ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামু ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শারমিনা আফরোজ রেশমিনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আবারও পাল্টালো পুলিশের পোশাক কক্সবাজার পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ঘোষণা, তৃণমূলে আলোচনায় কারানির্যাতিত ছাত্রদল নেতা রায়হান বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে কক্সবাজারে বিএসপিএ’র আলোচনা সভা বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বাংলাদেশের পাশে আছে চীন : রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারে সংঘর্ষ : সতর্ক অবস্থানে বিজিবি,ড্রোন দিয়ে নজরদারি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক মাদক মামলার ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোরশেদ গ্রেফতার টেকনাফে বিজিবির অভিযান, বিপুল পরিমাণ আইস ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার সৈকতের বালুচরে ছুটছে ‘মেসি’, স্বপ্নে আর্জেন্টিনার শিরোপা লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল হতে পারে সাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কক্সবাজারসহ সারা দেশে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ পালন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ১৯ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়ে কমছে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ঈদগাঁওতে চার সন্তানের মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাপা পড়ছে রোহিঙ্গা সংকট: শামা ওয়াবেদ

বৈশ্বিক বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপা পড়ছে (গুরুত্ব হারাচ্ছে) বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওয়াবেদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্ববাসীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব সংকট।

বুধবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে ৫ টায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনজিও ও আইএনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। তবুও বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া-এর আমলে দুই দফায় সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তবে বিএনপি সরকার রোহিঙ্গাদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা তাদের দেশে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করুক, কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করুক এবং তাদের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরে পাক।”

সরকার ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি চীন, ভারত, আসিয়ানভুক্ত দেশ, মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে, যাতে সমন্বিত উদ্যোগে এই সংকটের সমাধান করা যায়।

প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাসস্থান ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে—যা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বাংলাদেশ।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে পৌঁছায়। তারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শিত স্থানগুলোর মধ্যে ছিল ক্যাম্প-৪-এর ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, এলপিজি বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাম্প-১৮-এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৮ ওয়েস্টের এমএসএফ হাসপাতাল এবং কুতুপালংয়ের ইউএনআইকিউএলও প্লান্ট।

প্রতিনিধিদলে প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইং এর মহাপরিচালক তৌফিক-উর রহমান, পরিচালক (এসএমও) শামীমা ইয়াসিন স্মৃতি, এপিএস (এসএমও) মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং মিয়ানমার উইং এর সহকারী সচিব জাহিদ হাসান শিহাব।

সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসন, এনজিও ও আইএনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামু ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শারমিনা আফরোজ রেশমিনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাপা পড়ছে রোহিঙ্গা সংকট: শামা ওয়াবেদ

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বৈশ্বিক বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপা পড়ছে (গুরুত্ব হারাচ্ছে) বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওয়াবেদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্ববাসীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব সংকট।

বুধবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে ৫ টায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনজিও ও আইএনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। তবুও বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া-এর আমলে দুই দফায় সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তবে বিএনপি সরকার রোহিঙ্গাদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা তাদের দেশে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করুক, কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করুক এবং তাদের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরে পাক।”

সরকার ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি চীন, ভারত, আসিয়ানভুক্ত দেশ, মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে, যাতে সমন্বিত উদ্যোগে এই সংকটের সমাধান করা যায়।

প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাসস্থান ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে—যা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বাংলাদেশ।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে পৌঁছায়। তারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শিত স্থানগুলোর মধ্যে ছিল ক্যাম্প-৪-এর ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, এলপিজি বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাম্প-১৮-এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৮ ওয়েস্টের এমএসএফ হাসপাতাল এবং কুতুপালংয়ের ইউএনআইকিউএলও প্লান্ট।

প্রতিনিধিদলে প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইং এর মহাপরিচালক তৌফিক-উর রহমান, পরিচালক (এসএমও) শামীমা ইয়াসিন স্মৃতি, এপিএস (এসএমও) মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং মিয়ানমার উইং এর সহকারী সচিব জাহিদ হাসান শিহাব।

সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসন, এনজিও ও আইএনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।