ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের মূলহোতা নূরুল ইসলাম নাহিদ আটক পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – বিএনপি দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী মালুমঘাটে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের জন্য আমার নেতার বৃহত্তর মাস্টার প্ল্যান আছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে পিএমখালীতে যান প্রধানমন্ত্রী, পাশে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে পৌঁছেছেন তারেক রহমান, দিনব্যাপী অংশ নেবেন ১১ কর্মসূচিতে  কক্সবাজারের পথে সপরিবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি প্রধানমন্ত্রীকে বরনে প্রস্তুত পেকুয়া কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের মূলহোতা নূরুল ইসলাম নাহিদ আটক

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।