রোহিঙ্গা রেসপন্স অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন কমিশনারের (RRRC) অধীন উখিয়ার ক্যাম্প-০৪ ইনচার্জ কার্যালয়ের ইনফরমেশন সহকারী শাহাদাত হোসাইনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ে, যৌতুক দাবি, স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সরকারি অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের অধিকাংশই অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের প্রক্রিয়া চলমান বলে দাবি করেছেন।
আদালতে দায়ের করা মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার এক তরুণীকে (ছদ্মনাম “মেহজাবীন”) বিয়ে করেন শাহাদাত হোসাইন। মামলার বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর তাকে সংসারে না তুলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে ফার্নিচার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কথা বলে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। যৌতুক না দিলে তাকে ঘরে তুলবেন না এবং অন্যত্র বিয়ে করবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর দাবি, বিয়ের পর থেকে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। একবার মারধরের ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার কিছু আলোকচিত্র প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া শাহাদাত হোসাইন প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, উখিয়ার কর্মস্থলের অফিস কক্ষে বেড, বালিশ, চুলাসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী রেখে সেটিকে ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ব্যবহার করতেন শাহাদাত হোসাইন। এ-সংক্রান্ত ভিডিওচিত্রও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন শাহাদাত হোসাইন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তালাকের বিষয়টি এখনও “প্রক্রিয়াধীন” বলে জানান।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বাদী বলেন, সংসার করার স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করলেও তাকে প্রতিশ্রুতি, অপেক্ষা, যৌতুকের চাপ এবং নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহাদাত হোসাইন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয়। কর্মস্থলের অফিসে স্থায়ীভাবে বসবাসের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল বিকল হওয়ায় কয়েকবার সেখানে রাতযাপন করেছিলেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও বিষযটি লিখিত অভিযোগকারে দেয়ার পরামর্শ দেন ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
বার্তা পরিবেশক 



















