ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ চায় জাতিসংঘ টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে নির্বাচন: কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার ৪ টি আসনে কেন্দ্র ৫৯৮,কক্ষ ৩,৬৮৯, পোলিং প্রিসাইডিং ১২,২৫১,আইনশৃঙ্খলা সদস্য ১৩,৪৯৯ চকরিয়া-পেকুয়া : অভিজ্ঞের সাথে নতুনের লড়াই কক্সবাজারের ডিককুলে যৌথবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক ১ বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন মেনে নেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রার্থীর পক্ষ নেওয়া চার ‘আলোচিত’ নামে তোলপাড় ভোটের সমীকরণ! ​নির্বাচনী নিরাপত্তায় ঈদগাঁওতে যৌথ টহল নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থান-নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান
নিরবেই কেটে গেল ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী

আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর বাইশতম মৃত্যুবার্ষিকী। এখন থেকে ২১ বছর আগে ক্ষণজন্মা এই মানুষটি পৃথিবীর মায়া ছেড়েছিলেন। তিনি তাঁর কর্ম, অবদান ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে কক্সবাজার জেলার মানুষ, বিশেষ করে জাতীয়বাদী আদর্শের মানুষদের ঋণী করে গেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী আর সাধারণ মানুষের কাছের একজন। তিনি আর কেউ নন। এই জনপদের জনপ্রিয় মুখ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের টানা পাঁচবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী।

দেশে জাতীয়বাদী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছের এই মানুষটির মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নিভৃতেই কেটে গেছে। পারিবারিক ভাবে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে তাঁর পৃথিবী থেকে বিদায়ের স্মরণ করা হয়। পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপি আলোচনা সভার আয়োজন করলেও জেলা ও উখিয়া উপজেলা বিএনপির তেমন কোন কর্মসূচি ছিল না। যদিও এই মানুষটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে কক্সবাজারের বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন।

কেমন ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী
কক্সবাজার জেলা বিএনপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, পাঁচবার নির্বাচিত পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং অসংখ্য শিক্ষা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক মরহুম আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন এমনই এক জননেতা। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না; বরং ছিলেন উন্নয়ন, শিক্ষা, গণসচেতনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের সূচনা ও উত্থান
শৈশব থেকেই জনকল্যাণে আগ্রহী অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতির ভিত্তি গড়ে তোলেন। তিনি সততা, দৃঢ়তা এবং জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে দ্রুতই দলের ভেতরে এবং বাইরেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি থেকে কক্সবাজার জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলকে সুসংগঠিত করেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে কাজ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন- রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতায় আসা নয়, বরং জনগণের সেবা করা। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।

পাঁচবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান
একজন জননেতার প্রকৃত জনপ্রিয়তা নিরূপণ করা যায় তাঁর নির্বাচনী যাত্রা থেকে। অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী টানা পাঁচবার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছেন যে তিনি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা দখল করেছিলেন।

চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গ্রামীণ উন্নয়নের সবক্ষেত্রেই অবদান রেখেছেন। অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, গ্রামীণ বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, সেচ ও কৃষি উন্নয়ন এবং চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধিতে তাঁর উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। তাঁর নেতৃত্বে পালংখালী ইউনিয়ন ধীরে ধীরে আধুনিকায়নের পথে অগ্রসর হয়।

শিক্ষা খাতে অসাধারণ অবদান
শিক্ষা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত অগ্রসরমান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন একটি সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে প্রথমেই শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। এ কারণে তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠপোষক ও দাতা হিসেবে কাজ করেছেন।

তিনি নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়ন করেন এবং দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা দিয়েছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গ্রামের অগণিত ছেলে-মেয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে, যাদের অনেকেই আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পে মূল ভূমিকা
কেবল ইউনিয়ন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী। কক্সবাজার জেলার সামগ্রিক উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ, বাজার ও হাট-বাজারের আধুনিকীকরণসহ নানাবিধ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, যা আজও এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে তিনি কখনোই আপস করেননি।

একজন মানবিক নেতা
রাজনীতিক হিসেবে তিনি যতটা শক্তিশালী ছিলেন, মানুষ হিসেবে ছিলেন ততটাই নম্র ও মানবিক। দুঃখী, গরিব, অসহায় মানুষের পাশে তিনি ছিলেন ছায়ার মতো। কেউ অসুস্থ হলে তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন, কারও ঘর ভেঙে গেলে পুননির্মাণে সাহায্য করতেন, আবার কারও সন্তান পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলে তাঁর খরচও বহন করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণের ভালোবাসা অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায় হলো জনগণের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গী হওয়া। তাঁর এই মানবিকতা তাঁকে করে তুলেছিল সত্যিকার অর্থেই জনগণের নেতা।

দলীয় নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা ও সাহস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য তিনি ছিলেন এক স্তম্ভ। দল যখন সংকটে পড়েছে, তখন তাঁর কৌশলী নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকা দলীয় কর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে। তাঁর বক্তৃতা ও দিকনির্দেশনা আজও বহু নেতাকর্মীর মনে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

জীবনের আদর্শ
অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিকও। তিনি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন, যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করেছেন এবং যে মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন- সবকিছুই আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর সন্তানরা, রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা এবং এলাকার মানুষ তাঁর স্বপ্ন পূরণের জন্য আজও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর জীবনের আদর্শ- সততা, সাহস এবং জনগণের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা —চিরকালই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

This will close in 6 seconds

নিরবেই কেটে গেল ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী

আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

আপডেট সময় : ১১:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর বাইশতম মৃত্যুবার্ষিকী। এখন থেকে ২১ বছর আগে ক্ষণজন্মা এই মানুষটি পৃথিবীর মায়া ছেড়েছিলেন। তিনি তাঁর কর্ম, অবদান ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে কক্সবাজার জেলার মানুষ, বিশেষ করে জাতীয়বাদী আদর্শের মানুষদের ঋণী করে গেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী আর সাধারণ মানুষের কাছের একজন। তিনি আর কেউ নন। এই জনপদের জনপ্রিয় মুখ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের টানা পাঁচবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী।

দেশে জাতীয়বাদী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছের এই মানুষটির মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নিভৃতেই কেটে গেছে। পারিবারিক ভাবে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে তাঁর পৃথিবী থেকে বিদায়ের স্মরণ করা হয়। পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপি আলোচনা সভার আয়োজন করলেও জেলা ও উখিয়া উপজেলা বিএনপির তেমন কোন কর্মসূচি ছিল না। যদিও এই মানুষটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে কক্সবাজারের বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন।

কেমন ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী
কক্সবাজার জেলা বিএনপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, পাঁচবার নির্বাচিত পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং অসংখ্য শিক্ষা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক মরহুম আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন এমনই এক জননেতা। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না; বরং ছিলেন উন্নয়ন, শিক্ষা, গণসচেতনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের সূচনা ও উত্থান
শৈশব থেকেই জনকল্যাণে আগ্রহী অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতির ভিত্তি গড়ে তোলেন। তিনি সততা, দৃঢ়তা এবং জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে দ্রুতই দলের ভেতরে এবং বাইরেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি থেকে কক্সবাজার জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলকে সুসংগঠিত করেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে কাজ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন- রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতায় আসা নয়, বরং জনগণের সেবা করা। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।

পাঁচবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান
একজন জননেতার প্রকৃত জনপ্রিয়তা নিরূপণ করা যায় তাঁর নির্বাচনী যাত্রা থেকে। অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী টানা পাঁচবার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছেন যে তিনি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা দখল করেছিলেন।

চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গ্রামীণ উন্নয়নের সবক্ষেত্রেই অবদান রেখেছেন। অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, গ্রামীণ বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, সেচ ও কৃষি উন্নয়ন এবং চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধিতে তাঁর উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। তাঁর নেতৃত্বে পালংখালী ইউনিয়ন ধীরে ধীরে আধুনিকায়নের পথে অগ্রসর হয়।

শিক্ষা খাতে অসাধারণ অবদান
শিক্ষা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত অগ্রসরমান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন একটি সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে প্রথমেই শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। এ কারণে তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠপোষক ও দাতা হিসেবে কাজ করেছেন।

তিনি নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়ন করেন এবং দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা দিয়েছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গ্রামের অগণিত ছেলে-মেয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে, যাদের অনেকেই আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পে মূল ভূমিকা
কেবল ইউনিয়ন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী। কক্সবাজার জেলার সামগ্রিক উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ, বাজার ও হাট-বাজারের আধুনিকীকরণসহ নানাবিধ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, যা আজও এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে তিনি কখনোই আপস করেননি।

একজন মানবিক নেতা
রাজনীতিক হিসেবে তিনি যতটা শক্তিশালী ছিলেন, মানুষ হিসেবে ছিলেন ততটাই নম্র ও মানবিক। দুঃখী, গরিব, অসহায় মানুষের পাশে তিনি ছিলেন ছায়ার মতো। কেউ অসুস্থ হলে তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন, কারও ঘর ভেঙে গেলে পুননির্মাণে সাহায্য করতেন, আবার কারও সন্তান পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলে তাঁর খরচও বহন করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণের ভালোবাসা অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায় হলো জনগণের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গী হওয়া। তাঁর এই মানবিকতা তাঁকে করে তুলেছিল সত্যিকার অর্থেই জনগণের নেতা।

দলীয় নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা ও সাহস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য তিনি ছিলেন এক স্তম্ভ। দল যখন সংকটে পড়েছে, তখন তাঁর কৌশলী নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকা দলীয় কর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে। তাঁর বক্তৃতা ও দিকনির্দেশনা আজও বহু নেতাকর্মীর মনে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

জীবনের আদর্শ
অনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিকও। তিনি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন, যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করেছেন এবং যে মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন- সবকিছুই আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর সন্তানরা, রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা এবং এলাকার মানুষ তাঁর স্বপ্ন পূরণের জন্য আজও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর জীবনের আদর্শ- সততা, সাহস এবং জনগণের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা —চিরকালই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।