ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন: জড়িতদের আটকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম ফের রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হলেন সরওয়ার আলম আর স্কুলে যাওয়া হবে না ছোট্ট নূরের.. মেরিন ড্রাইভে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ৬,আশঙ্কাজনক ২ ঘুমধুম সীমান্তে অনুপ্রবেশ, তিন আরকান আর্মি সদস্য আটক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছয় সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হবে সিটি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় সারজিস-হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপির কমিটি রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনী – সন্ত্রাসীর গোলাগুলি, নিহত ১ রমজানে মহানবী (সা.)-এর দিনলিপি সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি? টেকনাফের সাগরতীরের পাহাড়ে আগুন: ৪ ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে প্যারাবনে হাত দিলেই খবর আছে : এমপি আলমগীর ফরিদ রাজাপালংয়ের ‘রাজার চেয়ার’ দখলে যাবে কার?

আর স্কুলে যাওয়া হবে না ছোট্ট নূরের..

সকালের সূর্য তখনও পুরোপুরি উঁকি দেয়নি। বইভর্তি ব্যাগ কাঁধে, স্বপ্নভরা দুটি চোখে নতুন দিনের আশায় ঘর থেকে বের হয়েছিল ছোট্ট নওশেদ শরীফ নূর (১০)। প্রতিদিনের মতোই স্কুলে যাওয়ার তাড়া—ক্লাসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, নতুন কিছু শেখা হবে। কিন্তু সেই পথেই থেমে গেল তার জীবনের সব স্বপ্ন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী হিন্দুপাড়ার টেক এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। সে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার পাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের আদরের সন্তান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টার দিকে অটোরিকশায় করে চিরিংগার দিকে যাচ্ছিল নূর। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। মুহূর্তেই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত সেই দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই নিভে যায় ছোট্ট নূরের প্রাণের প্রদীপ। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে কাভার্ডভ্যানের নিচ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে।

নূরের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। যে শিশুটি সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল, সে আর কখনো বই খুলে বসবে না—এই নির্মম সত্য মানতে পারছেন না কেউই।

নূরের পরিবার ও স্বজনদের একটাই দাবি—এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। যেন আর কোনো নূরের স্বপ্ন এভাবে পথেই থেমে না যায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন: জড়িতদের আটকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

This will close in 6 seconds

আর স্কুলে যাওয়া হবে না ছোট্ট নূরের..

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সকালের সূর্য তখনও পুরোপুরি উঁকি দেয়নি। বইভর্তি ব্যাগ কাঁধে, স্বপ্নভরা দুটি চোখে নতুন দিনের আশায় ঘর থেকে বের হয়েছিল ছোট্ট নওশেদ শরীফ নূর (১০)। প্রতিদিনের মতোই স্কুলে যাওয়ার তাড়া—ক্লাসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, নতুন কিছু শেখা হবে। কিন্তু সেই পথেই থেমে গেল তার জীবনের সব স্বপ্ন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী হিন্দুপাড়ার টেক এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। সে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার পাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের আদরের সন্তান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টার দিকে অটোরিকশায় করে চিরিংগার দিকে যাচ্ছিল নূর। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। মুহূর্তেই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত সেই দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই নিভে যায় ছোট্ট নূরের প্রাণের প্রদীপ। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে কাভার্ডভ্যানের নিচ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে।

নূরের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। যে শিশুটি সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল, সে আর কখনো বই খুলে বসবে না—এই নির্মম সত্য মানতে পারছেন না কেউই।

নূরের পরিবার ও স্বজনদের একটাই দাবি—এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। যেন আর কোনো নূরের স্বপ্ন এভাবে পথেই থেমে না যায়।