ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন নাফ নদী পেরিয়ে ইয়াবার চালান, পিস্তলসহ পাচারকারী আটক আনসার বাহিনী প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আনা গরুসহ ট্রাক জব্দ, আটক ৫ মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না -জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত উখিয়ায় মানববন্ধন করে আলোচিত ‘ছৈয়দাখাতুন’ হত্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি! জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদার জন্মভিটায় চুরি, উধাও ২০০ বছরের পুরনো সিন্ধুক ওশান প্যারাডাইসে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি: শতাধিক কর্মীর ব্লাড গ্রুপিং, ১২ জনের রক্ত সংগ্রহ কুতুবদিয়া ৩দিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন মহেশখালীতে জমকালো আয়োজনে ‘ভূমিসেবা মেলা’ উদ্বোধন রাস্তার পাশে মিলল ভবঘুরে বৃদ্ধের মরদেহ খেলতে গিয়ে পুকুরে তলিয়ে যায় শিশু সাদিক ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: দুই মাস পর আটক প্রধান আসামি ঝাউতলায় পৌরসভার নালা দখল করে দোকান নির্মাণ, নীরব পৌর প্রশাসন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তল-গুলি ও ৪৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

উপদেষ্টা মাহফুজ: ৭২ পূর্ব শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হবে

জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে ছাত্র নেতৃত্বে সর্বজনের অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

মধ্যপন্থি ও ভবিষ্যতমুখি এ অভ্যুত্থানে ডান-বাম, চরম বা নরম পন্থার আশ্রয় নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বাইরের আশকারায় জুলাই বিপ্লবীদের ট্যাগ বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা না করে জুলাই বিপ্লবীদের সঙ্গে মৈত্রী করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা রাষ্ট্রের ভিত্তির সঙ্গে গাদ্দারি বলেও উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা।

বাংলাদেশের জন্মে শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক অবদার রয়েছে উল্লেখ করে ৭২ পূর্ব শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে “মুক্তিযুদ্ধ মানে বাংলাদেশ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মানে বাংলাদেশ” শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহফুজ আলম।

মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

“মুক্তিযুদ্ধের পর কী হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা করুন। ইতিহাস পর্যালোচনা করুন। কোনো সমস্যা নেই। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কি কী ঘটেছে, তা নিয়েও তর্ক উঠতে পারে। কিন্তু, সেসবই হবে মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিয়ে। যেমন- শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা নিয়ে আমরা বলব। উনি ফ্যাসিস্ট ছিলেন। কিন্তু, বাংলাদেশের জন্মে অনেক জাতীয় নেতৃত্বের মতো উনার অবদান অনস্বীকার্য। তাই, আমরা ‘৭২  পূর্ব শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাপ্য গুরুত্ব দিব।’

মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ ফ্যাসিস্ট হতে পারেন, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ছিল আপামর জনগণের লড়াই। মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের ফ্যাসিস্ট, ইসলামফোবিক ও খুনি হয়ে ওঠার কারণে আপনি খোদ মুক্তিযুদ্ধ বা সব মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বীকার কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন না। এটা রাষ্ট্রের ভিত্তির সাথে গাদ্দারি!

আমরা ভুলে যাই, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী ১০ বছরের ইতিহাস ছিল, ফ্যাসিস্ট মুজিববাদী মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতবিরোধী, দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যকার লড়াইয়ের ইতিহাস। কিন্তু, সেজন্য আধিপত্যবাদ বিরোধী কোনো মুক্তিযোদ্ধা খোদ মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার দু:সাহস করেননি। এখানেই পিকিংপন্থিদের সঙ্গে অন্যদের তফাত।

এ দেশের মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্মকে স্বীকার করেই এ দেশে রাজনীতি করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে আপনাদের আমরা বাংলাদেশের পক্ষের, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে মেনে নেব না। আর, এ গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের পরে ফ্যাসিস্ট  মুজিববাদী প্রকল্পের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, বাকশাল ২.০ এর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধেরই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। এ গণঅভ্যুত্থানে বরং শেখ পরিবার ও মুজিববাদী প্রকল্প  থেকে মুক্তিযুদ্ধ রিক্লেইমড হলো।

বাংলাদেশপন্থিদের অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধপন্থি হতে হবে, তবে এটাও সত্য যে, মুক্তিযুদ্ধ করা অনেকেই ফ্যাসিস্ট ও তাঁবেদার হয়ে উঠেছিলেন। আজ তারা ছাত্র-জনতার কাছে পরাজিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা যাবেন, তারাও মজলুম বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে যাওয়ার কারণে অতীতে পরাজিত হয়েছেন, সামনেও পরাজিত হতে বাধ্য।

জুলাই সুযোগ নিয়ে এসেছে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার। লীগের বিচারকার্য সম্পন্ন করে রিকন্সাইল করতেও আমরা আগ্রহী ছিলাম। অথচ, দিল্লীর আশ্রয়ে থেকে দেশবিরোধী চক্রান্ত করাকেই তারা বেছে নিল। আপনারাও ইতিহাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। জাতিকে বিভাজন থেকে রক্ষা করতে অবশ্যই ‘৭১ ও ‘২৪ কে নি:শর্ত ও নিরঙ্কুশ মেনে এগোতে হবে।

পুনশ্চ: জুলাই বাংলাদেশের ধর্ম বর্ণ লিঙ্গ নির্বিশেষে ছাত্র নেতৃত্বে সর্বজনের অভ্যুত্থান। মধ্যপন্থি ও ভবিষ্যতমুখি এ অভ্যুত্থানে ডান-বাম, চরম বা নরম পন্থার আশ্রয় নেই। সুতরাং, বাইরের আশকারায় কেউ জুলাই বিপ্লবীদের ট্যাগ বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং, জুলাই বিপ্লবীদের সঙ্গে মৈত্রী করুন।

জুলাই গণের লাইনে আছে, ইতিহাসের পক্ষে আছে, আপনারা জুলাইয়ের ছাত্র নেতৃত্বকে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিরা ইতিহাসের উল্টোদিকে হাঁটছেন। আসুন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখি এবং রাষ্ট্র সংস্কার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবাই মিলে অংশগ্রহণ করি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন

উপদেষ্টা মাহফুজ: ৭২ পূর্ব শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হবে

আপডেট সময় : ০৫:২৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে ছাত্র নেতৃত্বে সর্বজনের অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

মধ্যপন্থি ও ভবিষ্যতমুখি এ অভ্যুত্থানে ডান-বাম, চরম বা নরম পন্থার আশ্রয় নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বাইরের আশকারায় জুলাই বিপ্লবীদের ট্যাগ বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা না করে জুলাই বিপ্লবীদের সঙ্গে মৈত্রী করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা রাষ্ট্রের ভিত্তির সঙ্গে গাদ্দারি বলেও উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা।

বাংলাদেশের জন্মে শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক অবদার রয়েছে উল্লেখ করে ৭২ পূর্ব শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে “মুক্তিযুদ্ধ মানে বাংলাদেশ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মানে বাংলাদেশ” শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহফুজ আলম।

মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

“মুক্তিযুদ্ধের পর কী হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা করুন। ইতিহাস পর্যালোচনা করুন। কোনো সমস্যা নেই। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কি কী ঘটেছে, তা নিয়েও তর্ক উঠতে পারে। কিন্তু, সেসবই হবে মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিয়ে। যেমন- শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা নিয়ে আমরা বলব। উনি ফ্যাসিস্ট ছিলেন। কিন্তু, বাংলাদেশের জন্মে অনেক জাতীয় নেতৃত্বের মতো উনার অবদান অনস্বীকার্য। তাই, আমরা ‘৭২  পূর্ব শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাপ্য গুরুত্ব দিব।’

মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ ফ্যাসিস্ট হতে পারেন, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ছিল আপামর জনগণের লড়াই। মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের ফ্যাসিস্ট, ইসলামফোবিক ও খুনি হয়ে ওঠার কারণে আপনি খোদ মুক্তিযুদ্ধ বা সব মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বীকার কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন না। এটা রাষ্ট্রের ভিত্তির সাথে গাদ্দারি!

আমরা ভুলে যাই, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী ১০ বছরের ইতিহাস ছিল, ফ্যাসিস্ট মুজিববাদী মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতবিরোধী, দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যকার লড়াইয়ের ইতিহাস। কিন্তু, সেজন্য আধিপত্যবাদ বিরোধী কোনো মুক্তিযোদ্ধা খোদ মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার দু:সাহস করেননি। এখানেই পিকিংপন্থিদের সঙ্গে অন্যদের তফাত।

এ দেশের মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্মকে স্বীকার করেই এ দেশে রাজনীতি করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে আপনাদের আমরা বাংলাদেশের পক্ষের, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে মেনে নেব না। আর, এ গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের পরে ফ্যাসিস্ট  মুজিববাদী প্রকল্পের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, বাকশাল ২.০ এর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধেরই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। এ গণঅভ্যুত্থানে বরং শেখ পরিবার ও মুজিববাদী প্রকল্প  থেকে মুক্তিযুদ্ধ রিক্লেইমড হলো।

বাংলাদেশপন্থিদের অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধপন্থি হতে হবে, তবে এটাও সত্য যে, মুক্তিযুদ্ধ করা অনেকেই ফ্যাসিস্ট ও তাঁবেদার হয়ে উঠেছিলেন। আজ তারা ছাত্র-জনতার কাছে পরাজিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা যাবেন, তারাও মজলুম বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে যাওয়ার কারণে অতীতে পরাজিত হয়েছেন, সামনেও পরাজিত হতে বাধ্য।

জুলাই সুযোগ নিয়ে এসেছে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার। লীগের বিচারকার্য সম্পন্ন করে রিকন্সাইল করতেও আমরা আগ্রহী ছিলাম। অথচ, দিল্লীর আশ্রয়ে থেকে দেশবিরোধী চক্রান্ত করাকেই তারা বেছে নিল। আপনারাও ইতিহাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। জাতিকে বিভাজন থেকে রক্ষা করতে অবশ্যই ‘৭১ ও ‘২৪ কে নি:শর্ত ও নিরঙ্কুশ মেনে এগোতে হবে।

পুনশ্চ: জুলাই বাংলাদেশের ধর্ম বর্ণ লিঙ্গ নির্বিশেষে ছাত্র নেতৃত্বে সর্বজনের অভ্যুত্থান। মধ্যপন্থি ও ভবিষ্যতমুখি এ অভ্যুত্থানে ডান-বাম, চরম বা নরম পন্থার আশ্রয় নেই। সুতরাং, বাইরের আশকারায় কেউ জুলাই বিপ্লবীদের ট্যাগ বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং, জুলাই বিপ্লবীদের সঙ্গে মৈত্রী করুন।

জুলাই গণের লাইনে আছে, ইতিহাসের পক্ষে আছে, আপনারা জুলাইয়ের ছাত্র নেতৃত্বকে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিরা ইতিহাসের উল্টোদিকে হাঁটছেন। আসুন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখি এবং রাষ্ট্র সংস্কার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবাই মিলে অংশগ্রহণ করি।