ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাহিদের গতির ঝড় আর তানজিদের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ খেজুর দূর করবে রোজার ক্লান্তি সাগরে নি’হত কুতুবদিয়ার দুই জেলে পরিবার পেলো সহায়তার ৫০ হাজার টাকা উখিয়ায় সেহেরির সময় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি : সালাহউদ্দিন আহমদ গর্জনিয়ায় তাঁতীদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আরেক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’ পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে বিপিসি ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের বড় ধরনের হামলা কক্সবাজারে বাস-মিনিবাস শৃঙ্খলা পরিচালনা কমিটি গঠন ​সালাহউদ্দিন আহমদের ১২ তম গুম দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল নেতা ফাহিমুর রহমানের দিনব্যাপী কর্মসূচি খুরুশকুল ও রামুতে ইফতার সামগ্রি বিতরণে এমপি কাজল সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী কক্সবাজার জেলা সংসদের কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত “মানবতার মুক্তির বারতা দিতে মাহে রামাদান প্রতিবছর আমাদের মাঝে আসে” -জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারী সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজারের আলোচনা সভা ও  ইফতার অনুষ্ঠিত

বিদ্রোহীদের হামলার মুখে থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেল মিয়ানমারের ১০০ সেনা

তাক প্রদেশের সীমান্তবর্তী শহর মে সোটে থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের মধ্যে নদীর পাড়ে পাহারা দিচ্ছেন একজন থাই সৈন্য (ফাইল ছবি)
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের পাঁচ শতাধিক সেনাসদস্য ও শত শত বেসামরিক নাগরিক পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে। দেশটির একটি সেনাঘাঁটিতে জাতিগত বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় তারা পালিয়ে যান।

পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমারের সেনা সংখ্যা ১০০ জন। রোববার (১৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে জাতিগত বিদ্রোহীদের হামলার পর অন্তত ৫০০ জনের বেশি সেনা ও সাধারণ মানুষ পালিয়ে গিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে থাই সেনাবাহিনী।

থাই সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ক্যারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) মিয়ানমারের কায়িন প্রদেশে একটি সেনা ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। এরপরই প্রায় ১০০ জন মিয়ানমার সেনা ও ৪৬৭ জন সাধারণ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে ঢুকে পড়েন।

থাই কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের নিরস্ত্র করে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কেএনএলএ-র রাজনৈতিক শাখার নেতা স থামেইন তুন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে এবং আমাদের যৌথ বাহিনী সেনাবাহিনীর কিছু ফ্রন্ট পোস্ট দখল করেছে। কিছু সেনা আত্মসমর্পণ করেছে, আবার কিছু পালিয়ে থাইল্যান্ডে ঢুকেছে।”

জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থি বাহিনীর সঙ্গে জান্তা সরকারের দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার কার্যত বিপর্যস্ত। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ৮১ হাজার মিয়ানমার নাগরিক থাইল্যান্ডে শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।

এদিকে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মঠে বিমান হামলায় কমপক্ষে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। নিহতরা সবাই ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিতে এসেছিলেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক জান্তাবিরোধী যোদ্ধার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে সাগাইংয়ের লিন তা লু গ্রামে মঠটির হলরুমে বিমান হামলা চালানো হয়। জান্তাবিরোধী এক যোদ্ধা বলেন, “মানুষ ভাবছিল মঠে থাকলে নিরাপদ থাকবে। কিন্তু তাও রেহাই পেল না। তিন শিশুসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। আরও দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।”

এই হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জ’ মিন তুন কোনও মন্তব্য করেননি।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :

বিদ্রোহীদের হামলার মুখে থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেল মিয়ানমারের ১০০ সেনা

আপডেট সময় : ০১:৩২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

তাক প্রদেশের সীমান্তবর্তী শহর মে সোটে থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের মধ্যে নদীর পাড়ে পাহারা দিচ্ছেন একজন থাই সৈন্য (ফাইল ছবি)
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের পাঁচ শতাধিক সেনাসদস্য ও শত শত বেসামরিক নাগরিক পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে। দেশটির একটি সেনাঘাঁটিতে জাতিগত বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় তারা পালিয়ে যান।

পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমারের সেনা সংখ্যা ১০০ জন। রোববার (১৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে জাতিগত বিদ্রোহীদের হামলার পর অন্তত ৫০০ জনের বেশি সেনা ও সাধারণ মানুষ পালিয়ে গিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে থাই সেনাবাহিনী।

থাই সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ক্যারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) মিয়ানমারের কায়িন প্রদেশে একটি সেনা ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। এরপরই প্রায় ১০০ জন মিয়ানমার সেনা ও ৪৬৭ জন সাধারণ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে ঢুকে পড়েন।

থাই কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের নিরস্ত্র করে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কেএনএলএ-র রাজনৈতিক শাখার নেতা স থামেইন তুন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে এবং আমাদের যৌথ বাহিনী সেনাবাহিনীর কিছু ফ্রন্ট পোস্ট দখল করেছে। কিছু সেনা আত্মসমর্পণ করেছে, আবার কিছু পালিয়ে থাইল্যান্ডে ঢুকেছে।”

জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থি বাহিনীর সঙ্গে জান্তা সরকারের দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার কার্যত বিপর্যস্ত। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ৮১ হাজার মিয়ানমার নাগরিক থাইল্যান্ডে শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।

এদিকে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মঠে বিমান হামলায় কমপক্ষে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। নিহতরা সবাই ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিতে এসেছিলেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক জান্তাবিরোধী যোদ্ধার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে সাগাইংয়ের লিন তা লু গ্রামে মঠটির হলরুমে বিমান হামলা চালানো হয়। জান্তাবিরোধী এক যোদ্ধা বলেন, “মানুষ ভাবছিল মঠে থাকলে নিরাপদ থাকবে। কিন্তু তাও রেহাই পেল না। তিন শিশুসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। আরও দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।”

এই হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জ’ মিন তুন কোনও মন্তব্য করেননি।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট