ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩০ লক্ষ টাকার ঔষধ জব্দ : আটক ৩ সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

কক্সবাজারে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক থেকে সম্পদ তৈরির পথে নতুন অধ্যায়

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা। রামু উপজেলার মিঠাছড়িতে স্থাপিত এই কারখানার উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহর হাতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বুশরা নিশাত, ইউএনওপিএস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর (মেডিক্যাল ওয়েস্ট) মেইসন সালাম, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী ও মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (এইচসিএমপি) সহযোগী পরিচালক রেজাউল করিম।

পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য কক্সবাজারে প্রতিদিন উৎপন্ন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩৪ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য এ শহরে জমছে, এর বেশিরভাগই একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন, মোড়ক বা পাতলা প্লাস্টিক। এসব বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা কঠিন এবং এর বাজারমূল্যও নেই।

নতুন এই কারখানায় এমন বর্জ্য থেকেই তৈরি হবে টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চ এবং নির্মাণে ব্যবহারের উপযোগী মজবুত খুঁটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, “এই উদ্যোগ টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক অনন্য উদাহরণ। এটি একদিকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে সারা দেশেই এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে।”

ইউএনওপিএসের মেইসন সালাম বলেন, “এটি এমন এক দৃষ্টান্ত, যেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী জানান, ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রাহক থেকে শুরু করে কারখানার কর্মী ও পণ্য বিক্রেতা—সব মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক বলেন, “রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থাপনাও হচ্ছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।”

৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট আয়তনের এই কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এতে রয়েছে সোলার পাওয়ার সিস্টেম, ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং দৈনিক ২ হাজার লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধনের (ইটিপি) সুবিধা।

বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস-এর সহায়তায় ‘সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম’ (SACEP) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজারে এর বাস্তবায়ন অংশীদার ব্র্যাক।

এই উদ্যোগের ফলে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা হবে না, বরং নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা

কক্সবাজারে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক থেকে সম্পদ তৈরির পথে নতুন অধ্যায়

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা। রামু উপজেলার মিঠাছড়িতে স্থাপিত এই কারখানার উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহর হাতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বুশরা নিশাত, ইউএনওপিএস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর (মেডিক্যাল ওয়েস্ট) মেইসন সালাম, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী ও মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (এইচসিএমপি) সহযোগী পরিচালক রেজাউল করিম।

পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য কক্সবাজারে প্রতিদিন উৎপন্ন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩৪ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য এ শহরে জমছে, এর বেশিরভাগই একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন, মোড়ক বা পাতলা প্লাস্টিক। এসব বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা কঠিন এবং এর বাজারমূল্যও নেই।

নতুন এই কারখানায় এমন বর্জ্য থেকেই তৈরি হবে টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চ এবং নির্মাণে ব্যবহারের উপযোগী মজবুত খুঁটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, “এই উদ্যোগ টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক অনন্য উদাহরণ। এটি একদিকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে সারা দেশেই এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে।”

ইউএনওপিএসের মেইসন সালাম বলেন, “এটি এমন এক দৃষ্টান্ত, যেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী জানান, ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রাহক থেকে শুরু করে কারখানার কর্মী ও পণ্য বিক্রেতা—সব মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক বলেন, “রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থাপনাও হচ্ছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।”

৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট আয়তনের এই কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এতে রয়েছে সোলার পাওয়ার সিস্টেম, ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং দৈনিক ২ হাজার লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধনের (ইটিপি) সুবিধা।

বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস-এর সহায়তায় ‘সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম’ (SACEP) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজারে এর বাস্তবায়ন অংশীদার ব্র্যাক।

এই উদ্যোগের ফলে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা হবে না, বরং নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।