ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

প্রধান সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : কলাতলী থেকে লিংক রোড পর্যন্ত চলবে অভিযান

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী মোড়। প্রতিদিনই এখানে এসে থামে দূরপাল্লার অসংখ্য বাস। ওঠানামা করেন শত শত পর্যটক। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দু’পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। এতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ৬ একর জমি চলে গেছে দখলদারদের কবলে।

কলাতলী প্রধান সড়কের একপাশে গড়ে ওঠা একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হলো বুলডোজার দিয়ে। কোথাও বাসের কাউন্টার, কোথাও হোটেল-রেস্তোরাঁ-বাদ যাচ্ছে না কোনো স্থাপনাই। জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শনিবার শুরু হয় এই উচ্ছেদ অভিযান। তবে কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে দেখা দেয় বিপত্তি। পরে সেসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়। অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনার মালিকদের অভিযোগ, তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। এমনকি মাইকিং করেও জানানো হয়নি উচ্ছেদের বিষয়টি।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা জানান, মাত্র এক মাস আগে অনেক কষ্ট করে, এমনকি মা বোনের স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে এই দোকানটি দিয়েছি। এখনো ঠিকমতো ব্যবসা শুরু করতে পারিনি, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ টাকার পণ্যও বিক্রি হয়নি। এর মধ্যে শুনছি দোকানটি ভেঙে দেওয়া হবে। আমাদের আগে থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানোও হয়নি। দোকানটি ভেঙে দিলে স্বর্ণালংকারের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। এখানেই পরিবার নিয়ে থাকি। দোকানটি ভেঙে দিলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, আমার আর কোনো আয়-রোজগারের পথও নেই। দোকানটি ছোট একটি ভাতের হোটেল ছিল।

এদিকে, প্রধান সড়কের দু’পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটনসেবীরা। তাদের মতে, এতে পর্যটকদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি কমবে যানজট।

পর্যটন ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, প্রধান সড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পর্যটকদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় পর্যটকদের চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। এ উদ্যোগের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

এদিকে প্রশাসন বলছে, বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার প্রধান সড়কের দু’পাশ পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান নাঈম বলেন, জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই সড়ক ও জনপথের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার নগরী গড়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট হয়ে পুনরায় কলাতলী মোড় পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কলাতলী থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান পর্যায়ক্রমে লিংক রোড পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, জাতীয় মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের রাইট অব ওয়ে থেকে দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সেটি অবৈধ স্থাপনা হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে আগে থেকেই পর্যাপ্ত মাইকিং ও গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে?

প্রধান সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : কলাতলী থেকে লিংক রোড পর্যন্ত চলবে অভিযান

আপডেট সময় : ০৫:৪২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী মোড়। প্রতিদিনই এখানে এসে থামে দূরপাল্লার অসংখ্য বাস। ওঠানামা করেন শত শত পর্যটক। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দু’পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। এতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ৬ একর জমি চলে গেছে দখলদারদের কবলে।

কলাতলী প্রধান সড়কের একপাশে গড়ে ওঠা একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হলো বুলডোজার দিয়ে। কোথাও বাসের কাউন্টার, কোথাও হোটেল-রেস্তোরাঁ-বাদ যাচ্ছে না কোনো স্থাপনাই। জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শনিবার শুরু হয় এই উচ্ছেদ অভিযান। তবে কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে দেখা দেয় বিপত্তি। পরে সেসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়। অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনার মালিকদের অভিযোগ, তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। এমনকি মাইকিং করেও জানানো হয়নি উচ্ছেদের বিষয়টি।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা জানান, মাত্র এক মাস আগে অনেক কষ্ট করে, এমনকি মা বোনের স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে এই দোকানটি দিয়েছি। এখনো ঠিকমতো ব্যবসা শুরু করতে পারিনি, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ টাকার পণ্যও বিক্রি হয়নি। এর মধ্যে শুনছি দোকানটি ভেঙে দেওয়া হবে। আমাদের আগে থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানোও হয়নি। দোকানটি ভেঙে দিলে স্বর্ণালংকারের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। এখানেই পরিবার নিয়ে থাকি। দোকানটি ভেঙে দিলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, আমার আর কোনো আয়-রোজগারের পথও নেই। দোকানটি ছোট একটি ভাতের হোটেল ছিল।

এদিকে, প্রধান সড়কের দু’পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটনসেবীরা। তাদের মতে, এতে পর্যটকদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি কমবে যানজট।

পর্যটন ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, প্রধান সড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পর্যটকদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় পর্যটকদের চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। এ উদ্যোগের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

এদিকে প্রশাসন বলছে, বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার প্রধান সড়কের দু’পাশ পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান নাঈম বলেন, জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই সড়ক ও জনপথের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার নগরী গড়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট হয়ে পুনরায় কলাতলী মোড় পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কলাতলী থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান পর্যায়ক্রমে লিংক রোড পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, জাতীয় মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের রাইট অব ওয়ে থেকে দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সেটি অবৈধ স্থাপনা হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে আগে থেকেই পর্যাপ্ত মাইকিং ও গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।