ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সাথে বিজিবির গোলাগুলি : ২ ডাকাত আটক কোরবানির পশুর নামকরণ ও ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে প্রেমিকের ওপর চড়াও পুলিশ, লঙ্কাকাণ্ড ৪০০ জনকে ঔষুধসহ ফ্রি চিকিৎসা দিলো কর্মবীর মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা যাত্রীর মৃত্যু  টেকনাফে মাদক মামলায় ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি জহির গ্রেফতার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে জেলা বিএনপির খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল পেকুয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত সবাইকে দেশ গঠনে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ ২০ হাজার টাকায় আড়াই মাসের শিশু কেনার চেষ্টা, পুলিশ হেফাজতে পর্যটক দম্পতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ছাত্রদলের রাজনীতি ও স্বপ্নময় বাংলাদেশের অভিযাত্রা পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের আত্মপ্রকাশ সভাপতি মাঈনুদ্দিন, সম্পাদক হুমায়ুন সেন্টমার্টিনে সালিশ বৈঠকে সাবেক মেম্বারের নেতৃত্বে হামলা : আহত বর্তমান মেম্বার শিল্পী ইয়াসির আরাফাত-এর দ্বিতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু ৩০ মে

কক্সবাজারের ভূমিহীনদের নিয়ে সংসদে এমপি কাজলের প্রশ্ন, জবাবে যা জানালেন ভূমিমন্ত্রী

কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের প্রশ্নে উঠে এলো ভূমিহীনদের আবাসন সংকট; দেশে ২০ হাজার ভূমিহীন–গৃহহীন পরিবারকে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা জানালো ভূমিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার ( ৩১ মার্চ ) সংসদ অধিবেশনে স্পিকার কক্সবাজার -৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি কক্সবাজারের ভূমিহীন–গৃহহীন মানুষদের আবাসন সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, দেশে ভূমিহীনদের আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে কি না; হয়ে থাকলে কক্সবাজার জেলার ভূমিহীনদের জন্যও সেই প্রকল্পের আওতায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে কি না। তাঁর প্রশ্নে মূলত কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের ভূমিহীন সংকট ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রই প্রতিফলিত হয়।

এমপি লুৎফুর রহমান কাজল এর উত্থাপিত এ প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় ‘গুচ্ছগ্রাম তৃতীয় পর্যায়’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করেছে। প্রাক্কলিত ৭৭৬ দশমিক ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দেশের ভূমিহীন, গৃহহীন ও ঠিকানাবিহীন অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা।

ভূমিমন্ত্রী জানান, ‘গুচ্ছগ্রাম তৃতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ২০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় ইতোমধ্যে সুপারিশ পেয়েছে এবং বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন।

কক্সবাজারের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, এই প্রকল্পে কক্সবাজারসহ দেশের ৬৪ জেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাসজমি চিহ্নিত করে সেখানে দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর নির্মাণের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ঘরে বারান্দা, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘরের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, ন্যূনতম মানবিক জীবনযাপনের পরিবেশও নিশ্চিত করা যায়।

অভিজ্ঞরা বলছেন, কক্সবাজারের জন্য এ প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ এ জেলায় উপকূলীয় ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জোয়ারে প্লাবন আর পাহাড়ি ধসের কারণে বহু মানুষ প্রতি বছর ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন করে ‘ভূমিহীন–গৃহহীন’ হয়ে পড়ছে। এসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আত্মীয়ের বাড়ি, অনিরাপদ বাঁধের ওপর, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বা শহরের বস্তিতে অস্থায়ীভাবে বাস করে, যেখানে জমির মালিকানা নেই, নিরাপদ ঘর নেই, স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানিরও ঘাটতি থাকে। গুচ্ছগ্রাম তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় খাসজমিতে পরিকল্পিতভাবে দুই কক্ষের ঘর, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘরসহ পুনর্বাসন হলে একদিকে যেমন কক্সবাজারের উপকূল ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি কিছুটা কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকানাহীন মানুষদের জন্য স্থায়ী ঠিকানা, ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতির পথ খুলে যাবে- যা স্থানীয় সমাজ–অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, আমরা একটি মানবিক ও উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি, যেখানে একজন মানুষও ঠিকানাবিহীন থাকবে না। কক্সবাজার-৩ আসনের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভূমিহীনদের আবাসন সংকট নিরসনে আমার প্রশ্নের জবাবে মাননীয় ভূমিমন্ত্রী যে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন, তা আমাদের জন্য বড় পাওনা। এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের পর আমি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবো যাতে আমার এলাকার প্রতিটি ভূমিহীন পরিবার সুন্দরভাবে পুনর্বাসিত হতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সাথে বিজিবির গোলাগুলি : ২ ডাকাত আটক

কক্সবাজারের ভূমিহীনদের নিয়ে সংসদে এমপি কাজলের প্রশ্ন, জবাবে যা জানালেন ভূমিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের প্রশ্নে উঠে এলো ভূমিহীনদের আবাসন সংকট; দেশে ২০ হাজার ভূমিহীন–গৃহহীন পরিবারকে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা জানালো ভূমিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার ( ৩১ মার্চ ) সংসদ অধিবেশনে স্পিকার কক্সবাজার -৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি কক্সবাজারের ভূমিহীন–গৃহহীন মানুষদের আবাসন সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, দেশে ভূমিহীনদের আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে কি না; হয়ে থাকলে কক্সবাজার জেলার ভূমিহীনদের জন্যও সেই প্রকল্পের আওতায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে কি না। তাঁর প্রশ্নে মূলত কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের ভূমিহীন সংকট ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রই প্রতিফলিত হয়।

এমপি লুৎফুর রহমান কাজল এর উত্থাপিত এ প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় ‘গুচ্ছগ্রাম তৃতীয় পর্যায়’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করেছে। প্রাক্কলিত ৭৭৬ দশমিক ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দেশের ভূমিহীন, গৃহহীন ও ঠিকানাবিহীন অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা।

ভূমিমন্ত্রী জানান, ‘গুচ্ছগ্রাম তৃতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ২০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় ইতোমধ্যে সুপারিশ পেয়েছে এবং বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন।

কক্সবাজারের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, এই প্রকল্পে কক্সবাজারসহ দেশের ৬৪ জেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাসজমি চিহ্নিত করে সেখানে দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর নির্মাণের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ঘরে বারান্দা, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘরের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, ন্যূনতম মানবিক জীবনযাপনের পরিবেশও নিশ্চিত করা যায়।

অভিজ্ঞরা বলছেন, কক্সবাজারের জন্য এ প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ এ জেলায় উপকূলীয় ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জোয়ারে প্লাবন আর পাহাড়ি ধসের কারণে বহু মানুষ প্রতি বছর ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন করে ‘ভূমিহীন–গৃহহীন’ হয়ে পড়ছে। এসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আত্মীয়ের বাড়ি, অনিরাপদ বাঁধের ওপর, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বা শহরের বস্তিতে অস্থায়ীভাবে বাস করে, যেখানে জমির মালিকানা নেই, নিরাপদ ঘর নেই, স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানিরও ঘাটতি থাকে। গুচ্ছগ্রাম তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় খাসজমিতে পরিকল্পিতভাবে দুই কক্ষের ঘর, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘরসহ পুনর্বাসন হলে একদিকে যেমন কক্সবাজারের উপকূল ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি কিছুটা কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকানাহীন মানুষদের জন্য স্থায়ী ঠিকানা, ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতির পথ খুলে যাবে- যা স্থানীয় সমাজ–অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, আমরা একটি মানবিক ও উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি, যেখানে একজন মানুষও ঠিকানাবিহীন থাকবে না। কক্সবাজার-৩ আসনের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভূমিহীনদের আবাসন সংকট নিরসনে আমার প্রশ্নের জবাবে মাননীয় ভূমিমন্ত্রী যে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন, তা আমাদের জন্য বড় পাওনা। এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের পর আমি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবো যাতে আমার এলাকার প্রতিটি ভূমিহীন পরিবার সুন্দরভাবে পুনর্বাসিত হতে পারে।