মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করায় সতর্ক হয়ে গেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কোনো রকম ঝুঁকির পথে না হেঁটে পুরোনো ফরমেশনে (ছক) ফিরে যাচ্ছেন তিনি। সে সঙ্গে অনুশীলনে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, যেন কোনো খবর বাইরে না আসে। এত কিছুর মধ্যেও ব্রাজিলিয়ান মিডিয়াগুলো হাইতির বিপক্ষে কোন স্টাইলে আনচেলত্তি দলকে খেলাতে পারেন, তা মোটামুটি বের করে ফেলেছে।
সেই সূত্রে জানা গেছে, হাইতির বিপক্ষে পুরোনো ৪-২-৪ ফরমেশনে ফিরে যাচ্ছে ব্রাজিল। আক্রমণাত্মক ফুটবলে দলকে জয় এনে দিতে মরিয়া তিনি। ফরমেশন বদলের সঙ্গে একাদশেও দুটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইবানেজ ও লুকাস পাকেতার বদলে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে যাচ্ছেন দানিলো ও লুইজ হেনরিক। নেইমারকে যে এ ম্যাচেও পাওয়া যাচ্ছে না, সেটা আরও কদিন আগেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল জানা গেছে, আগের ম্যাচের মতো ভেন্যুতে যাবেন না তিনি, নিউ জার্সির হোটেলে ফিটনেস নিয়ে কাজ করবেন। ফিলাডেলফিয়ায় ২০ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় পুরোটা সময়ই ৪-২-৪ ফরমেশনে খেলিয়েছেন ব্রাজিলকে। অথচ মরক্কোর বিপক্ষে তিনি ৪-৪-২ ফরমেশনে গিয়েছিলেন। কলম্বিয়া পার্কে মঙ্গলবার ও বুধবারের অনুশীলনে ৪-২-৪ ফরমেশনে একই পজিশনে খেলোয়াড়দের বদলে বদলে খেলিয়েছেন। এই ফরমেশনের সঙ্গে কে বেশি অভ্যস্ত, সেটাই বাজিয়ে দেখেছেন তিনি। সেখানেই দুটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। মরক্কোর বিপক্ষে রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলেছিলেন ইবানেজ। তাঁর বদলে দানিলোর মাঠে নামা অনেকটাই পাকা। মরক্কোর বিপক্ষে পাকেতার পারফরম্যান্সও ছিল ভীষণ ম্রিয়মাণ। সে দিন পাকেতা ও ক্যাসেমিরোকে তুলে নেওয়ার পরই দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় গতি এসেছিল। পাকেতার জায়গায় নামবেন তরুণ মিডফিল্ডার লুইজ হেনরিক। তবে মরক্কোর বিপক্ষে ভীষণ বাজে খেলার পরও আরেকটা সুযোগ পাচ্ছেন ক্যাসেমিরো। সেদিন সুবিধা করতে পারেননি দুই সেন্টার ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগো এবং তাঁর বদলি হিসেবে নামা ম্যাথুস কুনহা। অনুশীলন দেখে বোঝা গেছে, তাদের ওপরই আস্থা রাখছেন আনচেলত্তি। তবে শুরুর একাদশে এ দুজনের কে নামবেন, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তাই এনদ্রিককে হয়তো এ ম্যাচেও সাইড বেঞ্চে বসতে হবে।
বুধবারের অনুশীলনে আরও একটি বিষয় দেখা গেছে। দুই তারকা গ্যাব্রিয়েল মাগালহাস ও রাফিনহা সেরা একাদশের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। তারা রিজার্ভ দলের সঙ্গে হালকা অনুশীলন করেছেন। ডিফেন্ডার মাগালহাসের বাঁ উরুর মাংসপেশিতে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। আর মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ফরোয়ার্ড রাফিনহার পায়ে ফোসকা পড়েছিল। ফিট হয়ে ওঠার জন্য তাদের বিশ্রামের মেজাজে রাখা হয়েছে। এ দুজনের জায়গায় সেরা একাদশের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন লিও পেরেইরা ও গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেসের পাশে ছিলেন ফ্যাবিনহো। তাঁকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। মরক্কোর বিপক্ষে ক্যাসেমিরোর বদলি হিসেবে নেমে ভালোই খেলেছিলেন তিনি। তবে এখনও সবকিছু আনচেলত্তির ওপর নির্ভর করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের সেশনে নিউ জার্সিতে অনুশীলন করার কথা ব্রাজিলের। অনুশীলন শেষে বিকেলের দিকে তারা ফিলাডেলফিয়ার উদ্দেশে হবেন।
বুধবারের অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন দানিলো। মরক্কোর বিপক্ষে বদলি নেমেছিলেন তিনি। সেদিনের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মসমালোচনা করে তিনি বলেছেন, প্রত্যাশার ধারেকাছেও যেতে পারেননি তারা। দানিলো বলেন, ‘আমাদের (নিজেদের নিয়ে) পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। উন্নতি করার ও ভুল শোধরানোর সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া এবং যা ঘটেছে নিরপেক্ষভাবে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা। আমাদের নিশ্চিতভাবে বুঝতে হবে, (মরক্কোর বিপক্ষে) প্রথমার্ধে আমরা প্রত্যাশার ধারেকাছেও ছিলাম না। আর ব্রাজিল দলের কাছ থেকে যে মানের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করা হয়, সেটি আমরা দিতে পারিনি।’ ব্রাজিল যে এ মুহূর্তে কিছুটা পিছিয়ে আছে সেটাও স্বীকার করেছেন তিনি, ‘একটা বিষয় পরিষ্কার, দল হিসেবে এ মুহূর্তে আমরা যে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মতো পরিণত নই। তার মানে এই নয় যে আমরা ভালো পারফর্ম করতে পারব না। এগিয়ে যেতে হলে জয়ের বিকল্প নেই।’
সূত্র : সমকাল
টিটিএন ডেস্ক: 























