ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের হোতা গ্রেফতার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার: রাষ্ট্রপতি দুপুরের মধ্যে কক্সবাজারসহ ১৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন প্রবাসীর পাঠানো মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ ও তার স্ত্রী’র চকরিয়ায় পা’চা’রচ’ক্রের নারী সদ’স্য গ্রে’প্তা’র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা: কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সদ্ধর্ম সভার ব্যাপক প্রস্তুতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বার্মিজ গরুসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি হাইকোর্টের রায়ে শিলখালীর ইউপি চেয়ারম্যান পদে বহাল কামাল হোসেন কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস পালিত চকরিয়ায় বাস চাপায় বিএনপি নেতার মৃত্যু মেরিন ড্রাইভে ‘চান্দের গাড়ি’ বন্ধের দাবি, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: গণমিছিল সফল করার আহ্বান জামায়াত নেতার টেকনাফের বাহারছড়ায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ

পেকুয়ার সেই মা-মেয়ের মুক্তি

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগের পর থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া সেই মা-মেয়ের মুক্তি মিলেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মা-মেয়েকে থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নও ওঠে। পরবর্তীতে শনিবার সেই মামলাটি বাতিল করে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ফলে মুক্তি পান ওই মা-মেয়ে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তাদের জামিন দেয়া হয়নি, বরং বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩) শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস দেন। পরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় পুলিশের মারধরে রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদার জন্মের এক বছরের মাথায় তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি মায়ের কাছেই বড় হন। ২০১৩ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুবাইদা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পেকুয়া থানার এসআই বিপ্লবকে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই বিপ্লব জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু ঘুষ নেয়ার পরও তিনি তার চাচা ও ফুফুদের প্রভাবে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এ ঘটনায় গত বুধবার থানায় গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর জুবাইদা ও তার মাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

সুত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

ট্যাগ :

কক্সবাজারে এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের হোতা গ্রেফতার

পেকুয়ার সেই মা-মেয়ের মুক্তি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগের পর থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া সেই মা-মেয়ের মুক্তি মিলেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মা-মেয়েকে থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নও ওঠে। পরবর্তীতে শনিবার সেই মামলাটি বাতিল করে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ফলে মুক্তি পান ওই মা-মেয়ে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তাদের জামিন দেয়া হয়নি, বরং বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩) শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস দেন। পরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় পুলিশের মারধরে রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদার জন্মের এক বছরের মাথায় তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি মায়ের কাছেই বড় হন। ২০১৩ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুবাইদা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পেকুয়া থানার এসআই বিপ্লবকে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই বিপ্লব জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু ঘুষ নেয়ার পরও তিনি তার চাচা ও ফুফুদের প্রভাবে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এ ঘটনায় গত বুধবার থানায় গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর জুবাইদা ও তার মাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

সুত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর