পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেরণরছড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত কালভার্টটির জীর্ণদশা এখন চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে নিচের মাটি ও ইট ধসে পড়ার পর কোনোমতে গাছের সরু খুঁটি ও ডালপালার ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে আস্ত একটি কালভার্ট!
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটির দুই পাশের সুরক্ষা দেয়াল ও মূল ভিত ভাঙন ধরে ধসে পড়েছে। নিচে মাটির ওপরের কাঠামো ভেঙে ইটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। কালভার্টটির ঢালাই করা মাথার স্ল্যাবের অংশটি এখন মাত্র কয়েকটি কাঁচা গাছের সরু খুঁটির ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে । এছাড়া কালভার্টের সংযোগস্থলে যাতায়াতের সুবিধার জন্য কাঠের বা গাছের ডাল বিছিয়ে সাময়িক সাঁকোর মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে এটি যেকোনো মুহূর্তে পুরোপুরি ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কালভার্টটির সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে এই করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে কেরনছড়ি ও আশপাশের এলাকার অন্তত চার হাজার মানুষের স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও অটোরিকশাচালকরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিশেষ করে আলহেরা মাদরাসা, টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টইটং উচ্চ বিদ্যালয় এবং বনকানন এশাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভঙ্গুর কালভার্ট পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে যাতায়াত করায় অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এছাড়া জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল খালেক জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্ষার এই দুর্যোগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের খুঁটিতে ঝুলন্ত কালভার্টটি অপসারণ করে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা খুবই জুরুরি।
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার জয়নাল আবদীন জানান, কেরুণছড়ি ব্রীজটি স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রেজাউল করিম, পেকুয়া 



















