ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ বছর পলাতক থাকার পর ধরা খেল সাজাপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার রোগীর বেশে ইয়াবা পাচার চেষ্টা, তিন নারী আটক কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার আসামিবাহী সিএনজিকে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, দুই এসআইসহ আহত ৫ বিচারে বৈষম্যের অবসান কবে হবে? প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে ২-১ গোলে হারালো ব্রাজিল রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকর চাই : রামিসার বাবা টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে শামীমকে চায় তৃণমূল রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারালো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুপুরের মধ্যে কক্সবাজারসহ ১৭ জেলায় ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা “আজতেকা থেকে কক্সবাজার: ফুটবলের উদ্বোধনী বাঁশি যেন সমুদ্রের ঢেউয়েও” ৫ মাস পর মুক্তি! ৪টি ট্রলারসহ ৯১ বাংলাদেশি কুতুবদিয়ার জেলেকে ফেরত দিলো ভারত নাফ নদীতে আরাকান আর্মির গুলি, সাঁতরে বাংলাদেশে এলেন আহত রোহিঙ্গা যুবক

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা ও তার স্ত্রীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পড়ে শোনান বিচারক। তিনি উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করে, এটার প্রমাণ মিলেছে। জবানবন্দীতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সব অপরাধের দায় স্বীকার করেন সোহেল রানা। এসময় স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে পালাতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও আসামি দোষ স্বীকারোক্তির পর তা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়নি। দুইজনই একই অপরাধে অপরাধী।

একইসঙ্গে আসামিদের যথাযথ শাস্তি না দিলে আদালত ব্যর্থ হবে। তাদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় বলেও জানিয়েছেন আদালত।

এর আগে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে দুজনকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

গত বৃহস্পতিবার এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার বিচারকাজ শেষ হয় চার দিনে। আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ জন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে। এতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেন তিনি।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

পরে ১ জুন শুরু হয় এই মামলার বিচার। ২ জুন রামিসা হত্যা মামলায় তার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

সূত্র: যুমনা টিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা ও তার স্ত্রীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পড়ে শোনান বিচারক। তিনি উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করে, এটার প্রমাণ মিলেছে। জবানবন্দীতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সব অপরাধের দায় স্বীকার করেন সোহেল রানা। এসময় স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে পালাতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও আসামি দোষ স্বীকারোক্তির পর তা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়নি। দুইজনই একই অপরাধে অপরাধী।

একইসঙ্গে আসামিদের যথাযথ শাস্তি না দিলে আদালত ব্যর্থ হবে। তাদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় বলেও জানিয়েছেন আদালত।

এর আগে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে দুজনকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

গত বৃহস্পতিবার এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার বিচারকাজ শেষ হয় চার দিনে। আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ জন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে। এতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেন তিনি।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

পরে ১ জুন শুরু হয় এই মামলার বিচার। ২ জুন রামিসা হত্যা মামলায় তার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

সূত্র: যুমনা টিভি