ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল চকরিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ : উড়ে গেল কাঠুরিয়ার পা ভিন্ন আবহে আরেকটি ৭ মার্চ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের আহবায়ক কমিটি গঠিত – আহবায়ক: মোজাম্মেল হক, সদস্য সচিব: আরোজ ফারুক ‘আমার মত অনেক মেয়ে আপেল মাহমুদের কাছে নির্যাতিত’ -লাইলা পরী পেকুয়ায় মা–মেয়ের এক মাসের কারাদণ্ডের অন্তরালে “নব্য জাহেলিয়াত থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই – আনোয়ারী সিবিআইইউতে বিবিএ ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি রামুতে সরঞ্জাম ও জাল টাকাসহ যুবক আটক সাগরপাড়ে প্রশান্তির ইফতার রত্নগর্ভা রিজিয়া আহমেদ স্মরণে ফেইম ফাউন্ডেশনের ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন? আরকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি

১২ ডিসেম্বর ১৯৭১: যেভাবে মুক্ত হয় কক্সবাজার

১৯৭১। তারিখ টা ১২ ডিসেম্বর। বিকেল বেলা। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ। অসংখ্য মানুষ ছুটতে লাগলো সেখানে। আসলো তরুন,যুবা,আবাল বৃদ্ধ বনিতা। কি হবে সেখানে, কেনো এতো মানুষেরা এসেছে? ততোক্ষণে উখিয়ার রত্নপালং হাইস্কুল ক্যাম্প থেকে ৪ টি গাড়ীতে করে সমুদ্র শহরে প্রবেশ করে মুক্তি সেনার দল। একটা খোলা জিপে করে আসে কমান্ডার আব্দুস সোবাহান। সেই জিপে দাঁড়িয়েই তিনি ঘোষনা করলেন ” আজ থেকে কক্সবাজার মুক্ত”। তারপর আকাশের দিকে লাল সবজের পতাকায় উত্তোলিত বিজয়ের বারতা।

মুহুর্তেই মানুষের মুক্তির উচ্ছাস অধিকারে নেয় পুরো শহর। চারিদিকে জয়ধ্বনি। তখন কারো চোখে জল, স্বাধীনতা অবশেষে নিজের হলো বলে।

কক্সবাজার হানাদার মুক্ত ঘোষনার মুহুর্তটি কেমন ছিলো, কেমন ছিলো সে দিনের সেই বিকেল বেলাটি,এমন প্রশ্নের জবাবে সে দিনের সেই ইতিহাসের বিরল মূহুর্তের অংশগ্রহনকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ বলেন, সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। চারিদিকে মানুষের সে কি আবেগ,সে কি উচ্ছাস। আর বীর যোদ্ধাদের প্রতি মানুষের সে কি সম্মান।

তিনি বলেন,তার আগে থেকেই পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজিত হতে থাকলে কক্সবাজার শহর ও গ্রামীন এলাকা থেকে তারা পালিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর কমান্ডার সোবহানের নেতৃত্বে রামু ও উখিয়া থানা মুক্ত করা হয়। তারপর রত্নাপালং হাই স্কুল ক্যাম্প থেকে ১২ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ৪ টি বাসে করে রওয়ানা হয় কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে। শহরে এসে মুক্তি বাহিনী তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তৎকালীন জেলে পার্ক লাগোয়া সার্কিট হাউজে যাওয়া দলে। সেখানে তিনি টর্চার রুমে নারীদের পরিধেয় ছেড়া কাপড়, দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। সার্কিট হাউজের সামনের মাঠে সৈকতের দিকে গেলে দেখতে পান মানুষের অর্ধ মাটি চাপা লাশ কুকুরে খাচ্ছে। এসময় তিনি মানুষের কঙ্কাল থেকে ছিটকে পড়া ১৭ টি মাথার খুলি নিয়ে সার্কিট হাউজের দেয়ালে রেখেছিলেন,এসব কথা বলতে বলতে বীর এই মুক্তিযোদ্ধার চোখে এলো জল। বললেন,রক্তের স্রোতে লেখা নাম বাংলাদেশ, এ দেশ যেনো পথ না হারায়।

কক্সবাজার মুক্ত দিবস পালনে এ বছর কোনো আয়োজন আছে এমন তথ্য পাওয়া যায় নি। তবুও ইতিহাসে অম্লান থাকবে এই ১২ ডিসেম্বর।এ দিন সাগর তীরে মুক্তির টেউ আছড়ে পড়েছিলো। যার চুড়ান্ত অর্জন সূচীত হয় মহান বিজয়ের দিন,১৬ ডিসেম্বরে।

ট্যাগ :
আপলোডকারীর তথ্য

Mohammad Noman

মোহাম্মেদ নোমান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিটিএন কক্সবাজার এর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করে পরিচিতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি অনলাইন এর টেকনাফ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সীমান্তাঞ্চল টেকনাফের জনজীবন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সততা, দায়িত্ববোধ ও মাঠভিত্তিক অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় একটি সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছেন।

গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল

১২ ডিসেম্বর ১৯৭১: যেভাবে মুক্ত হয় কক্সবাজার

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৭১। তারিখ টা ১২ ডিসেম্বর। বিকেল বেলা। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ। অসংখ্য মানুষ ছুটতে লাগলো সেখানে। আসলো তরুন,যুবা,আবাল বৃদ্ধ বনিতা। কি হবে সেখানে, কেনো এতো মানুষেরা এসেছে? ততোক্ষণে উখিয়ার রত্নপালং হাইস্কুল ক্যাম্প থেকে ৪ টি গাড়ীতে করে সমুদ্র শহরে প্রবেশ করে মুক্তি সেনার দল। একটা খোলা জিপে করে আসে কমান্ডার আব্দুস সোবাহান। সেই জিপে দাঁড়িয়েই তিনি ঘোষনা করলেন ” আজ থেকে কক্সবাজার মুক্ত”। তারপর আকাশের দিকে লাল সবজের পতাকায় উত্তোলিত বিজয়ের বারতা।

মুহুর্তেই মানুষের মুক্তির উচ্ছাস অধিকারে নেয় পুরো শহর। চারিদিকে জয়ধ্বনি। তখন কারো চোখে জল, স্বাধীনতা অবশেষে নিজের হলো বলে।

কক্সবাজার হানাদার মুক্ত ঘোষনার মুহুর্তটি কেমন ছিলো, কেমন ছিলো সে দিনের সেই বিকেল বেলাটি,এমন প্রশ্নের জবাবে সে দিনের সেই ইতিহাসের বিরল মূহুর্তের অংশগ্রহনকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ বলেন, সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। চারিদিকে মানুষের সে কি আবেগ,সে কি উচ্ছাস। আর বীর যোদ্ধাদের প্রতি মানুষের সে কি সম্মান।

তিনি বলেন,তার আগে থেকেই পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজিত হতে থাকলে কক্সবাজার শহর ও গ্রামীন এলাকা থেকে তারা পালিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর কমান্ডার সোবহানের নেতৃত্বে রামু ও উখিয়া থানা মুক্ত করা হয়। তারপর রত্নাপালং হাই স্কুল ক্যাম্প থেকে ১২ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ৪ টি বাসে করে রওয়ানা হয় কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে। শহরে এসে মুক্তি বাহিনী তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তৎকালীন জেলে পার্ক লাগোয়া সার্কিট হাউজে যাওয়া দলে। সেখানে তিনি টর্চার রুমে নারীদের পরিধেয় ছেড়া কাপড়, দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। সার্কিট হাউজের সামনের মাঠে সৈকতের দিকে গেলে দেখতে পান মানুষের অর্ধ মাটি চাপা লাশ কুকুরে খাচ্ছে। এসময় তিনি মানুষের কঙ্কাল থেকে ছিটকে পড়া ১৭ টি মাথার খুলি নিয়ে সার্কিট হাউজের দেয়ালে রেখেছিলেন,এসব কথা বলতে বলতে বীর এই মুক্তিযোদ্ধার চোখে এলো জল। বললেন,রক্তের স্রোতে লেখা নাম বাংলাদেশ, এ দেশ যেনো পথ না হারায়।

কক্সবাজার মুক্ত দিবস পালনে এ বছর কোনো আয়োজন আছে এমন তথ্য পাওয়া যায় নি। তবুও ইতিহাসে অম্লান থাকবে এই ১২ ডিসেম্বর।এ দিন সাগর তীরে মুক্তির টেউ আছড়ে পড়েছিলো। যার চুড়ান্ত অর্জন সূচীত হয় মহান বিজয়ের দিন,১৬ ডিসেম্বরে।