ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী

কুড়িয়ে আনা বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে ইতিহাস গড়লো জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 317

দুর্বৃত্তের হামলায় দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কলেজ শিক্ষার্থী তাসফিন ফেরদৌসকে নতুন জীবন দিল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর কুড়িয়ে আনা সেই হাত সফলভাবে পুনঃস্থাপন করে দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা।

গত ৯ নভেম্বর গাজীপুরের টঙ্গিতে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাসফিনের দুই হাত কবজি থেকে কেটে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে টঙ্গী হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছতে সময় লেগে যায় ৬ ঘণ্টারও বেশি। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন এবং নির্ধারিত প্রতিস্থাপন সময়ও অতিক্রান্ত।

তবু হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা। সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম শরীফের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের একটি দল টানা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর তাসফিনের বিচ্ছিন্ন হাত সফলভাবে জোড়া লাগাতে সক্ষম হন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, এত দীর্ঘ সময় পরও বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের এ সফলতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এবং বাংলাদেশে এই প্রথম।

তাসফিন বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হাত আবার ফিরে পাব। ডাক্তারদের আন্তরিক চেষ্টা আর আল্লাহর রহমতে এখন হাত নড়াচড়া করছে। ইনশাআল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আশা করছি।”

তার মা আফরোজা সুমি জানান, হাতটি প্রথমে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এম্বুলেন্সে ওঠার সময় পাওয়া যায়। “ভেবেছিলাম ছেলে আর বাঁচবে না। আজ তার হাত আগের মতো হয়ে উঠছে—এটা আল্লাহর দয়া আর ডাক্তারদের অসাধারণ সেবার ফল,” বলেন তিনি।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, তারা নিয়মিতই বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করছেন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে রোগীরা অনেক সময় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আসেন, ফলে জটিলতা বাড়ে। তিনি বলেন, “শরীরের যেকোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসতে হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দিচ্ছি।”

ট্যাগ :

মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত

কুড়িয়ে আনা বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে ইতিহাস গড়লো জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দুর্বৃত্তের হামলায় দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কলেজ শিক্ষার্থী তাসফিন ফেরদৌসকে নতুন জীবন দিল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর কুড়িয়ে আনা সেই হাত সফলভাবে পুনঃস্থাপন করে দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা।

গত ৯ নভেম্বর গাজীপুরের টঙ্গিতে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাসফিনের দুই হাত কবজি থেকে কেটে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে টঙ্গী হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছতে সময় লেগে যায় ৬ ঘণ্টারও বেশি। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন এবং নির্ধারিত প্রতিস্থাপন সময়ও অতিক্রান্ত।

তবু হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা। সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম শরীফের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের একটি দল টানা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর তাসফিনের বিচ্ছিন্ন হাত সফলভাবে জোড়া লাগাতে সক্ষম হন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, এত দীর্ঘ সময় পরও বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের এ সফলতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এবং বাংলাদেশে এই প্রথম।

তাসফিন বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হাত আবার ফিরে পাব। ডাক্তারদের আন্তরিক চেষ্টা আর আল্লাহর রহমতে এখন হাত নড়াচড়া করছে। ইনশাআল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আশা করছি।”

তার মা আফরোজা সুমি জানান, হাতটি প্রথমে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এম্বুলেন্সে ওঠার সময় পাওয়া যায়। “ভেবেছিলাম ছেলে আর বাঁচবে না। আজ তার হাত আগের মতো হয়ে উঠছে—এটা আল্লাহর দয়া আর ডাক্তারদের অসাধারণ সেবার ফল,” বলেন তিনি।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, তারা নিয়মিতই বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করছেন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে রোগীরা অনেক সময় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আসেন, ফলে জটিলতা বাড়ে। তিনি বলেন, “শরীরের যেকোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসতে হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দিচ্ছি।”