ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘ কেন অপ্রয়োজনীয়? কক্সবাজারে ঠিকাদারকে ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর’ অভিযোগ, এসপির কাছে স্ত্রীর আবেদন মহেশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনা: যুবক নিহত খুনিয়াপালংয়ে বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কায় দুই শিশুর মৃত্যু! উখিয়া কোর্টবাজারে র‌্যাব ও ভোক্তা অধিকারের যৌথ অভিযান: ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা জেলা সংগীত শিল্পী পরিষদের ইফতার সম্পন্ন অধিধ্বনির উদ্যোগে শিশুদের নাট্য কর্মশালা ‘অভিনয়ের হাতেখড়ি’র উদ্বোধন নিজেকে নির্দোষ দাবি টেকনাফের ফরিদের: র‍্যাব বলছে ১৭ মামলার পলাতক আসামী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ বাস্তবায়নে সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু জেলা প্রশাসনের অপহরণের দুই দিন পর কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে: সংসদে রাষ্ট্রপতি সংসদে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন, নেতৃত্বে যারা রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন : জামায়াত আমির ইরানি ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিধ্বস্ত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের প্রতিবাদ-ওয়াক আউট

১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে শৈত্য প্রবাহ হয়নি!

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • 1526

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের দাপট বাড়লে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও কক্সবাজারে সেই চিত্র কখনোই দেখা যায় না। শীত অনুভূত হলেও এই সমুদ্র উপকূলীয় জেলায় আজ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ হয়নি—এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে কখনো শৈত্যপ্রবাহ রেকর্ড হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৭৫ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণেও শৈত্যপ্রবাহের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ

কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০১৩ সালে ১১ জানুয়ারী, যা ১৯৫০ সালের পর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে এখনো বহাল রয়েছে।তবে এর আগে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির চেয়ে কমেছে কিনা এমন তথ্য নথিবদ্ধ নেই হাওয়া দপ্তরে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলছেন, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ নিয়মিত হলেও উপকূলীয় এই জেলায় এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি।শীতের মৌসুমেও তুলনামূলক উষ্ণ থাকে কক্সবাজারের প্রকৃতি।তবে শৈত্যপ্রবাহ না হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরেছেন এই আবহাওয়াবিদ।

ভৌগোলিক অবস্থান

কক্সবাজার বাংলাদেশেরল দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল শীতকালে তাপ সংরক্ষণ করে। ফলে সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং স্থলভাগের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক নিচে নামতে পারে না।স্থলভাগের তাপমাত্রা দ্রুত কমে বা বাড়ে, কিন্তু সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ধীরে পরিবর্তিত হয়।

এই কারণে শীতকালে সমুদ্র আশপাশের এলাকায় একটি প্রাকৃতিক তাপ-ঢাল (thermal buffer) হিসেবে কাজ করে। এতে কক্সবাজারে তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না।শৈত্যপ্রবাহ মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। এই শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতে হতে কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র ও উষ্ণ বাতাসের সঙ্গে মিশে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো তীব্রতা বজায় থাকে না।

বঙ্গোপসাগরীয় প্রভাব

কক্সবাজার সরাসরি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় সমুদ্রের উষ্ণতা শীতকালে প্রাকৃতিক তাপ-নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। সমুদ্রের পানি সহজে ঠান্ডা না হওয়ায় আশপাশের বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না। এছাড়া শীতকালে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে যে শুষ্ক ও হিমেল বাতাস প্রবাহিত হয়, তা কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র বাতাসের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। এই আর্দ্রতা রাতের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত নামতে দেয় না। পাশাপাশি পূর্বের পাহাড় ও পশ্চিমের সমুদ্র মিলিয়ে জেলার বিশেষ ভৌগোলিক বিন্যাসও শীতের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও বিশ্লেষণে স্পষ্ট—শীতের অনুভূতি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের প্রভাব এবং আর্দ্র বাতাসের কারণে কক্সবাজারে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না।

ট্যাগ :

জাতিসংঘ কেন অপ্রয়োজনীয়?

১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে শৈত্য প্রবাহ হয়নি!

আপডেট সময় : ০৬:৩১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের দাপট বাড়লে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও কক্সবাজারে সেই চিত্র কখনোই দেখা যায় না। শীত অনুভূত হলেও এই সমুদ্র উপকূলীয় জেলায় আজ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ হয়নি—এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে কখনো শৈত্যপ্রবাহ রেকর্ড হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৭৫ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণেও শৈত্যপ্রবাহের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ

কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০১৩ সালে ১১ জানুয়ারী, যা ১৯৫০ সালের পর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে এখনো বহাল রয়েছে।তবে এর আগে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির চেয়ে কমেছে কিনা এমন তথ্য নথিবদ্ধ নেই হাওয়া দপ্তরে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলছেন, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ নিয়মিত হলেও উপকূলীয় এই জেলায় এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি।শীতের মৌসুমেও তুলনামূলক উষ্ণ থাকে কক্সবাজারের প্রকৃতি।তবে শৈত্যপ্রবাহ না হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরেছেন এই আবহাওয়াবিদ।

ভৌগোলিক অবস্থান

কক্সবাজার বাংলাদেশেরল দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল শীতকালে তাপ সংরক্ষণ করে। ফলে সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং স্থলভাগের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক নিচে নামতে পারে না।স্থলভাগের তাপমাত্রা দ্রুত কমে বা বাড়ে, কিন্তু সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ধীরে পরিবর্তিত হয়।

এই কারণে শীতকালে সমুদ্র আশপাশের এলাকায় একটি প্রাকৃতিক তাপ-ঢাল (thermal buffer) হিসেবে কাজ করে। এতে কক্সবাজারে তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না।শৈত্যপ্রবাহ মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। এই শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতে হতে কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র ও উষ্ণ বাতাসের সঙ্গে মিশে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো তীব্রতা বজায় থাকে না।

বঙ্গোপসাগরীয় প্রভাব

কক্সবাজার সরাসরি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় সমুদ্রের উষ্ণতা শীতকালে প্রাকৃতিক তাপ-নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। সমুদ্রের পানি সহজে ঠান্ডা না হওয়ায় আশপাশের বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না। এছাড়া শীতকালে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে যে শুষ্ক ও হিমেল বাতাস প্রবাহিত হয়, তা কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র বাতাসের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। এই আর্দ্রতা রাতের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত নামতে দেয় না। পাশাপাশি পূর্বের পাহাড় ও পশ্চিমের সমুদ্র মিলিয়ে জেলার বিশেষ ভৌগোলিক বিন্যাসও শীতের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও বিশ্লেষণে স্পষ্ট—শীতের অনুভূতি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের প্রভাব এবং আর্দ্র বাতাসের কারণে কক্সবাজারে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না।