ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা! ‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

চুরি-ছিনতাই ও ইভটিজিং রোধে কক্সবাজার সৈকতে বসছে শক্তিশালী হেলোজেন লাইট

দীর্ঘদিন অন্ধকারে ডুবে থাকা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবার আলোকিত হতে যাচ্ছে নতুন হেলোজেন লাইটে। চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হচ্ছে উন্নতমানের এই লাইট।

শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান। প্রথম দিন বসানো হয়েছে ৮টি হেলোজেন লাইট। পর্যায়ক্রমে সৈকতের সব পোলেই নতুন বাতি বসানো হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাবণী বীচের দক্ষিণ মাথা থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত ৬টি লাইট ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে। কাজে তত্ত্বাবধান করছেন বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব আলম। তিনি জানান, “শনিবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে লাবণী ও সীগাল পয়েন্টে লাইট বসানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হবে।”

কাজে নিয়োজিত ইলেকট্রিশিয়ান নুরুল আবছার বলেন, “আগে এক পিলার থেকে আরেক পিলারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। বৃষ্টির পানিতে তার ও হোল্ডার নষ্ট হয়ে যায়। নতুনভাবে ৪টি ৭০০ ওয়াট এবং ২টি ৪০০ ওয়াটের হেলোজেন লাইট লাগানো হয়েছে।”

জানা যায়, ২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিট লাইট বসানো হয়েছিল, যার খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৭৮টি বাতি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিদুল আলম বলেন, “নতুন হেলোজেন লাইটগুলো উন্নতমানের, সহজে মরিচা ধরবে না। এগুলো জাহাজে ব্যবহৃত লাইটের মতো শক্তিশালী। প্রথমে ২০টি স্থাপন করা হবে, পরে বাকি পোলগুলোতেও লাগানো হবে। তার, হোল্ডার ও লোহার অংশ নতুন করে পরিবর্তন করা হচ্ছে।”

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “অন্ধকারেও টুরিস্ট পুলিশ সবসময় দায়িত্ব পালন করেছে। এখন ৩৩টি সিসি ক্যামেরা, যার মধ্যে ২৭টি বিচ এলাকায়, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। লাইট বসানো হলে সৈকতের রাতের সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা!

চুরি-ছিনতাই ও ইভটিজিং রোধে কক্সবাজার সৈকতে বসছে শক্তিশালী হেলোজেন লাইট

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিন অন্ধকারে ডুবে থাকা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবার আলোকিত হতে যাচ্ছে নতুন হেলোজেন লাইটে। চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হচ্ছে উন্নতমানের এই লাইট।

শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান। প্রথম দিন বসানো হয়েছে ৮টি হেলোজেন লাইট। পর্যায়ক্রমে সৈকতের সব পোলেই নতুন বাতি বসানো হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাবণী বীচের দক্ষিণ মাথা থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত ৬টি লাইট ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে। কাজে তত্ত্বাবধান করছেন বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব আলম। তিনি জানান, “শনিবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে লাবণী ও সীগাল পয়েন্টে লাইট বসানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হবে।”

কাজে নিয়োজিত ইলেকট্রিশিয়ান নুরুল আবছার বলেন, “আগে এক পিলার থেকে আরেক পিলারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। বৃষ্টির পানিতে তার ও হোল্ডার নষ্ট হয়ে যায়। নতুনভাবে ৪টি ৭০০ ওয়াট এবং ২টি ৪০০ ওয়াটের হেলোজেন লাইট লাগানো হয়েছে।”

জানা যায়, ২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিট লাইট বসানো হয়েছিল, যার খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৭৮টি বাতি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিদুল আলম বলেন, “নতুন হেলোজেন লাইটগুলো উন্নতমানের, সহজে মরিচা ধরবে না। এগুলো জাহাজে ব্যবহৃত লাইটের মতো শক্তিশালী। প্রথমে ২০টি স্থাপন করা হবে, পরে বাকি পোলগুলোতেও লাগানো হবে। তার, হোল্ডার ও লোহার অংশ নতুন করে পরিবর্তন করা হচ্ছে।”

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “অন্ধকারেও টুরিস্ট পুলিশ সবসময় দায়িত্ব পালন করেছে। এখন ৩৩টি সিসি ক্যামেরা, যার মধ্যে ২৭টি বিচ এলাকায়, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। লাইট বসানো হলে সৈকতের রাতের সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।”