ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক,গরু চোরাচালান ও আইন বিরোধী কাজ করলে দল তার দায়িত্ব নেবে না- রামুতে এমপি কাজল সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ জাতীয় পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সেরা কক্সবাজারের মুশফিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের দখলে কক্সবাজার সৈকত, বালিয়াড়িতে ৪ শতাধিক অবৈধ দোকান জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়: মির্জা ফখরুল টেকনাফে মাদক মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কুতুবদিয়ায় ‘দ্বীপবর্তিকা’র উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার ও আইকিউ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি নেইমারকে ছাড়াই পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ ঘোষণা হিজাব পরায় তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী দিল্লিতে বহুতল ভবন ধস, নিহত অন্তত ৯ দেশজুড়ে আরও বাড়বে গরম, চট্টগ্রামসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন নৌকার সমর্থক , উখিয়ার কৃষকদল আহবায়ক দিলেন সাংবাদিকদের হুমকি!

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি আমাদের প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের প্রত্যাশা- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের প্রতিজ্ঞা ও জনগণের প্রত্যাশা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অস্ত্রধারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভ্রমণ তালিকায় শীর্ষে থাকা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে আরও পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে উখিয়া–টেকনাফ অঞ্চলের মাদক রুট বন্ধ করা জরুরি। তিনি বলেন, “মাদকের প্রসার, প্রচার ও বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি জানান, অনলাইন জুয়া বন্ধের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে আরও জনবল দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অটোরিকশা বা টমটমের সংখ্যা আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে নতুন কোনো যানবাহনের অনুমতি দেওয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না এবং ধীরে ধীরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।

সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর পাহাড় এলাকায় বর্তমানে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চলছে। “কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের প্রত্যাশা।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। “মব সংস্কৃতি বাংলাদেশে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বলেন, “অপরাধীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

সভায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার–৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, মাদক প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কক্সবাজারে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক,গরু চোরাচালান ও আইন বিরোধী কাজ করলে দল তার দায়িত্ব নেবে না- রামুতে এমপি কাজল

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি আমাদের প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের প্রত্যাশা- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের প্রতিজ্ঞা ও জনগণের প্রত্যাশা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অস্ত্রধারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভ্রমণ তালিকায় শীর্ষে থাকা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে আরও পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে উখিয়া–টেকনাফ অঞ্চলের মাদক রুট বন্ধ করা জরুরি। তিনি বলেন, “মাদকের প্রসার, প্রচার ও বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি জানান, অনলাইন জুয়া বন্ধের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে আরও জনবল দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অটোরিকশা বা টমটমের সংখ্যা আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে নতুন কোনো যানবাহনের অনুমতি দেওয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না এবং ধীরে ধীরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।

সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর পাহাড় এলাকায় বর্তমানে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চলছে। “কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের প্রত্যাশা।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। “মব সংস্কৃতি বাংলাদেশে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বলেন, “অপরাধীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

সভায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার–৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, মাদক প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কক্সবাজারে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।