ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা পেকুয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু সম্মান ক্ষুন্ন করতে ও পাওনা টাকা না দিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে:ফখরুল ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস চালু ৩৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক,ঈদগাঁও থানার হেফাজত থেকে পালাল কিশোর! উখিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবাসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, পালালেন আরও দুজন  অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, আসামি চারজন ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ১২% ইউরোপের ৩ দেশ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ড. ইউনূস, আ.লীগ-জামায়াতকে নিয়ে যা বললেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রাজনীতি, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনসূ, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বার্তাসংস্থা পিটিআইকে নিজের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের বাড়িতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য বলেছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং বাংলাদেশ কীভাবে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে সে ব্যাপারেও তিনি চিন্তিত। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতকে পূর্বে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যেন ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় থাকে সেটি চাওয়া থাকবে তার।

অমর্ত্য সেন বলেন, “বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। কারণ আমার মধ্যে শক্তিশালী বাঙালী পরিচয় রয়েছে। আমি ঢাকায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি এবং সেখানেই আমার শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলাম। ঢাকা ছাড়াও আমি আমার পূর্বপুরুষের ভিটা মানিকগঞ্জে প্রায়ই যেতাম। অপরদিকে মায়ের দিক দিয়ে আমি বিক্রমপুর গিয়েছি। বিশেষ করে সোনারঙে। এই জায়গাগুলো ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদের মতো আমিও চিন্তিত কীভাবে বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে।”

অমর্ত্য তার ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় ঢাকায় কাটিয়েছেন। তিনি ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন স্কুলে চলে যান এবং সেখানেই পড়াশোনা চালান।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়াও সেনাবাহিনী নিয়েও কথা বলেন এই নোবেলজয়ী। দেশে সেনাশাসন জারির চেষ্টা না চালানোয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন তিনি। কারণ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সেনাবাহিনী সাধারণত ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিনই আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটে। সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আ.লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ চান দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু অমর্ত্য সেন চান না এ দলটিকে নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি বলেন, “একসঙ্গে কাজ করার যে একটি ধারা বাংলাদেশে আছে। আমি চাই এটির ব্যবহার অব্যাহত থাকুক এবং নির্দিষ্ট কোনো দলকে ঠেলে না দেওয়া হয়। আমি আশা করি বাঙালি স্বাধীনতা এবং বহুত্ববাদ থাকবে। আমি আশা করি ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে আগেরগুলো থেকে, যেগুলো তারা দাবি করেছিল নিরপেক্ষ ছিল। এখানে পরিবর্তনের সুযোগ আছে। আমি বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু আমি আশাহীন নই।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ড. ইউনূস (আমার) পুরোনো বন্ধু। আমি জানি তার সক্ষমতা অনেক বেশি। এবং অনেক দিকে তিনি একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্র নিয়ে শক্তিশালী কিছু বার্তা দিয়েছেন।”

হঠাৎ কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করলে তার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় এমনটি উল্লেখ করে অমর্ত্য দাবি করেন ড. ইউনূসও এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন। কিন্তু তিনি সেগুলো উতরে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, “যদি আপনি হঠাৎ করে কোনো দেশের প্রধান হন, যেমনটা ইউনূস হয়েছেন, আপনাকে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। ইসলামিক দল রয়েছে, এখন হিন্দু দলও আছে। আমার ড. ইউনূসের সক্ষমতার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা আছে।”

এছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন নিয়েও কথা বলেছেন অমর্ত্য সেন। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কারণ বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের ওপর সুবিচার করা নিয়ে গর্ববোধ করে এবং জামায়াতের মতো দলগুলোকে নজরদারিতে রাখে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতেও মসজিদে হামলা হয়। এসব ঘটনা, হোক সেটি বাংলাদেশ অথবা ভারত, বন্ধ হতে হবে।”

সূত্র: পিটিআই

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন

ড. ইউনূস, আ.লীগ-জামায়াতকে নিয়ে যা বললেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রাজনীতি, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনসূ, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বার্তাসংস্থা পিটিআইকে নিজের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের বাড়িতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য বলেছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং বাংলাদেশ কীভাবে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে সে ব্যাপারেও তিনি চিন্তিত। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতকে পূর্বে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যেন ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় থাকে সেটি চাওয়া থাকবে তার।

অমর্ত্য সেন বলেন, “বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। কারণ আমার মধ্যে শক্তিশালী বাঙালী পরিচয় রয়েছে। আমি ঢাকায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি এবং সেখানেই আমার শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলাম। ঢাকা ছাড়াও আমি আমার পূর্বপুরুষের ভিটা মানিকগঞ্জে প্রায়ই যেতাম। অপরদিকে মায়ের দিক দিয়ে আমি বিক্রমপুর গিয়েছি। বিশেষ করে সোনারঙে। এই জায়গাগুলো ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদের মতো আমিও চিন্তিত কীভাবে বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে।”

অমর্ত্য তার ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় ঢাকায় কাটিয়েছেন। তিনি ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন স্কুলে চলে যান এবং সেখানেই পড়াশোনা চালান।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়াও সেনাবাহিনী নিয়েও কথা বলেন এই নোবেলজয়ী। দেশে সেনাশাসন জারির চেষ্টা না চালানোয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন তিনি। কারণ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সেনাবাহিনী সাধারণত ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিনই আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটে। সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আ.লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ চান দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু অমর্ত্য সেন চান না এ দলটিকে নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি বলেন, “একসঙ্গে কাজ করার যে একটি ধারা বাংলাদেশে আছে। আমি চাই এটির ব্যবহার অব্যাহত থাকুক এবং নির্দিষ্ট কোনো দলকে ঠেলে না দেওয়া হয়। আমি আশা করি বাঙালি স্বাধীনতা এবং বহুত্ববাদ থাকবে। আমি আশা করি ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে আগেরগুলো থেকে, যেগুলো তারা দাবি করেছিল নিরপেক্ষ ছিল। এখানে পরিবর্তনের সুযোগ আছে। আমি বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু আমি আশাহীন নই।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ড. ইউনূস (আমার) পুরোনো বন্ধু। আমি জানি তার সক্ষমতা অনেক বেশি। এবং অনেক দিকে তিনি একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্র নিয়ে শক্তিশালী কিছু বার্তা দিয়েছেন।”

হঠাৎ কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করলে তার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় এমনটি উল্লেখ করে অমর্ত্য দাবি করেন ড. ইউনূসও এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন। কিন্তু তিনি সেগুলো উতরে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, “যদি আপনি হঠাৎ করে কোনো দেশের প্রধান হন, যেমনটা ইউনূস হয়েছেন, আপনাকে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। ইসলামিক দল রয়েছে, এখন হিন্দু দলও আছে। আমার ড. ইউনূসের সক্ষমতার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা আছে।”

এছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন নিয়েও কথা বলেছেন অমর্ত্য সেন। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কারণ বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের ওপর সুবিচার করা নিয়ে গর্ববোধ করে এবং জামায়াতের মতো দলগুলোকে নজরদারিতে রাখে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতেও মসজিদে হামলা হয়। এসব ঘটনা, হোক সেটি বাংলাদেশ অথবা ভারত, বন্ধ হতে হবে।”

সূত্র: পিটিআই