কক্সবাজারের রামু উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রামুর ৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫৯৮টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫২৬ জন শিক্ষক। ফলে প্রধান শিক্ষকের ২৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৪৬টিসহ মোট ৭২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট ৪৮টি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। অধিকাংশ শূন্যপদ পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানকার শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, মাঝিরকাটা, থোয়াংগাকাটা, জাউচপাড়া, থিমছড়ি হালিমা বেগম চৌধুরী, শুকমনিয়া, জুমছড়ি ও উত্তর বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনটি করে শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ঈদগড় খরলিয়া মুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
যদিও কোনো বিদ্যালয় পুরোপুরি শিক্ষকশূন্য নয়, তবুও অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে এবং পাঠদানের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবক ফরিদুল আলম বলেন, “পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পাচ্ছে না। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।”
কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাওলানা জাবেদুল আনোয়ার বলেন, “রামুর শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা শিক্ষক সংকট। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু নতুন নিয়োগ নয়, শিক্ষকদের সুষম বণ্টনও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকলেও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এখনও তীব্র সংকট বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হানিফ মিয়া বলেন, “সারাদেশের মতো রামুতেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। তবে শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়োগ ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের মূল ভিত্তি। তাই রামুর প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি।
বিশেষ প্রতিবেদক(রামু): 





















