ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী কক্সবাজারে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের স্বীকৃতি: জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে ফিচারড SURGE Bangladesh শহরের কুতুবদিয়া পাড়ার আলোচিত রোজিনাকে আটক করেছে পুলিশ বিয়ের অতিথি ১০০ ছাড়ালে জনপ্রতি ১০০০ টাকা ট্যাক্স বসানোর দাবি এমপির বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে আইসিসিতে চিঠি সাবেক বিসিবি সভাপতির টেকনাফে সড়কের দুই পাশে কলেমা লেখা সাদা পতাকা আ’র’কা’ন আ’র্মি প্রধানের বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার খবর কতটুকু সত্য? মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রোজিনা গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমীরের উদ্যোগে মুক্ত হলো হাসপাতাল বিলের জন্য আটকে থাকা রিয়াজের মরদেহ মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সবুজ উদ্যোগ -কক্সবাজারে ১ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ মহেশখালীতে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি অহিদুল গ্রেপ্তার  কক্সবাজার সদর থানায় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আগুন ​”ব্লাড ক্যান্সারে মারা যাওয়া টেকনাফের শিক্ষার্থী রিয়াজের মরদেহ আটকে আছে হাসপাতালে, সাহায্যের আবেদন

মিয়ানমারের ওপার থেকে উখিয়া-টেকনাফে এল বি ক ট শব্দ

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতঘর। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়।

টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী উলুবনিয়া, খারাংখালী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল ও তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে একাধিক বিকট শব্দ ভেসে আসে, যা সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এছাড়া উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমান পাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল ও ধামনখালী সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু পাথর কাটা ও চাকমা পাড়া সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাহমুদুল হাসান ও আজিজুল হক রানা টাইমসকে জানান, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা সরকার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব বিমান হামলার ফলেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে শোনা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর হাঁসের দ্বীপ, বিলাইচ্ছর দ্বীপ ও তোতার দ্বীপের দখল নিয়ে মিয়ানমার অংশ থেকে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসব গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি গুলি বাংলাদেশি সীমান্তের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও ধানক্ষেতেও এসে পড়ে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মিয়ানমার অংশ থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী

মিয়ানমারের ওপার থেকে উখিয়া-টেকনাফে এল বি ক ট শব্দ

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতঘর। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়।

টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী উলুবনিয়া, খারাংখালী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল ও তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে একাধিক বিকট শব্দ ভেসে আসে, যা সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এছাড়া উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমান পাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল ও ধামনখালী সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু পাথর কাটা ও চাকমা পাড়া সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাহমুদুল হাসান ও আজিজুল হক রানা টাইমসকে জানান, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা সরকার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব বিমান হামলার ফলেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে শোনা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর হাঁসের দ্বীপ, বিলাইচ্ছর দ্বীপ ও তোতার দ্বীপের দখল নিয়ে মিয়ানমার অংশ থেকে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসব গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি গুলি বাংলাদেশি সীমান্তের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও ধানক্ষেতেও এসে পড়ে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মিয়ানমার অংশ থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে।