ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক উচ্ছ্বাস বড়ুয়াকে হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুবকের আত্মহত্যা টেকনাফে মিনি ট্রাকের চাপায় পথচারী নিহত কক্সবাজারের আলোচিত যুবলীগ নেতা মোনাফ সিকদার জামিনে মুক্ত সুবর্নচর উপজেলা সমিতি চট্টগ্রামের নতুন কমিটি: নয়ন সভাপতি, সোহরাব সম্পাদক রামুতে মাইক্রোবাস–সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত মৃতপ্রায় ৫২ খালে ফিরবে প্রাণ, কমবে জলাবদ্ধতা ভ্যানেটি ব্যাগে ১ হাজার ইয়াবা, নারী আটক কক্সবাজারে তাপমাত্রা কমেছে, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস মানবপাচার চক্রের আস্তানা থেকে ৫৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, গ্রেফতার ৩ সিটের নিচে ৩৪ হাজার ইয়াবা, পাচারকারী ও চালক আটক পেকুয়া উপজেলার দুই যুগ পূর্তি আজ,সালাহউদ্দিন আহমদের অবদানকে স্মরণ করছে স্থানীয়রা টেকনাফে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইয়াবা জব্দ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে ছরওয়ার, জনমনে উদ্বেগ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কক্সবাজারের ১৭৩ আইনজীবীর জাতিসংঘে আবেদন 

আট হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ক্যান্সার রোগীর সফল অপারেশন করলেন চীনা সার্জন!

বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে রীতিমতো এক বিপ্লব ঘটে গেল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনের একজন চিকিৎসক ইউরোপের রোম শহর থেকে বসে সফলভাবে অপারেশন করলেন ৮,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর। এই অভাবনীয় ঘটনা বাস্তবে রূপ দিলেন চীনা প্রখ্যাত সার্জন ড. ঝাং জু (Zhang Xu)। তিনি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) জেনারেল হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের পরিচালক এবং চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের একজন সম্মানিত সদস্য।

ঘটনার দিন, ড. ঝাং রোমে একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল কনফারেন্সে অংশ নিচ্ছিলেন। সেই সময়ই তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থানরত এক প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীর উপর রিমোট রোবোটিক সার্জারি করেন। এই অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয় একটি অত্যাধুনিক ৫জি এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে। সার্জনের কনসোল ও বেইজিংয়ে থাকা সার্জিক্যাল রোবটের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়, যা সার্জনের প্রতিটি হাতের নড়াচড়াকে প্রায় রিয়েল-টাইমে (মাত্র ১৩৫ মিলিসেকেন্ড বিলম্ব) অনুকরণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১৩৫ মিলিসেকেন্ড লেটেন্সি এতটাই কম যে এটি মানুষের চোখের পলকের চেয়েও দ্রুত। সাধারণত ২০০ মিলিসেকেন্ডের নিচে লেটেন্সি হলে সেটিকে নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। অপারেশনটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের সামনে। তাদের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন এমন একটি অসম্ভবকে সম্ভব করার ঘটনায়।

ড. ঝাং তার দলকে নিয়ে এই সাহসী পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা কেবল শহরের সীমায় আবদ্ধ নয়। এই উদ্যোগ যুদ্ধক্ষেত্র, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার ভাষায়— “একজন দক্ষ চিকিৎসকের হাত যদি বিশ্বমানের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সীমান্ত আর কোনো বাধা নয়। সেবা পৌঁছে যাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে।”

ইতোমধ্যে এই ঘটনার ভিডিও ও প্রতিবেদন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিষয়ক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কৃতিত্বকে “মেডিক্যাল টেলিপ্রেজেন্স”-এর ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোম থেকে বেইজিংয়ের এই সফল অপারেশন কেবল একটি চিকিৎসা নয়—এটি ভবিষ্যতের এক নিখুঁত বার্তা। উন্নত প্রযুক্তি ও মানবিক দক্ষতার সমন্বয়ে হয়তো একদিন চিকিৎসা হবে পুরোপুরি সীমাহীন। আর সেই পথেই আজ প্রথম পদক্ষেপ ফেললো মানব সভ্যতা।

সূত্র: SCMP, CGTN, TechTimes, Project Nightfall

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আট হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ক্যান্সার রোগীর সফল অপারেশন করলেন চীনা সার্জন!

আপডেট সময় : ০২:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫

বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে রীতিমতো এক বিপ্লব ঘটে গেল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনের একজন চিকিৎসক ইউরোপের রোম শহর থেকে বসে সফলভাবে অপারেশন করলেন ৮,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর। এই অভাবনীয় ঘটনা বাস্তবে রূপ দিলেন চীনা প্রখ্যাত সার্জন ড. ঝাং জু (Zhang Xu)। তিনি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) জেনারেল হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের পরিচালক এবং চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের একজন সম্মানিত সদস্য।

ঘটনার দিন, ড. ঝাং রোমে একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল কনফারেন্সে অংশ নিচ্ছিলেন। সেই সময়ই তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থানরত এক প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীর উপর রিমোট রোবোটিক সার্জারি করেন। এই অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয় একটি অত্যাধুনিক ৫জি এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে। সার্জনের কনসোল ও বেইজিংয়ে থাকা সার্জিক্যাল রোবটের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়, যা সার্জনের প্রতিটি হাতের নড়াচড়াকে প্রায় রিয়েল-টাইমে (মাত্র ১৩৫ মিলিসেকেন্ড বিলম্ব) অনুকরণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১৩৫ মিলিসেকেন্ড লেটেন্সি এতটাই কম যে এটি মানুষের চোখের পলকের চেয়েও দ্রুত। সাধারণত ২০০ মিলিসেকেন্ডের নিচে লেটেন্সি হলে সেটিকে নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। অপারেশনটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের সামনে। তাদের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন এমন একটি অসম্ভবকে সম্ভব করার ঘটনায়।

ড. ঝাং তার দলকে নিয়ে এই সাহসী পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা কেবল শহরের সীমায় আবদ্ধ নয়। এই উদ্যোগ যুদ্ধক্ষেত্র, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার ভাষায়— “একজন দক্ষ চিকিৎসকের হাত যদি বিশ্বমানের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সীমান্ত আর কোনো বাধা নয়। সেবা পৌঁছে যাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে।”

ইতোমধ্যে এই ঘটনার ভিডিও ও প্রতিবেদন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিষয়ক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কৃতিত্বকে “মেডিক্যাল টেলিপ্রেজেন্স”-এর ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোম থেকে বেইজিংয়ের এই সফল অপারেশন কেবল একটি চিকিৎসা নয়—এটি ভবিষ্যতের এক নিখুঁত বার্তা। উন্নত প্রযুক্তি ও মানবিক দক্ষতার সমন্বয়ে হয়তো একদিন চিকিৎসা হবে পুরোপুরি সীমাহীন। আর সেই পথেই আজ প্রথম পদক্ষেপ ফেললো মানব সভ্যতা।

সূত্র: SCMP, CGTN, TechTimes, Project Nightfall