ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ছাত্র সমন্বয়ক খুন, নারী সমন্বয়ক পুলিশ হেফাজতে উত্তরা সৃজনশীল সংসদের ঈদ পুনর্মিলনী : সম্প্রীতি আর ভাতৃত্বের বন্ধন চবির চকোরীর “ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান-২০২৬’ সম্পন্ন টেকপাড়ায় মসজিদে ঢুকে মুসল্লীকে ছুরিকাঘাত, যুবক আটক বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন গর্জনিয়া ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি : জানাজা বুধবার সকালে রামু ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটির আহ্বায়ক কমিটি গঠন আদালতের নির্দেশ: টেকনাফের বনভূমিতে পাকাবাড়ি উচ্ছেদ কক্সবাজারে ইয়াসির আরাফাতের একক চিত্র প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের সাড়া, মেয়াদ বাড়ল সংসদের চলতি অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার চকরিয়ায় বকসু পরিবারের ঈদ পুনর্মিলনী সম্পন্ন চকরিয়ায় মসজিদের পুকুরে মিলল যুবতীর মরদেহ সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান কায়সার মারা গেছেন : জানাজা বাদ এশা বায়তুশ শরফে জামিন পেলেন ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিক প্রাইভেটকারের ড্যাশবোর্ডে ২৮ হাজার ইয়াবা, চালক গ্রেপ্তার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি সরকার গ্রহণ করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে মৃত্যু প্রতিরোধে যুক্ত হলো ২টি রেসকিউ বোট

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক গোসলে নামে। তাদের নিরাপত্তায় ২০১৪ সাল থেকে কাজ করে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর সি সেইফ লাইফগার্ড। মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড বর্তমানে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের লক্ষ্যে কাজ করছে জীবন বাজি রেখে। লাইফগার্ড জানায়, ২০১৪ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৭৪২ জন কে জীবিত উদ্ধার করেছে লাইফগার্ড। তবে উদ্ধার করার জন্য সরঞ্জাম খুবই কম। একারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বেগ পেতে হয়। উদ্বার কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে রেসকিউ বোট ব্যবহার করা হয়।

এবার লাইফগার্ডের জন্য রেসকিউ বোট নিয়ে সহায়তায় এগিয়ে এলো সামুদ্রিক ও জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং জীবনচক্র সমাধানের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ওয়ার্টসিলা। ওয়ার্টসিলা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২ টি উন্নতমানের রেসকিউ বোট দেওয়া হয় সি সেইফ লাইফগার্ডকে।

রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে রেসকিউ বোট হস্তান্তর করা হয়।

এসময় সিআইপিআরবির ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. আমিনুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য রেসকিউ বোট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা সরঞ্জাম। শুধুমাত্র গত বছরই ১৫০ মতো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে লাইফগার্ড জীবিত উদ্ধার করেছে। রেসকিউ বোট এজন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। এর মাধ্যমে আমাদের রেসকিউ কার্যক্রম চালাতে আরও বেশি সহজ হবে।

ওয়ার্টসিলা বাংলাদেশ লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিল্লুর রহিম জানান, ওয়ার্টসিলা হচ্ছে সামুদ্রিক ও জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং জীবনচক্র সমাধানের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয়। গ্রাহকদের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা ক্রমাগত উন্নত করতে সহায়তা করার জন্য টেকসই প্রযুক্তি এবং পরিষেবাগুলিতে উদ্ভাবনের উপর জোর দিই। আমরা লাইফগার্ডের মহৎ এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখর জন্য চেষ্টা করব যাতে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প এগিয়ে যায়।

এসময় টুয়াকের উপদেষ্টা আনোয়ার কামাল বলেন, কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী করার প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সি সেইফ লাইফগার্ড তারই একটা অংশ। লাইফগার্ড জন্মলগ্ন থেকে পর্যটকদের রক্ষা করার জন্য যে উদারতা দেখিয়েছে তাদের সহায়তা করে আরও একধাপ এগিয়ে দিল ওয়ার্টসিলা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সহ কক্সবাজারবাসীর দায়িত্ব। এক্ষেত্রে লাইফগার্ডের জন্য বোটের প্রয়োজন হয়। লাইফগার্ডকে দুটি বোট দিয়ে সহযোগিতা করায় ওয়ার্টসিলাকে ধন্যবাদ। আশাকরি তারা এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিআইপিআরবি এর সিনিয়র এডভাইজার সাইকুল ইসলাম হেলাল, ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. ইয়াসির ইফতেখার, ওয়ার্টসিলার ম্যনেজার মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী রনি, সি সেইফ প্রজেক্টের ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ, সি সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সিনিয়র লাইফগার্ড সাইফুল্লাহ সিফাত এবং মোহাম্মদ ওসমান। এসময় ট্যুরিস্ট পুলিশ, ওয়ার্টসিলার উর্ধতন কর্মকর্তা, সিআইপিআরবি এবং লাইফগার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লাইফগার্ড জানায়, রেসকিউ বোট হচ্ছে একটি বিশেষভাবে তৈরি করা ছোট উদ্বার যান (সার্ফ বোডের মতন দেখতে) যা হাতে চালিত, সহজে হস্তান্তরযোগ্য, সমুদ্রের ঢেউ অতিক্রম করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডুবন্ত ব্যাক্তির কাছে পৌঁছানোর জন্যে একটি কার্যকরী উদ্বার সরঞ্জাম। রেসকিউ বোট দ্বারা একাধিক ডুবন্ত ব্যাক্তিদের সমুদ্র সৈকত হতে ১০০ মিটার থেকে ১০০০ মিটার দূরবর্তী স্থান হতে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একটি রেসকিউ বোট জল উদ্ধার অভিযানের জন্য বিভিন্ন জরুরী পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। এটি একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা বোট যা জলজ পরিবেশে দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের উদ্ধার ও পরিবহনে সহায়তা করে। একটি রেসকিউ স্লেজ বা একটি সার্ফবোট স্ট্রেচার হিসাবেও পরিচিত, এটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধার অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে জলের খেলায় বা জীবন রক্ষার পরিস্থিতিতে।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ছাত্র সমন্বয়ক খুন, নারী সমন্বয়ক পুলিশ হেফাজতে

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে মৃত্যু প্রতিরোধে যুক্ত হলো ২টি রেসকিউ বোট

আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক গোসলে নামে। তাদের নিরাপত্তায় ২০১৪ সাল থেকে কাজ করে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর সি সেইফ লাইফগার্ড। মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড বর্তমানে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের লক্ষ্যে কাজ করছে জীবন বাজি রেখে। লাইফগার্ড জানায়, ২০১৪ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৭৪২ জন কে জীবিত উদ্ধার করেছে লাইফগার্ড। তবে উদ্ধার করার জন্য সরঞ্জাম খুবই কম। একারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বেগ পেতে হয়। উদ্বার কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে রেসকিউ বোট ব্যবহার করা হয়।

এবার লাইফগার্ডের জন্য রেসকিউ বোট নিয়ে সহায়তায় এগিয়ে এলো সামুদ্রিক ও জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং জীবনচক্র সমাধানের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ওয়ার্টসিলা। ওয়ার্টসিলা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২ টি উন্নতমানের রেসকিউ বোট দেওয়া হয় সি সেইফ লাইফগার্ডকে।

রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে রেসকিউ বোট হস্তান্তর করা হয়।

এসময় সিআইপিআরবির ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. আমিনুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য রেসকিউ বোট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা সরঞ্জাম। শুধুমাত্র গত বছরই ১৫০ মতো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে লাইফগার্ড জীবিত উদ্ধার করেছে। রেসকিউ বোট এজন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। এর মাধ্যমে আমাদের রেসকিউ কার্যক্রম চালাতে আরও বেশি সহজ হবে।

ওয়ার্টসিলা বাংলাদেশ লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিল্লুর রহিম জানান, ওয়ার্টসিলা হচ্ছে সামুদ্রিক ও জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং জীবনচক্র সমাধানের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয়। গ্রাহকদের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা ক্রমাগত উন্নত করতে সহায়তা করার জন্য টেকসই প্রযুক্তি এবং পরিষেবাগুলিতে উদ্ভাবনের উপর জোর দিই। আমরা লাইফগার্ডের মহৎ এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখর জন্য চেষ্টা করব যাতে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প এগিয়ে যায়।

এসময় টুয়াকের উপদেষ্টা আনোয়ার কামাল বলেন, কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী করার প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সি সেইফ লাইফগার্ড তারই একটা অংশ। লাইফগার্ড জন্মলগ্ন থেকে পর্যটকদের রক্ষা করার জন্য যে উদারতা দেখিয়েছে তাদের সহায়তা করে আরও একধাপ এগিয়ে দিল ওয়ার্টসিলা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সহ কক্সবাজারবাসীর দায়িত্ব। এক্ষেত্রে লাইফগার্ডের জন্য বোটের প্রয়োজন হয়। লাইফগার্ডকে দুটি বোট দিয়ে সহযোগিতা করায় ওয়ার্টসিলাকে ধন্যবাদ। আশাকরি তারা এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিআইপিআরবি এর সিনিয়র এডভাইজার সাইকুল ইসলাম হেলাল, ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. ইয়াসির ইফতেখার, ওয়ার্টসিলার ম্যনেজার মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী রনি, সি সেইফ প্রজেক্টের ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ, সি সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সিনিয়র লাইফগার্ড সাইফুল্লাহ সিফাত এবং মোহাম্মদ ওসমান। এসময় ট্যুরিস্ট পুলিশ, ওয়ার্টসিলার উর্ধতন কর্মকর্তা, সিআইপিআরবি এবং লাইফগার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লাইফগার্ড জানায়, রেসকিউ বোট হচ্ছে একটি বিশেষভাবে তৈরি করা ছোট উদ্বার যান (সার্ফ বোডের মতন দেখতে) যা হাতে চালিত, সহজে হস্তান্তরযোগ্য, সমুদ্রের ঢেউ অতিক্রম করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডুবন্ত ব্যাক্তির কাছে পৌঁছানোর জন্যে একটি কার্যকরী উদ্বার সরঞ্জাম। রেসকিউ বোট দ্বারা একাধিক ডুবন্ত ব্যাক্তিদের সমুদ্র সৈকত হতে ১০০ মিটার থেকে ১০০০ মিটার দূরবর্তী স্থান হতে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একটি রেসকিউ বোট জল উদ্ধার অভিযানের জন্য বিভিন্ন জরুরী পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। এটি একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা বোট যা জলজ পরিবেশে দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের উদ্ধার ও পরিবহনে সহায়তা করে। একটি রেসকিউ স্লেজ বা একটি সার্ফবোট স্ট্রেচার হিসাবেও পরিচিত, এটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধার অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে জলের খেলায় বা জীবন রক্ষার পরিস্থিতিতে।