ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম লবণসহিষ্ণু জাতে সাফল্য, কক্সবাজারের লবণ মাঠে হচ্ছে ধান চাষ বারবাকিয়ায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও, এলাকাজুড়ে স্বস্তি পুণরায় ফুটপাত দখল করলে আইনের আওতায় আনা হবে:ইউএনও চকরিয়া লোহাগাড়ায় নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, যুবক আটক বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহবান উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন খুনিয়াপালংয়ে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও পাইপ জব্দ কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৩ হাজার যাত্রী চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট

কোরবানি: ইবাদত, না সামাজিক প্রতিযোগিতা?

ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এর মূল শিক্ষা ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মানবিকতা। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই কোরবানির এই বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির প্রকৃত চেতনার পাশাপাশি সমাজে এক ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক প্রবণতাও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন জাগে, আজকের কোরবানি কি সত্যিই ইবাদতের অংশ, নাকি তা ধীরে ধীরে সামাজিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিচ্ছে?

বর্তমানে কোরবানির পশুর মূল্য, আকার, ওজন কিংবা বিরল জাত নিয়ে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিগত সামর্থ্য বা ধর্মীয় অনুপ্রেরণার চেয়ে সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ও ব্যয়বহুল পশুর ছবি প্রচার, দাম নিয়ে আলোচনা কিংবা “কার গরু বড়” এই মানসিকতা কোরবানির আধ্যাত্মিক দিককে অনেকাংশে আড়াল করে দিচ্ছে।

অথচ ইসলামে কোরবানির মূল বিষয় পশুর আকার বা মূল্য নয়; বরং মানুষের নিয়ত ও তাকওয়া। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া। অর্থাৎ, কোরবানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় আত্মত্যাগের মানসিকতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তি ভালো ও মূল্যবান পশু কোরবানি করতে পারেন। ইসলাম কখনোই উৎকৃষ্ট বিষয়কে নিরুৎসাহিত করে না। তবে যখন কোরবানি আত্মপ্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন এর মৌলিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খায়। সেখানে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য ও অপচয় কেবল বৈষম্যের অনুভূতিই বাড়ায়।

কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতায়। গরিব, অসহায় ও প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই এই ইবাদতের সামাজিক তাৎপর্য প্রকাশ পায়। তাই কোরবানিকে যদি কেবল পশুর দামের হিসাব বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীকে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে এর আত্মিক শিক্ষা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

আজ সময় এসেছে কোরবানির প্রকৃত দর্শনে ফিরে যাওয়ার। কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধির অনুশীলন, অহংকার ত্যাগের শিক্ষা এবং মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ। পশুর মূল্য নয়, মানুষের মন ও নিয়তই হোক কোরবানির আসল পরিচয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ

কোরবানি: ইবাদত, না সামাজিক প্রতিযোগিতা?

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এর মূল শিক্ষা ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মানবিকতা। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই কোরবানির এই বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির প্রকৃত চেতনার পাশাপাশি সমাজে এক ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক প্রবণতাও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন জাগে, আজকের কোরবানি কি সত্যিই ইবাদতের অংশ, নাকি তা ধীরে ধীরে সামাজিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিচ্ছে?

বর্তমানে কোরবানির পশুর মূল্য, আকার, ওজন কিংবা বিরল জাত নিয়ে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিগত সামর্থ্য বা ধর্মীয় অনুপ্রেরণার চেয়ে সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ও ব্যয়বহুল পশুর ছবি প্রচার, দাম নিয়ে আলোচনা কিংবা “কার গরু বড়” এই মানসিকতা কোরবানির আধ্যাত্মিক দিককে অনেকাংশে আড়াল করে দিচ্ছে।

অথচ ইসলামে কোরবানির মূল বিষয় পশুর আকার বা মূল্য নয়; বরং মানুষের নিয়ত ও তাকওয়া। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া। অর্থাৎ, কোরবানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় আত্মত্যাগের মানসিকতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তি ভালো ও মূল্যবান পশু কোরবানি করতে পারেন। ইসলাম কখনোই উৎকৃষ্ট বিষয়কে নিরুৎসাহিত করে না। তবে যখন কোরবানি আত্মপ্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন এর মৌলিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খায়। সেখানে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য ও অপচয় কেবল বৈষম্যের অনুভূতিই বাড়ায়।

কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতায়। গরিব, অসহায় ও প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই এই ইবাদতের সামাজিক তাৎপর্য প্রকাশ পায়। তাই কোরবানিকে যদি কেবল পশুর দামের হিসাব বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীকে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে এর আত্মিক শিক্ষা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

আজ সময় এসেছে কোরবানির প্রকৃত দর্শনে ফিরে যাওয়ার। কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধির অনুশীলন, অহংকার ত্যাগের শিক্ষা এবং মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ। পশুর মূল্য নয়, মানুষের মন ও নিয়তই হোক কোরবানির আসল পরিচয়।