ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড এক দিনে দুই দফা ডাকাতি : ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ফের আতংক এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কচ্ছপিয়ার সোহেল সিকদার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার পেলো ক্ষতিপূরণ টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক পেকুয়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৪০ শিক্ষার্থী চাকুরি পেছনে না ঘুরে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে চাকুরি দাতা হোন- জেলা প্রশাসক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী আজ অবশেষে ইশরাকের ঘোষণা, পদত্যাগ করবেন দুপুরে

ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া :১৩ বাংলাদেশীকে অর্থদন্ড ও কারাদন্ড

উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেওয়া বাড়ির মালিকদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলা এলাকায় ক্যাম্প ১১ ও ১২ সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। উখিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদারের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী এ অভিযান চালায়।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৩টি পৃথক মামলায় মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

জরিমানাপ্রাপ্তদের মধ্যে পালংখালীর শাহিনা আক্তার ও সাজু বেগমকে ১০ হাজার টাকা, মরাগাছতলার মো. হারুনকে ৭ হাজার, সেলিনা আক্তার ও মো. হামিদুল হককে ৫ হাজার টাকা, মো. সৈয়দ আলমকে ২০ হাজার, বালুখালীর মো. নুর হোসেনকে ৩০ হাজার, শিয়ালিপাড়ার আনোয়ারুল আলমকে ২০ হাজার এবং ময়নার ঘোনা এলাকার নুরুল আমিনকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া আটক ৩ বাড়ির মালিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পালংখালীর আব্দুর রশিদ ও পুঠিবনিয়ার মো. আজিজুর রহমানকে ৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং রহমতের বিল এলাকার মো. আব্দুল রশিদকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

যৌথবাহিনীর তথ্যমতে, অভিযানে ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয়দের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করা মোট ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী ও ২০০ শিশু রয়েছে। তারা সবাই উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করছিলেন। আটক রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে নিজ নিজ নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের বাইরে তাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া দিতে হলে ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পরিচয় যাচাই, স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ এবং ভাড়াচুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযানে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এসব নিয়মের কোনোটি মানা হয়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, ‘ভবিষ্যতেও শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯

ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া :১৩ বাংলাদেশীকে অর্থদন্ড ও কারাদন্ড

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেওয়া বাড়ির মালিকদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলা এলাকায় ক্যাম্প ১১ ও ১২ সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। উখিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদারের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী এ অভিযান চালায়।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৩টি পৃথক মামলায় মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

জরিমানাপ্রাপ্তদের মধ্যে পালংখালীর শাহিনা আক্তার ও সাজু বেগমকে ১০ হাজার টাকা, মরাগাছতলার মো. হারুনকে ৭ হাজার, সেলিনা আক্তার ও মো. হামিদুল হককে ৫ হাজার টাকা, মো. সৈয়দ আলমকে ২০ হাজার, বালুখালীর মো. নুর হোসেনকে ৩০ হাজার, শিয়ালিপাড়ার আনোয়ারুল আলমকে ২০ হাজার এবং ময়নার ঘোনা এলাকার নুরুল আমিনকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া আটক ৩ বাড়ির মালিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পালংখালীর আব্দুর রশিদ ও পুঠিবনিয়ার মো. আজিজুর রহমানকে ৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং রহমতের বিল এলাকার মো. আব্দুল রশিদকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

যৌথবাহিনীর তথ্যমতে, অভিযানে ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয়দের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করা মোট ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী ও ২০০ শিশু রয়েছে। তারা সবাই উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করছিলেন। আটক রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে নিজ নিজ নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের বাইরে তাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া দিতে হলে ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পরিচয় যাচাই, স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ এবং ভাড়াচুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযানে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এসব নিয়মের কোনোটি মানা হয়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, ‘ভবিষ্যতেও শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’