ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর চকরিয়ার কৈয়ারবিলের সেই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার সেমিফাইনালের পরিসংখ্যানে বিস্ময়! আর্জেন্টিনার ৭ বিভাগেই এক নাম—মেসি রামুর কচ্ছপিয়ায় স্রোতে ভেসে গিয়ে একজনের প্রাণহানি দুর্গতদের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সরাকরি সহায়তা থেকে দূর্গত কোনো মানুষ বাদ পড়বেনা- চকরিয়ায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জননেতা নুরুল আবছারের ওপেন হার্ট সার্জারি সোমবার : দোয়া কামনা পেকুয়ায় চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের উদ্যোগে চলছে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ হাতকড়াসহ পালিয়েছে আসামি: ২১ ঘন্টায়ও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ জুড বেলিংহাম: জিদানের পর এমন বিশ্বকাপ কি আর কোনো মিডফিল্ডার খেলেছেন? প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী মুজিববর্ষ উদযাপনে খরচ ৯৮৩ কোটি টাকা : সংসদে অর্থমন্ত্রী সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক  ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জুলাইয়ের আগে যা দেখেছিলাম জুলাইয়ের পরেও তা দেখি: সারজিস
নগরায়নে হারিয়েছে ঢেকি

আজ পৌষ সংক্রান্তি

আজ পৌষ সংক্রান্তি। ঘরে ঘরে পিঠে—পুলির উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয়। যে কোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। আত্মীয়—পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে ওঠে পিঠে, পুলি, পায়েসের কথা। সেদ্ধ পুলি, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরণের মালপোয়া, ভাপাপিঠা, দুধপুলি… সহ বাহারি পিঠে—পুলির সম্ভার।

ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির সকালে স্নান শেষে মেরামেড়ির ঘরে আগুন দিয়ে হাত পা গরম করার ছবি। মেরামেরির অস্থায়ী এই ঘরটি তৈরি করা হয় পৌষ সংক্রান্তির রাতে। তারপর সেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি মেরামেরির ঘরটির মাঝে ছোট—বড়রা মিলেমিশে গান—বাজনা আমোদপ্রমোদ করতে থাকে। থাকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। এছাড়াও সংক্রান্তির ঘরে ঘরে তিল—কদমায়, পিঠা—পায়েসে ঠাকুর সেবা সহ আরও নানা আয়োজন হয়ে থাকে পৌষ সংক্রান্তিতে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ সংক্রান্তি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ জানুয়ারির আশেপাশে পৌষ বা মকর সংক্রান্তি পড়ে। কিন্তু এক হাজার বছর আগে মকর সংক্রান্তি হত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ, আবার এক হাজার বছর পরে সেটি ফেব্রুয়ারিতে সরে যাবে। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়। এই বিশেষ দিনটি নানা রকম নিয়মকানুন, অনুষ্ঠান ও আনন্দের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় প্রাচীনকাল থেকেই। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার—পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পৌষ সংক্রান্তির উৎসাহ আগের মতো ততটা নেই যতটা আছে নিয়মরক্ষার তাগিদ। নমো নমো করেই হচ্ছে সবকিছু। তবে এখনও শহরে অনেকে আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। সংক্রান্তির আগে গাইলে ও ঢেকিতে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়।

মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা—ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয়।সংক্রান্তি অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যে্যর এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়। সংক্রান্তি শব্দটি বিশ্লেষণ করলেও একই অর্থ পাওয়া যায়। সংক্রান্তি, সং অর্থ সঙ সাজা এবং ক্রান্তি অর্থ সংক্রমণ। অর্থাৎ, ভিন্ন রূপে সেজে অন্যত্র সংক্রমিত হওয়া বা নতুন সাজে, নতুন রূপে অন্যত্র সঞ্চার হওয়া বা গমন করাকে বোঝায়। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নগরায়নে হারিয়েছে ঢেকি

আজ পৌষ সংক্রান্তি

আপডেট সময় : ১১:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

আজ পৌষ সংক্রান্তি। ঘরে ঘরে পিঠে—পুলির উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয়। যে কোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। আত্মীয়—পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে ওঠে পিঠে, পুলি, পায়েসের কথা। সেদ্ধ পুলি, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরণের মালপোয়া, ভাপাপিঠা, দুধপুলি… সহ বাহারি পিঠে—পুলির সম্ভার।

ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির সকালে স্নান শেষে মেরামেড়ির ঘরে আগুন দিয়ে হাত পা গরম করার ছবি। মেরামেরির অস্থায়ী এই ঘরটি তৈরি করা হয় পৌষ সংক্রান্তির রাতে। তারপর সেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি মেরামেরির ঘরটির মাঝে ছোট—বড়রা মিলেমিশে গান—বাজনা আমোদপ্রমোদ করতে থাকে। থাকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। এছাড়াও সংক্রান্তির ঘরে ঘরে তিল—কদমায়, পিঠা—পায়েসে ঠাকুর সেবা সহ আরও নানা আয়োজন হয়ে থাকে পৌষ সংক্রান্তিতে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ সংক্রান্তি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ জানুয়ারির আশেপাশে পৌষ বা মকর সংক্রান্তি পড়ে। কিন্তু এক হাজার বছর আগে মকর সংক্রান্তি হত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ, আবার এক হাজার বছর পরে সেটি ফেব্রুয়ারিতে সরে যাবে। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়। এই বিশেষ দিনটি নানা রকম নিয়মকানুন, অনুষ্ঠান ও আনন্দের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় প্রাচীনকাল থেকেই। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার—পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পৌষ সংক্রান্তির উৎসাহ আগের মতো ততটা নেই যতটা আছে নিয়মরক্ষার তাগিদ। নমো নমো করেই হচ্ছে সবকিছু। তবে এখনও শহরে অনেকে আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। সংক্রান্তির আগে গাইলে ও ঢেকিতে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়।

মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা—ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয়।সংক্রান্তি অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যে্যর এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়। সংক্রান্তি শব্দটি বিশ্লেষণ করলেও একই অর্থ পাওয়া যায়। সংক্রান্তি, সং অর্থ সঙ সাজা এবং ক্রান্তি অর্থ সংক্রমণ। অর্থাৎ, ভিন্ন রূপে সেজে অন্যত্র সংক্রমিত হওয়া বা নতুন সাজে, নতুন রূপে অন্যত্র সঞ্চার হওয়া বা গমন করাকে বোঝায়। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি।