ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেমন হওয়া উচিত সেহরি-ইফতার রোজা : নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ জাতিসংঘ কেন অপ্রয়োজনীয়? কক্সবাজারে ঠিকাদারকে ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর’ অভিযোগ, এসপির কাছে স্ত্রীর আবেদন মহেশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনা: যুবক নিহত খুনিয়াপালংয়ে বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কায় দুই শিশুর মৃত্যু! উখিয়া কোর্টবাজারে র‌্যাব ও ভোক্তা অধিকারের যৌথ অভিযান: ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা জেলা সংগীত শিল্পী পরিষদের ইফতার সম্পন্ন অধিধ্বনির উদ্যোগে শিশুদের নাট্য কর্মশালা ‘অভিনয়ের হাতেখড়ি’র উদ্বোধন নিজেকে নির্দোষ দাবি টেকনাফের ফরিদের: র‍্যাব বলছে ১৭ মামলার পলাতক আসামী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ বাস্তবায়নে সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু জেলা প্রশাসনের অপহরণের দুই দিন পর কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে: সংসদে রাষ্ট্রপতি সংসদে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন, নেতৃত্বে যারা রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন : জামায়াত আমির

বাইশারীতে অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের মধ্যম বাইশারী এলাকায় ভয়াবহ ও সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ডে একই ঘরে বসবাসরত চারটি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মৌলভী কবির উদ্দিনের বসতঘরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের কর্তা তার তিন ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করার পর তাদের আলাদা সংসার গঠন করে দেন। তবে একই ঘরের ভেতর চারটি পরিবার পৃথকভাবে বসবাস করছিল। অন্যদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও খেয়েদেয়ে সবাই ঘুমিয়ে যায়। রাত সাড়প তিনটার দিকে হঠাৎ ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই চতুর্থদিকে ছড়িয়ে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে প্রাণ নিয়ে নারী-শিশুসহ বেরুতে পারলেও স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও মূল্যবান পণ্য সামগ্রী কিছুই বাদ যায়নি ভস্মীভূত হওয়া থেকে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এক নারী জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, অন্য বধূদের কাছেও প্রায় সমপরিমাণ স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন জ্বলার সময় বারবার ‘ঠুসঠাস’ ধরনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা স্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দাহ্য পদার্থ বা গানপাউডার ব্যবহার করে আগুন লাগাতে পারে। তারা শত্রুতামূলক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করে। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :

বাইশারীতে অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের মধ্যম বাইশারী এলাকায় ভয়াবহ ও সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ডে একই ঘরে বসবাসরত চারটি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মৌলভী কবির উদ্দিনের বসতঘরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের কর্তা তার তিন ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করার পর তাদের আলাদা সংসার গঠন করে দেন। তবে একই ঘরের ভেতর চারটি পরিবার পৃথকভাবে বসবাস করছিল। অন্যদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও খেয়েদেয়ে সবাই ঘুমিয়ে যায়। রাত সাড়প তিনটার দিকে হঠাৎ ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই চতুর্থদিকে ছড়িয়ে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে প্রাণ নিয়ে নারী-শিশুসহ বেরুতে পারলেও স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও মূল্যবান পণ্য সামগ্রী কিছুই বাদ যায়নি ভস্মীভূত হওয়া থেকে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এক নারী জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, অন্য বধূদের কাছেও প্রায় সমপরিমাণ স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন জ্বলার সময় বারবার ‘ঠুসঠাস’ ধরনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা স্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দাহ্য পদার্থ বা গানপাউডার ব্যবহার করে আগুন লাগাতে পারে। তারা শত্রুতামূলক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করে। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।