ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী কুতুবদিয়ায় উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে দিনব্যাপী কর্মসূচি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন, ক্ষতি প্রায় ১২ লাখ টাকা কক্সবাজারে ১২ ঘন্টার সফরে ১১ কর্মসূচীতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজের দোকানে ফাঁসিতে ঝুলেছে মুজিব: পরকিয়া ও টাকার লেনদেন বলছে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা বৃহত্তর মনোহরখালী ঐক্য পরিষদের জার্সি উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সফর, ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক : লাখো মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো কউকের নতুন চেয়ারম্যান পেকুয়ার প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আরসা প্রধান আতাউল্লাহ : আরাকানে উত্থান, রহস্যে ঘেরা যত কর্মকান্ড

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত-সমালোচিত সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-র প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি অবশেষে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। তার গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাকিস্তানে জন্ম, তালেবানের প্রশিক্ষণ

আতাউল্লাহর জন্ম পাকিস্তানে হলেও তার শৈশব কেটেছে সৌদি আরবে। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর তিনি তালেবান সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন এবং সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কথিত আছে, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় তিনি রোহিঙ্গাদের কিছু পরিবার দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তাদের সহায়তায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করেন।

আল-ইয়াকিন থেকে আরসা গঠন

মিয়ানমারে প্রবেশের পর তিনি আল-ইয়াকিন নামে একটি গোষ্ঠী গড়ে তোলেন, যা পরে আরসা নামে পরিচিত হয়। শুরুতে তারা স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতন চালায়। ভারী অস্ত্র হাতে ছবি তুলে রোহিঙ্গা তরুণদের সংগঠনে যোগ দিতে বাধ্য করত তারা। একসময় সংগঠনটি বড় আকার ধারণ করে এবং মিয়ানমারের নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে হামলা চালায়।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহ

২০১৭ সালে যখন আরসা মিয়ানমারের পুলিশের চেকপোস্টে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই প্রশ্ন ওঠে—কেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী আগেভাগে এ হামলা প্রতিহত করেনি? অনেকেই সন্দেহ করেন, আতাউল্লাহ হয়তো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গোপন চর হিসেবে কাজ করছিল। তার এই কর্মকাণ্ডের জের ধরে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু করে, যার ফলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, যা এখন বেড়ে ১২ লাখেরও বেশি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবল্লাহ হত্যার অভিযোগ

আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যিনি আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দেখা করেন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনএছাড়া রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী ও মাঝিদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মাদক, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ

আরসার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তার সংগঠন নানাভাবে সহিংসতা চালিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা

সর্বশেষ, আতাউল্লাহ ও তার সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এক উর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পরই বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আরও কঠোর হয় এবং অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটকের পর স্বস্তি

আতাউল্লাহর গ্রেপ্তারের পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতা, ভয়ভীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেতে তারা আশাবাদী।

মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী আতাউল্লাহ গ্রেফতারের খবরে মুহিবুল্লাহর এক নিকট আত্মীয় বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রত্যাশা করেন অচিরেই মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুহিবুল্লাহ’র আরেক সহকর্মী বলেন, ” জুনুনিই সরাসরি মাস্টার মুহিবুল্লাহকে হুমকি দিয়েছিলো। তার নির্দেশে হত্যাকান্ড হয়েছে, সে মুহিবুল্লাহকে মাথা ব্যাথার কারণ হিসেবে দেখতো।”

আরসার হাতে গুমের শিকার হয়েছিলেন ১২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আমিন, প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলে এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন নির্যাতনের চিহ্ন।

আমিন বলেন, ” আতাউল্লাহ রোহিঙ্গাদের মাথা বিক্রি করেছে, তার গ্রেফতারে আমরা খুশি হয়েছি। আশা করছি তাকে বাংলাদেশ কঠোর শাস্তি দিবে।”

এদিকে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী

আরসা প্রধান আতাউল্লাহ : আরাকানে উত্থান, রহস্যে ঘেরা যত কর্মকান্ড

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত-সমালোচিত সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-র প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি অবশেষে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। তার গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাকিস্তানে জন্ম, তালেবানের প্রশিক্ষণ

আতাউল্লাহর জন্ম পাকিস্তানে হলেও তার শৈশব কেটেছে সৌদি আরবে। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর তিনি তালেবান সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন এবং সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কথিত আছে, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় তিনি রোহিঙ্গাদের কিছু পরিবার দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তাদের সহায়তায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করেন।

আল-ইয়াকিন থেকে আরসা গঠন

মিয়ানমারে প্রবেশের পর তিনি আল-ইয়াকিন নামে একটি গোষ্ঠী গড়ে তোলেন, যা পরে আরসা নামে পরিচিত হয়। শুরুতে তারা স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতন চালায়। ভারী অস্ত্র হাতে ছবি তুলে রোহিঙ্গা তরুণদের সংগঠনে যোগ দিতে বাধ্য করত তারা। একসময় সংগঠনটি বড় আকার ধারণ করে এবং মিয়ানমারের নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে হামলা চালায়।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহ

২০১৭ সালে যখন আরসা মিয়ানমারের পুলিশের চেকপোস্টে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই প্রশ্ন ওঠে—কেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী আগেভাগে এ হামলা প্রতিহত করেনি? অনেকেই সন্দেহ করেন, আতাউল্লাহ হয়তো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গোপন চর হিসেবে কাজ করছিল। তার এই কর্মকাণ্ডের জের ধরে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু করে, যার ফলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, যা এখন বেড়ে ১২ লাখেরও বেশি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবল্লাহ হত্যার অভিযোগ

আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যিনি আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দেখা করেন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনএছাড়া রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী ও মাঝিদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মাদক, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ

আরসার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তার সংগঠন নানাভাবে সহিংসতা চালিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা

সর্বশেষ, আতাউল্লাহ ও তার সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এক উর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পরই বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আরও কঠোর হয় এবং অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটকের পর স্বস্তি

আতাউল্লাহর গ্রেপ্তারের পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতা, ভয়ভীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেতে তারা আশাবাদী।

মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী আতাউল্লাহ গ্রেফতারের খবরে মুহিবুল্লাহর এক নিকট আত্মীয় বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রত্যাশা করেন অচিরেই মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুহিবুল্লাহ’র আরেক সহকর্মী বলেন, ” জুনুনিই সরাসরি মাস্টার মুহিবুল্লাহকে হুমকি দিয়েছিলো। তার নির্দেশে হত্যাকান্ড হয়েছে, সে মুহিবুল্লাহকে মাথা ব্যাথার কারণ হিসেবে দেখতো।”

আরসার হাতে গুমের শিকার হয়েছিলেন ১২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আমিন, প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলে এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন নির্যাতনের চিহ্ন।

আমিন বলেন, ” আতাউল্লাহ রোহিঙ্গাদের মাথা বিক্রি করেছে, তার গ্রেফতারে আমরা খুশি হয়েছি। আশা করছি তাকে বাংলাদেশ কঠোর শাস্তি দিবে।”

এদিকে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।