ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার নাম করে আনছিলো ইয়াবা : আটক  যুবদল নেতা, দল থেকে বহিস্কার কক্সবাজারে দুইশ কিলোমিটার ড্রাইভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ১৫ বছর পরও স্মৃতিতে অমলিন নেতা শাহ আলম সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে- এমপি কাজল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার আত্মসমর্পণ করতে আদালতে আসছেন এমপি আমির হামজা একই পরিবারের ৪ সদস্যের আত্মহত্যা ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার নিজ বাড়ি থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার নজরুল বর্ষ ঘিরে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে ৬৪ জেলায়: সংস্কৃতিমন্ত্রী দুর্ভিক্ষপীড়িত রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল ‘এগিয়ে চলো ব্রাজিল’, সতীর্থদের প্রতি নেইমার বিশ্বকাপ জিততে এসেছি, ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়: ভিনিসিয়ুস প্রায় ১৪ ঘণ্টার সফর শেষে ঢাকা ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারে ব্লু ইকনোমি ও মেরিন সাইন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় ১৫-২০ বছর আগে হওয়া উচিত ছিলো- প্রধানমন্ত্রী

১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে গেলো ‘আরাকান আর্মি’

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • 487

সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে যাওয়া দুইটি ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা।

বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘাটের দু’টি  ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে যায়। এসময় সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে ধাওয়া করে ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। একটি ট্রলারের মালিক শনাক্ত করা গেলেও আরেকটির মালিক কে তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানায়, গত ২৮ অক্টোবর আরাকান আর্মির উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিট সমুদ্রপথে টহল জোরদার করে। টহলের সময় আরাকান রাজ্যের জলসীমা অতিক্রম করে মাছ ধরতে থাকা কয়েকটি বাংলাদেশি ট্রলার শনাক্ত করা হয়। সেখানে তারা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৮৮ জন বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটক করে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানায়। কিন্তু এখন আইন অমান্য করার কারণে ফের এসব ট্রলার ধরা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় সেখানে।

ট্রলার মালিক মো. সৈয়দ আলম বলেন, ‘আরাকান আর্মির কারণে নাফনদী-সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়েছে পড়ছে। প্রতিদিন ট্রলারসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সাগরে মাছ শিকারে সময় একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর আরাকান আর্মি সেটিসহ আরও একটি ট্রলার আটক করে। দুই ট্রলারে ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে-ট্রলার মালিকদের মাঝে দুর্দিন নেমে আসবে।  তাই এ ঘটনা বন্ধে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ট্রলারসহ কিছু জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে জেনেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।’

বিজিবি বলছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারে নাফ নদসহ সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জেলেকে অপহরণ করে আরাকান আর্মি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে কয়েক দফায় ফেরত আনা হয়। এখনো ১৫০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে গেলো ‘আরাকান আর্মি’

আপডেট সময় : ০৬:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে যাওয়া দুইটি ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা।

বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘাটের দু’টি  ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে যায়। এসময় সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে ধাওয়া করে ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। একটি ট্রলারের মালিক শনাক্ত করা গেলেও আরেকটির মালিক কে তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানায়, গত ২৮ অক্টোবর আরাকান আর্মির উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিট সমুদ্রপথে টহল জোরদার করে। টহলের সময় আরাকান রাজ্যের জলসীমা অতিক্রম করে মাছ ধরতে থাকা কয়েকটি বাংলাদেশি ট্রলার শনাক্ত করা হয়। সেখানে তারা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৮৮ জন বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটক করে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানায়। কিন্তু এখন আইন অমান্য করার কারণে ফের এসব ট্রলার ধরা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় সেখানে।

ট্রলার মালিক মো. সৈয়দ আলম বলেন, ‘আরাকান আর্মির কারণে নাফনদী-সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়েছে পড়ছে। প্রতিদিন ট্রলারসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সাগরে মাছ শিকারে সময় একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর আরাকান আর্মি সেটিসহ আরও একটি ট্রলার আটক করে। দুই ট্রলারে ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে-ট্রলার মালিকদের মাঝে দুর্দিন নেমে আসবে।  তাই এ ঘটনা বন্ধে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ট্রলারসহ কিছু জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে জেনেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।’

বিজিবি বলছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারে নাফ নদসহ সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জেলেকে অপহরণ করে আরাকান আর্মি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে কয়েক দফায় ফেরত আনা হয়। এখনো ১৫০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে।