান সু চি, যিনি সে সময় জাতিসংঘের প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তবে, ২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সু চি বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, আইসিজে-তে শুরু হওয়া এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান মনে করেন, গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এই ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই শুনানি বিশ্বজুড়ে একটি ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

This will close in 6 seconds

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নৃশংসতার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালতে আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পুলিশ ও সেনা ছাউনিতে হামলার জের ধরে দেশটির সেনাবাহিনী সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ অভিযান চালায়। সেই সময় বর্মী বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে টিকে থাকতে না পেরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।

জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক তদন্ত দল এই অভিযানকে সরাসরি ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সেই তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই গণহত্যা মামলাটি দায়ের করে।

মিয়ানমারে এই অভিযান চলাকালে দেশটির বেসামরিক সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন অং সান সু চি, যিনি সে সময় জাতিসংঘের প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তবে, ২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সু চি বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, আইসিজে-তে শুরু হওয়া এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান মনে করেন, গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এই ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই শুনানি বিশ্বজুড়ে একটি ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর