ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় হেফজখানার শিক্ষক জাফর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা উখিয়ার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র টেকনাফে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার কক্সবাজার আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা

“আমার বোনের কান্না, আর না-আর না”

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
  • 328

নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল ছিলো কক্সবাজারও। রোববার(৯ মার্চ) দিনভর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও মিছিল এবং সন্ধায় চকরিয়ায় মশাল মিছিল করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

ধর্ষকদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের। এ সময় ‘আমার বোনের কান্না,আর না আর না’,’তুমি কে আমি কে,আছিয়া আছিয়া’,’ধর্ষকের শাস্তি,মৃত্যু মৃত্যু’,’উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে চারপাশ। দাবি উঠে ৪০ দিনের মধ্যেই ধর্ষকদের ফাঁসি নিশ্চিত করার। ধর্ষকদের ঠাঁই এদেশে হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডিভা অর্গানাইজেশনের সংগঠক নওশাবা সিয়াম, ছাত্র প্রতিনিধি নাছিমা আকতার পিংকি, জিনিয়া শারমিন রিয়া,জুনায়েদ হোসাইন,সাগর উল ইসলাম সহ কক্সবাজারের জনসাধারণ।

ধর্ষকের মানসিকতা নিকৃষ্ট ও মস্তিষ্ক বিকৃত উল্লেখ করে ডিভা অর্গানাইজেশনের স্বত্বাধিকারী নওশাভা সিয়াম বলেন,একজন নারী ধর্ষণের শিকার হওয়া মানে পুরো সমাজ কলঙ্কিত হওয়া। তাই ধর্ষকের শাস্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে হতে হবে।

মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ছাত্র প্রতিনিধি জিনিয়া বলেন, কেনো মেয়েদেরকে নারী হিসেবে দেখা হয়? মানুষ হিসেবে দেখা হয় না। একজন ধর্ষক কখনও মানুষ হতে পারে না, কারণ মানুষ কখনও এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে না। এদেশে ধর্ষকের শাস্তি কার্যকর হয় না বলেই ধর্ষণের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবারো জুলাই-আগস্টের মতো অভূত্থান সৃষ্টি করার  হুঁশিয়ারী দিয়ে তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্র কাঠামো ও বিচার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে। ধর্ষণ পরবর্তী ৪০ দিনের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর করা না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামবে ছাত্র জনতা।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে ছাত্র প্রতিনিধি জুনায়েদ বলেন, ধর্ষকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে হবে। যেকোনো দলীয় পরিচয় অথবা চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিৎ।

ছাত্র জনতা হারকিউলিসে পরিণত হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে তনু হত্যার বিচার আমরা পাইনি। ২০২৫ এর নতুন বাংলাদেশে ৪০ দিনের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর করা না হলে ছাত্র জনতা  হারকিউলিসে পরিণত হবে।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগের উপর প্রশ্ন ছুঁড়ে ছাত্র প্রতিনিধি সাগর বলেন, আপনারা যদি আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে গদি ছেড়ে দিন। তবুও আমাদের মা বোনদের সম্মান ও তাদের জীবন নিয়ে খেলা করবেন না।

তিনি আরও বলেন, আমরা ধর্ষকের বাংলাদেশ চাইনি, আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। যে বাংলাদেশে একজন আট বছরের শিশু,একজন গর্ভবতী মহিলা এমনকি একজন বৃদ্ধা ধর্ষণের শিকার হয় সে বাংলাদেশ কখনো নিরাপদ বাংলাদেশ হতে পারে না।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কক্সবাজারের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষীণ করে। মিছিলটি পুনরায় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ

“আমার বোনের কান্না, আর না-আর না”

আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল ছিলো কক্সবাজারও। রোববার(৯ মার্চ) দিনভর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও মিছিল এবং সন্ধায় চকরিয়ায় মশাল মিছিল করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

ধর্ষকদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের। এ সময় ‘আমার বোনের কান্না,আর না আর না’,’তুমি কে আমি কে,আছিয়া আছিয়া’,’ধর্ষকের শাস্তি,মৃত্যু মৃত্যু’,’উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে চারপাশ। দাবি উঠে ৪০ দিনের মধ্যেই ধর্ষকদের ফাঁসি নিশ্চিত করার। ধর্ষকদের ঠাঁই এদেশে হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডিভা অর্গানাইজেশনের সংগঠক নওশাবা সিয়াম, ছাত্র প্রতিনিধি নাছিমা আকতার পিংকি, জিনিয়া শারমিন রিয়া,জুনায়েদ হোসাইন,সাগর উল ইসলাম সহ কক্সবাজারের জনসাধারণ।

ধর্ষকের মানসিকতা নিকৃষ্ট ও মস্তিষ্ক বিকৃত উল্লেখ করে ডিভা অর্গানাইজেশনের স্বত্বাধিকারী নওশাভা সিয়াম বলেন,একজন নারী ধর্ষণের শিকার হওয়া মানে পুরো সমাজ কলঙ্কিত হওয়া। তাই ধর্ষকের শাস্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে হতে হবে।

মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ছাত্র প্রতিনিধি জিনিয়া বলেন, কেনো মেয়েদেরকে নারী হিসেবে দেখা হয়? মানুষ হিসেবে দেখা হয় না। একজন ধর্ষক কখনও মানুষ হতে পারে না, কারণ মানুষ কখনও এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে না। এদেশে ধর্ষকের শাস্তি কার্যকর হয় না বলেই ধর্ষণের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবারো জুলাই-আগস্টের মতো অভূত্থান সৃষ্টি করার  হুঁশিয়ারী দিয়ে তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্র কাঠামো ও বিচার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে। ধর্ষণ পরবর্তী ৪০ দিনের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর করা না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামবে ছাত্র জনতা।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে ছাত্র প্রতিনিধি জুনায়েদ বলেন, ধর্ষকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে হবে। যেকোনো দলীয় পরিচয় অথবা চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিৎ।

ছাত্র জনতা হারকিউলিসে পরিণত হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে তনু হত্যার বিচার আমরা পাইনি। ২০২৫ এর নতুন বাংলাদেশে ৪০ দিনের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর করা না হলে ছাত্র জনতা  হারকিউলিসে পরিণত হবে।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগের উপর প্রশ্ন ছুঁড়ে ছাত্র প্রতিনিধি সাগর বলেন, আপনারা যদি আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে গদি ছেড়ে দিন। তবুও আমাদের মা বোনদের সম্মান ও তাদের জীবন নিয়ে খেলা করবেন না।

তিনি আরও বলেন, আমরা ধর্ষকের বাংলাদেশ চাইনি, আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। যে বাংলাদেশে একজন আট বছরের শিশু,একজন গর্ভবতী মহিলা এমনকি একজন বৃদ্ধা ধর্ষণের শিকার হয় সে বাংলাদেশ কখনো নিরাপদ বাংলাদেশ হতে পারে না।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কক্সবাজারের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষীণ করে। মিছিলটি পুনরায় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।