ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ মাদকই অপরাধের বড় কারণ, নির্মূলে কাজ করছে সরকার: পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ২য় শাহাদাত বার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত টেকসই শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিতে নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জোর দিলো বাংলাদেশ জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির কমিটি গঠন: আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব: রায়হান উদ্দিন হলিডে মোড়ে ট্রাক চাপায় রাসেল নামের মোটরসাইকেল আরোহী নিহত : আহত ২ পেকুয়ায় মাদক কেনার সময় যুবক আটক, ৩ মাসের কারাদণ্ড বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে ৩ দিনের পর্যটন মেলা সদরে থানার অভিযানে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১০ জন গ্রেপ্তার আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় সাবেক এমপি জাফর আলমকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের আদেশ
কক্সবাজারে মডেল মসজিদ উদ্বোধনকালে ধর্ম উপদেষ্টা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হতে হবে

মানুষ নামাজমুখী হলে সমাজে অপরাধ প্রবনতা কমে যায় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড আ ফ ম খালিদ হোসেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মুল্যবোধ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

ধর্ম উপদেষ্টা আজ সোমবার সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া বাজারে নবনির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মসজিদ পবিত্র ও উত্তম স্থান। যতবেশি মসজিদ নির্মিত হবে ততবেশি মুসল্লী তৈরি হবে। মানুষ যতবেশি নামাজের দিকে ধাবিত হবে সমাজ ততবেশি অপরাধমুক্ত হবে। নামাজ মানুষকে সকল ধরণের গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখে। মুসল্লিবিহীন মসজিদ কেয়ামতের লক্ষণ উল্লেখ করে তিনি মসজিদকে আবাদ রাখতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন মডেল মসজিদের মাধ্যমে দেশে ইসলামী আবহ সৃষ্টি হচ্ছে এবং এতে করে দেশে ধর্ম পালনের যে ঐতিহ্য তা আরো বেগবান হবে। এ ছাড়া মানুষের নৈতিকতার উজ্জীবন ঘটবে।

ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, মডেল মসজিদকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ আবর্তিত হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশ ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মডেল মসজিদ অনন্য ভূমিকা রাখবে। এই মসজিদ থেকেই সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন।

ড. খালিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ দেশ। এদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সকল ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। তিনি বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলতে দুর্নীতির মানসিকতা পরিহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে নির্মাণ করেছে। ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই তিনতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। স্থাপনাটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ মডেল মসজিদে একসাথে ৯৫০ জন মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবে। এরমধ্যে আলাদা প্রবেশপথসহ ১২০ জন মহিলার নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ মসজিদে পুরুষ, মহিলা, অক্ষম ও বয়স্কদের ওযু ও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসসহ ইমাম প্রশিক্ষণ, হজযাত্রী নিবন্ধন, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, অটিজম কর্নার, এতিমখানা, মৃতদেহ গোসল, ইসলামিক লাইব্রেরি ও ইসলামি বই বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া, এখানে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের আবাসন ব্যবস্থাসহ গেস্ট রুম, কনফারেন্স রুম ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের অধীনে ইতোমধ্যে ছয়টি পর্যায়ে নির্মাণকাজ শেষে মোট ৩০০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতিমাসে পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ সারাদেশে মোট ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একিউএম শাহজালাল মজুমদার ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজীব ও মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস-উজ-জামান।

পরে উপদেষ্টা পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করেন এবং সেখানে মোনাজাতে অংশ নেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

কক্সবাজারে মডেল মসজিদ উদ্বোধনকালে ধর্ম উপদেষ্টা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হতে হবে

আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মানুষ নামাজমুখী হলে সমাজে অপরাধ প্রবনতা কমে যায় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড আ ফ ম খালিদ হোসেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মুল্যবোধ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

ধর্ম উপদেষ্টা আজ সোমবার সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া বাজারে নবনির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মসজিদ পবিত্র ও উত্তম স্থান। যতবেশি মসজিদ নির্মিত হবে ততবেশি মুসল্লী তৈরি হবে। মানুষ যতবেশি নামাজের দিকে ধাবিত হবে সমাজ ততবেশি অপরাধমুক্ত হবে। নামাজ মানুষকে সকল ধরণের গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখে। মুসল্লিবিহীন মসজিদ কেয়ামতের লক্ষণ উল্লেখ করে তিনি মসজিদকে আবাদ রাখতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন মডেল মসজিদের মাধ্যমে দেশে ইসলামী আবহ সৃষ্টি হচ্ছে এবং এতে করে দেশে ধর্ম পালনের যে ঐতিহ্য তা আরো বেগবান হবে। এ ছাড়া মানুষের নৈতিকতার উজ্জীবন ঘটবে।

ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, মডেল মসজিদকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ আবর্তিত হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশ ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মডেল মসজিদ অনন্য ভূমিকা রাখবে। এই মসজিদ থেকেই সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন।

ড. খালিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ দেশ। এদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সকল ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। তিনি বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলতে দুর্নীতির মানসিকতা পরিহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে নির্মাণ করেছে। ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই তিনতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। স্থাপনাটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ মডেল মসজিদে একসাথে ৯৫০ জন মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবে। এরমধ্যে আলাদা প্রবেশপথসহ ১২০ জন মহিলার নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ মসজিদে পুরুষ, মহিলা, অক্ষম ও বয়স্কদের ওযু ও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসসহ ইমাম প্রশিক্ষণ, হজযাত্রী নিবন্ধন, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, অটিজম কর্নার, এতিমখানা, মৃতদেহ গোসল, ইসলামিক লাইব্রেরি ও ইসলামি বই বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া, এখানে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের আবাসন ব্যবস্থাসহ গেস্ট রুম, কনফারেন্স রুম ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের অধীনে ইতোমধ্যে ছয়টি পর্যায়ে নির্মাণকাজ শেষে মোট ৩০০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতিমাসে পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ সারাদেশে মোট ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একিউএম শাহজালাল মজুমদার ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজীব ও মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস-উজ-জামান।

পরে উপদেষ্টা পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করেন এবং সেখানে মোনাজাতে অংশ নেন।