মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কক্সবাজারের উখিয়া, কুতুবদিয়া ও টেকনাফে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে উখিয়ার একটি রিসোর্টে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। কুতুবদিয়ায় ১৩টি বসতঘর ও একটি দোকান এবং টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে একটি বাড়ি পুড়ে গেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশাসনিক তদারকি ও প্রত্যন্ত এলাকায় জরুরি সেবা পৌঁছানোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। একই দিন রাত ১১টার দিকে কুতুবদিয়ার উত্তর কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ফৈত্তার পাড়ায় আগুনে ১৩টি বসতঘর ও একটি দোকান পুড়ে যায়। পরদিন রোববার সকাল ৮টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকায় আগুনে ভস্মীভূত হয় অলি মাস্টারের বাড়ি।
ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির বৈধ অনুমোদন ছিল না। নোটিশ দেওয়ার পরও কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে। রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
কুতুবদিয়ার ফৈত্তার পাড়ায় আগুনে ১৩টি পরিবারের বসতঘর ও সেলিমের একটি দোকান পুড়ে যায়। কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল আহম্মেদ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের সূত্রপাত ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে, হোয়াইক্যংয়ের ঝিমংখালীতে অগ্নিকাণ্ডে অলি মাস্টারের পুরো বাড়ি পুড়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে অন্য একটি হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা বলা হয়েছে, যা যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এ কারণে জরুরি সেবা দ্রুত পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হ্নীলা ও হোয়াইক্যংয়ের মাঝামাঝি এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তিনটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ এক নয় এবং ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র না থাকলেও এসব ঘটনা পর্যটন স্থাপনা, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বসতবাড়ি ও প্রত্যন্ত জনপদে অগ্নিনিরাপত্তার প্রস্তুতি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
শীত মৌসুমের আগে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম, অ্যালার্ম ও জরুরি বহির্গমনপথ নিশ্চিত করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা, রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় নিয়মিত পরিদর্শন জরুরি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিয়াম সোহেল 





















