ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মায়ানমার থেকে আসছিলো লুঙ্গি,বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছিলো সিমেন্ট: পৃথক অভিযানে আটক ২২ হোয়াইক্যংয়ে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ১ কারবারি গ্রেফতার কক্সবাজারে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিরিজ জিতলো পাকিস্তান স্ট্রোক হওয়ার প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টাকে কেন ‘সোনালি সময়’ বলা হয় সদর ইউএনওকে গ্রেফতার করতে বললো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া পর্যটক আপেল হাতে জয়ার বার্তা: আপেল হয়ো না ঢাকা ১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ কমান্ডার সোবাহান যে বীরের কন্ঠে আসে কক্সবাজার মুক্তির ঘোষনা… ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১: যেভাবে মুক্ত হয় কক্সবাজার যেভাবে দুআ -প্রার্থনা করলে আল্লাহ বেশি খুশি হন জুমার দিন আল্লাহর শেখানো ৪টি দোয়া পাঠ করুন কসউবিয়ান শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫: মেধা, মানবিকতা ও ১৫০ বছরের ঐতিহ্যে নতুন সংযোজন ব্যানার ফেস্টুন সরাতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের লুৎফুর রহমান কাজলের অনুরোধ অবশেষে শিশু সাজিদকে উদ্ধার তফসিল ঘোষনা জাতির আরেকটি বিজয়- কুতুবদিয়ায় বিএনপির আনন্দ মিছিলে বক্তারা

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ানমার থেকে আসছিলো লুঙ্গি,বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছিলো সিমেন্ট: পৃথক অভিযানে আটক ২২

This will close in 6 seconds

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।