ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুর ২৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, ব্যাহত পাঠদান রোববার থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে: হাইকমিশনার ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ ভূমিকম্প তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা-বেইজিং ঐকমত্য রামুর খুনিয়াপালংয়ে রহস্যজনক লাশ উদ্ধার: স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘মনে হচ্ছিল, পুরো ভবনটি মাথার ওপর ভেঙে পড়বে’, ভেনেজুয়েলায় নিহত ৩২, আহত ৭০০ বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর  ঘুমধুম সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত শফি আলম মারা গেছেন ভেনামি চিংড়ি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে-মৎস্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টেকনাফে মাদক মামলার পলাতক আসামি এবার হলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গর্জনিয়ার উত্তর বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন শহীদুল্লাহ বাপ্পী শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে ব্রাজিল, মরক্কো, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার জমজমাট কোয়ালিফিকেশন সমীকরণ

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুর ২৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, ব্যাহত পাঠদান

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।