ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক হলেন সালাহউদ্দিন পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম বড় বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ কয়েক প্রকার মাদক:নেপথ্যে “কিং শির্ষক সংবাদের প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা ছৈয়দুল হক আটক খুনিয়া পালংয়ে ছেলের গুলিতে প্রাণ গেল বাবার কক্সবাজারসহ চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কুতুবদিয়ায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপি নেতা আজিজুরের বিবৃতি” ৫ বছর পলাতক থাকার পর ধরা খেল সাজাপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার রোগীর বেশে ইয়াবা পাচার চেষ্টা, তিন নারী আটক কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার আসামিবাহী সিএনজিকে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, দুই এসআইসহ আহত ৫ বিচারে বৈষম্যের অবসান কবে হবে? প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে ২-১ গোলে হারালো ব্রাজিল রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকর চাই : রামিসার বাবা টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে শামীমকে চায় তৃণমূল

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা ছৈয়দুল হক আটক

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক প্রকাশ লেংগাকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

সে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দার মৃত কবির আহমদের ছেলে।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের
কমুনিয়া এলাকায় তার দ্বিতীয় বাড়িতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে রামু থানা পুলিশ।

জানা যায়, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছৈয়দুল হকের বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। অভিযানের সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় ছৈয়দুল হকের বাড়ি থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক প্রকাশ লেংগাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচার মামলা রয়েছে। এছাড়া নামের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া আরও কিছু মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি হত্যা ও গুমের অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

আটকের পর ছৈয়দুল হককে রামু থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছৈয়দুল হক একজন পঙ্গু ব্যক্তি এবং তার দুই পা নেই। তবে তার জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন।

তার বাড়ির চারপাশে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুধু বাড়ির ভেতরেই নয়, আশপাশের সড়কেও রয়েছে নজরদারি । ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কী কারণে এত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

সম্প্রতি নুরুল আবসার নামের এক ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেছে, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাসে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি বিদেশে নানা দুর্ভোগের শিকার হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছৈয়দুল হকের বাড়িতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা ও এআরও-এর সদস্যদের যাতায়াত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক হলেন সালাহউদ্দিন পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা ছৈয়দুল হক আটক

আপডেট সময় : ০৭:০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক প্রকাশ লেংগাকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

সে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দার মৃত কবির আহমদের ছেলে।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের
কমুনিয়া এলাকায় তার দ্বিতীয় বাড়িতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে রামু থানা পুলিশ।

জানা যায়, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছৈয়দুল হকের বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। অভিযানের সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় ছৈয়দুল হকের বাড়ি থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক প্রকাশ লেংগাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচার মামলা রয়েছে। এছাড়া নামের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া আরও কিছু মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি হত্যা ও গুমের অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

আটকের পর ছৈয়দুল হককে রামু থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছৈয়দুল হক একজন পঙ্গু ব্যক্তি এবং তার দুই পা নেই। তবে তার জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন।

তার বাড়ির চারপাশে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুধু বাড়ির ভেতরেই নয়, আশপাশের সড়কেও রয়েছে নজরদারি । ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কী কারণে এত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

সম্প্রতি নুরুল আবসার নামের এক ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেছে, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাসে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি বিদেশে নানা দুর্ভোগের শিকার হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছৈয়দুল হকের বাড়িতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা ও এআরও-এর সদস্যদের যাতায়াত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।