ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেষ হলো ‘রামু গ্রন্থমেলা-২০২৬’ টেকনাফে র‍্যাবের অভিযান: ৪ ভিক্টিম উদ্ধার, ২ মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার রামুতে বিজিবির অভিযান: ৬ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী তছলিমা গ্রেপ্তার কেঁচো সারে চুনতির কাইছারের ভাগ্যবদল টেকনাফে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বিমানবন্দর ও স্টেশনসহ ট্রেনে ফ্রি ওয়াই-ফাই দেয়া হবে- তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অকটেন ও সার জব্দ হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি মেলেনি, শারজায় ফিরে যাচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সংরক্ষিত নারী আসনে কারা প্রাধান্য পাবেন, জানালেন রিজভী মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২ : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন টেকনাফের সাবরাংয়ে জেটি হবে, পর্যটকেরা যেতে পারবেন সেন্ট মার্টিন হ্নীলা মডেল ফারিয়া’র সভাপতি নির্বাচিত হলেন মোকতার হোসাইন সোহেল নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৫টি আইইডিসহ বিপুল বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার নাকফুল হারালেন পরীমনি!

কেঁচো সারে চুনতির কাইছারের ভাগ্যবদল

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামের যুবক কাইছার খান কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পারিবারিক কারণে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তবে ২০২০ সালের করোনাকালে মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামে ফিরে এসে শুরু করেন জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ।

শুরুতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি ঢাকায় গিয়ে গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল গ্যাপ থেকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রথমদিকে তার উৎপাদিত জৈব সার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে উন্নতমানের সার উৎপাদনে সফল হন।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত “সুপার অর্গানিক ফার্টিলাইজার লিমিটেড” থেকে উৎপাদিত জৈব ও কেঁচো সার সাতকানিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে এবং মাটির উর্বরতা বজায় থাকছে।

কাইছার খান জানান, প্রতি মাসে তিনি ২০–৩০ টন জৈব ও কেঁচো সার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি জৈব সার ১২ টাকা এবং কেঁচো সার ১৫ টাকায় বিক্রি করে খরচ বাদে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে তিনি কাইছার খানের কাছ থেকে কয়েক টন জৈব ও কেঁচো সার ক্রয় করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসাইন বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে জৈব সারের বিকল্প নেই। কাইছার খানের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেঁচো সারে চুনতির কাইছারের ভাগ্যবদল

আপডেট সময় : ০৫:০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামের যুবক কাইছার খান কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পারিবারিক কারণে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তবে ২০২০ সালের করোনাকালে মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামে ফিরে এসে শুরু করেন জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ।

শুরুতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি ঢাকায় গিয়ে গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল গ্যাপ থেকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রথমদিকে তার উৎপাদিত জৈব সার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে উন্নতমানের সার উৎপাদনে সফল হন।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত “সুপার অর্গানিক ফার্টিলাইজার লিমিটেড” থেকে উৎপাদিত জৈব ও কেঁচো সার সাতকানিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে এবং মাটির উর্বরতা বজায় থাকছে।

কাইছার খান জানান, প্রতি মাসে তিনি ২০–৩০ টন জৈব ও কেঁচো সার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি জৈব সার ১২ টাকা এবং কেঁচো সার ১৫ টাকায় বিক্রি করে খরচ বাদে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে তিনি কাইছার খানের কাছ থেকে কয়েক টন জৈব ও কেঁচো সার ক্রয় করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসাইন বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে জৈব সারের বিকল্প নেই। কাইছার খানের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।