ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই? শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪ হোটেল সী-হার্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন পেকুয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে শৈত্য প্রবাহ হয়নি!

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • 1575

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের দাপট বাড়লে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও কক্সবাজারে সেই চিত্র কখনোই দেখা যায় না। শীত অনুভূত হলেও এই সমুদ্র উপকূলীয় জেলায় আজ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ হয়নি—এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে কখনো শৈত্যপ্রবাহ রেকর্ড হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৭৫ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণেও শৈত্যপ্রবাহের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ

কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০১৩ সালে ১১ জানুয়ারী, যা ১৯৫০ সালের পর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে এখনো বহাল রয়েছে।তবে এর আগে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির চেয়ে কমেছে কিনা এমন তথ্য নথিবদ্ধ নেই হাওয়া দপ্তরে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলছেন, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ নিয়মিত হলেও উপকূলীয় এই জেলায় এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি।শীতের মৌসুমেও তুলনামূলক উষ্ণ থাকে কক্সবাজারের প্রকৃতি।তবে শৈত্যপ্রবাহ না হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরেছেন এই আবহাওয়াবিদ।

ভৌগোলিক অবস্থান

কক্সবাজার বাংলাদেশেরল দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল শীতকালে তাপ সংরক্ষণ করে। ফলে সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং স্থলভাগের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক নিচে নামতে পারে না।স্থলভাগের তাপমাত্রা দ্রুত কমে বা বাড়ে, কিন্তু সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ধীরে পরিবর্তিত হয়।

এই কারণে শীতকালে সমুদ্র আশপাশের এলাকায় একটি প্রাকৃতিক তাপ-ঢাল (thermal buffer) হিসেবে কাজ করে। এতে কক্সবাজারে তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না।শৈত্যপ্রবাহ মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। এই শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতে হতে কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র ও উষ্ণ বাতাসের সঙ্গে মিশে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো তীব্রতা বজায় থাকে না।

বঙ্গোপসাগরীয় প্রভাব

কক্সবাজার সরাসরি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় সমুদ্রের উষ্ণতা শীতকালে প্রাকৃতিক তাপ-নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। সমুদ্রের পানি সহজে ঠান্ডা না হওয়ায় আশপাশের বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না। এছাড়া শীতকালে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে যে শুষ্ক ও হিমেল বাতাস প্রবাহিত হয়, তা কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র বাতাসের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। এই আর্দ্রতা রাতের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত নামতে দেয় না। পাশাপাশি পূর্বের পাহাড় ও পশ্চিমের সমুদ্র মিলিয়ে জেলার বিশেষ ভৌগোলিক বিন্যাসও শীতের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও বিশ্লেষণে স্পষ্ট—শীতের অনুভূতি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের প্রভাব এবং আর্দ্র বাতাসের কারণে কক্সবাজারে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক

১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে শৈত্য প্রবাহ হয়নি!

আপডেট সময় : ০৬:৩১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের দাপট বাড়লে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও কক্সবাজারে সেই চিত্র কখনোই দেখা যায় না। শীত অনুভূত হলেও এই সমুদ্র উপকূলীয় জেলায় আজ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ হয়নি—এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে কখনো শৈত্যপ্রবাহ রেকর্ড হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৭৫ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণেও শৈত্যপ্রবাহের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ

কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০১৩ সালে ১১ জানুয়ারী, যা ১৯৫০ সালের পর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে এখনো বহাল রয়েছে।তবে এর আগে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির চেয়ে কমেছে কিনা এমন তথ্য নথিবদ্ধ নেই হাওয়া দপ্তরে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলছেন, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ নিয়মিত হলেও উপকূলীয় এই জেলায় এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি।শীতের মৌসুমেও তুলনামূলক উষ্ণ থাকে কক্সবাজারের প্রকৃতি।তবে শৈত্যপ্রবাহ না হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরেছেন এই আবহাওয়াবিদ।

ভৌগোলিক অবস্থান

কক্সবাজার বাংলাদেশেরল দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল শীতকালে তাপ সংরক্ষণ করে। ফলে সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং স্থলভাগের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক নিচে নামতে পারে না।স্থলভাগের তাপমাত্রা দ্রুত কমে বা বাড়ে, কিন্তু সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ধীরে পরিবর্তিত হয়।

এই কারণে শীতকালে সমুদ্র আশপাশের এলাকায় একটি প্রাকৃতিক তাপ-ঢাল (thermal buffer) হিসেবে কাজ করে। এতে কক্সবাজারে তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না।শৈত্যপ্রবাহ মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। এই শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতে হতে কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র ও উষ্ণ বাতাসের সঙ্গে মিশে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো তীব্রতা বজায় থাকে না।

বঙ্গোপসাগরীয় প্রভাব

কক্সবাজার সরাসরি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় সমুদ্রের উষ্ণতা শীতকালে প্রাকৃতিক তাপ-নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। সমুদ্রের পানি সহজে ঠান্ডা না হওয়ায় আশপাশের বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না। এছাড়া শীতকালে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে যে শুষ্ক ও হিমেল বাতাস প্রবাহিত হয়, তা কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র বাতাসের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। এই আর্দ্রতা রাতের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত নামতে দেয় না। পাশাপাশি পূর্বের পাহাড় ও পশ্চিমের সমুদ্র মিলিয়ে জেলার বিশেষ ভৌগোলিক বিন্যাসও শীতের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও বিশ্লেষণে স্পষ্ট—শীতের অনুভূতি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের প্রভাব এবং আর্দ্র বাতাসের কারণে কক্সবাজারে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না।