ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ

কক্সবাজারে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক থেকে সম্পদ তৈরির পথে নতুন অধ্যায়

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা। রামু উপজেলার মিঠাছড়িতে স্থাপিত এই কারখানার উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহর হাতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বুশরা নিশাত, ইউএনওপিএস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর (মেডিক্যাল ওয়েস্ট) মেইসন সালাম, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী ও মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (এইচসিএমপি) সহযোগী পরিচালক রেজাউল করিম।

পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য কক্সবাজারে প্রতিদিন উৎপন্ন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩৪ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য এ শহরে জমছে, এর বেশিরভাগই একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন, মোড়ক বা পাতলা প্লাস্টিক। এসব বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা কঠিন এবং এর বাজারমূল্যও নেই।

নতুন এই কারখানায় এমন বর্জ্য থেকেই তৈরি হবে টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চ এবং নির্মাণে ব্যবহারের উপযোগী মজবুত খুঁটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, “এই উদ্যোগ টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক অনন্য উদাহরণ। এটি একদিকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে সারা দেশেই এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে।”

ইউএনওপিএসের মেইসন সালাম বলেন, “এটি এমন এক দৃষ্টান্ত, যেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী জানান, ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রাহক থেকে শুরু করে কারখানার কর্মী ও পণ্য বিক্রেতা—সব মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক বলেন, “রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থাপনাও হচ্ছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।”

৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট আয়তনের এই কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এতে রয়েছে সোলার পাওয়ার সিস্টেম, ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং দৈনিক ২ হাজার লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধনের (ইটিপি) সুবিধা।

বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস-এর সহায়তায় ‘সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম’ (SACEP) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজারে এর বাস্তবায়ন অংশীদার ব্র্যাক।

এই উদ্যোগের ফলে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা হবে না, বরং নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক থেকে সম্পদ তৈরির পথে নতুন অধ্যায়

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা। রামু উপজেলার মিঠাছড়িতে স্থাপিত এই কারখানার উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহর হাতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বুশরা নিশাত, ইউএনওপিএস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর (মেডিক্যাল ওয়েস্ট) মেইসন সালাম, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী ও মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (এইচসিএমপি) সহযোগী পরিচালক রেজাউল করিম।

পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য কক্সবাজারে প্রতিদিন উৎপন্ন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩৪ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য এ শহরে জমছে, এর বেশিরভাগই একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন, মোড়ক বা পাতলা প্লাস্টিক। এসব বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা কঠিন এবং এর বাজারমূল্যও নেই।

নতুন এই কারখানায় এমন বর্জ্য থেকেই তৈরি হবে টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চ এবং নির্মাণে ব্যবহারের উপযোগী মজবুত খুঁটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, “এই উদ্যোগ টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক অনন্য উদাহরণ। এটি একদিকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে সারা দেশেই এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে।”

ইউএনওপিএসের মেইসন সালাম বলেন, “এটি এমন এক দৃষ্টান্ত, যেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী জানান, ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রাহক থেকে শুরু করে কারখানার কর্মী ও পণ্য বিক্রেতা—সব মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক বলেন, “রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থাপনাও হচ্ছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।”

৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট আয়তনের এই কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এতে রয়েছে সোলার পাওয়ার সিস্টেম, ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং দৈনিক ২ হাজার লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধনের (ইটিপি) সুবিধা।

বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস-এর সহায়তায় ‘সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম’ (SACEP) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজারে এর বাস্তবায়ন অংশীদার ব্র্যাক।

এই উদ্যোগের ফলে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা হবে না, বরং নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।