ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার “অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ নতুন কুড়িঁ স্পোর্টস উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা: জেলায় নিবন্ধন করেছে ৩ হাজার ৩৫২ জন কক্সবাজারে নানান আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত ১৩ মাস পর টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু: মিয়ানমার থেকে এলো কাঠ বোঝাই বোট কক্সবাজারে এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের হোতা গ্রেফতার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার: রাষ্ট্রপতি দুপুরের মধ্যে কক্সবাজারসহ ১৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন প্রবাসীর পাঠানো মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ ও তার স্ত্রী’র চকরিয়ায় পা’চা’রচ’ক্রের নারী সদ’স্য গ্রে’প্তা’র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা: কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সদ্ধর্ম সভার ব্যাপক প্রস্তুতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বার্মিজ গরুসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি হাইকোর্টের রায়ে শিলখালীর ইউপি চেয়ারম্যান পদে বহাল কামাল হোসেন

“অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ

কক্সবাজার জেলার এক কালজয়ী শিক্ষাবিদ, চিন্তক ও রাজনৈতিক প্রতিভা অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী’র ১০১ তম জন্মবার্ষিকী।

১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে চকরিয়া ( বর্তমানে পেকুয়া ) উপজেলার গোয়াখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এ অবিস্মরণীয়, কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্বের শিক্ষা জীবন শুরু হয় (১৯৩০—‘৩৬ ) পেকুয়া এম.ই. স্কুলে। কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল থেকে ১৯৪০ সালে (হাজী মুহম্মদ মহসীন বৃত্তিসহ) প্রবেশিকা উত্তীর্ণ হন তিনি। ১৯৪২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৬ সালে কলিকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ( কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ডিস্টিংশনসহ) স্নাতক। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনকারী এ গুণীজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর বৈবাহিক জীবন শুরু হয় ১৯৫০ সালে। মহেশখালী আইল্যান্ড হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান ও সিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৫১ সালে। স্যার আশুতোষ কলেজ, কামুনগোপাড়া, চট্টগ্রামে ইতিহাসের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ১৯৫৩—৫৭। কক্সবাজার বারে আইনজীবী হিসেবে যোগদান ১৯৫৭ সালে। কক্সবাজার টাউন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন ১৯৫৯—‘৬৩। কক্সবাজার কলেজ প্রতিষ্ঠা, অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ এবং কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ ১৯৬২। তৎকালীন পাকিস্তানের এমএলএ ও এমপিএ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে। প্রিপারেটরী স্কুল প্রতিষ্ঠা ১৯৬৫। সৈকত বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ১৯৮১। তাঁর স্মরণে এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর লিখেছেন : “উনি একজন সুবক্তা ছিলেন। যে কোন নিরস বিষয়ের উপরও উনি সুন্দর শ্রুতিমধুর ভাষায় বিশেষ ভঙ্গিতে বক্তৃতা করে দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে রাখতে পারতেন। সুযোগ পেলেই আমি উনার বক্তৃতা শোনার জন্য উপস্থিত হতাম। একবার কক্সবাজার পাবলিক হলে সরকারি কর্মসূচী হিসাবে ”ছেলে হোক মেয়ে হোক দু’টি সন্তানই যথেষ্ট” বিষয়ের ওপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাপতি ছিলেন মহকুমা প্রশাসক। প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসাবে ছিলেন ছিলেন যথাক্রমে শামসুল হুদা চৌধুরী সাহেব এবং এডভোকেট ফিরোজ আহমদ চৌধুরী সাহেব। উনারা কি বলেন শোনার জন্য অনেক দর্শক শ্রোতার সাথে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সে অনেক বছর আগের কথা। এখনও ভুলিনি। শামসুল হুদা সাহেব বলেছিলেন, “আপনারা অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন আমি আর আমার মামা ফিরোজ আহমদ চৌধুরী কি বলি তা শোনার জন্য। অনেকের মনে প্রশ্ন : আমাদের কেন প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা করা হয়েছে? আমাদের একজনের ছেলে-মেয়ে তের জন, অন্য জনের ছেলে-মেয়ে বার জন। দুই সন্তানের জনকদেরই প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা করা উচিৎ ছিল।
শুনেন, আমি এবং ফিরোজ আহমদ চৌধুরী কক্সবাজার মহকুমার সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত দুই জমিদার পরিবারের সন্তান। আল্লাহ আমাদেরকে তুলনামূলক ভাবে সম্পদশালীও করেছেন। তারপরও আমরা বার-তের সন্তানের জন্ম দিয়ে ভালো করিনি, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আপনারা সে ভুল করবেন না। ছেলে হোক মেয়ে হোক দু’টি সন্তানই যথেষ্ট।” সভার সভাপতি এসডিও সাহেবসহ হলভর্তি সকলে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে উনার অসাধারণ বক্তৃতার জন্য অভিনন্দন জানালেন।”
আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করলেও শিক্ষকতাই ছিলো তাঁর মূল কর্মক্ষেত্র। কক্সবাজার কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ, কক্সবাজার জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন এবং সাম্মানিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন ১৯৮৩। কক্সবাজার আইন কলেজ প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫। আইন কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ ১৯৯১।
এমন বর্ণাঢ্য জীবন-অভিজ্ঞতার অধিকারী এই কালজয়ী গুণীজন ১৯৯৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে মৃত্যু বরণ করেন। আমৃত্যু তিনি আলো ছড়িয়ে গেছেন। যার আলোয় আলোকময় এ জনপদ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

“অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

কক্সবাজার জেলার এক কালজয়ী শিক্ষাবিদ, চিন্তক ও রাজনৈতিক প্রতিভা অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী’র ১০১ তম জন্মবার্ষিকী।

১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে চকরিয়া ( বর্তমানে পেকুয়া ) উপজেলার গোয়াখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এ অবিস্মরণীয়, কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্বের শিক্ষা জীবন শুরু হয় (১৯৩০—‘৩৬ ) পেকুয়া এম.ই. স্কুলে। কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল থেকে ১৯৪০ সালে (হাজী মুহম্মদ মহসীন বৃত্তিসহ) প্রবেশিকা উত্তীর্ণ হন তিনি। ১৯৪২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৬ সালে কলিকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ( কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ডিস্টিংশনসহ) স্নাতক। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনকারী এ গুণীজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর বৈবাহিক জীবন শুরু হয় ১৯৫০ সালে। মহেশখালী আইল্যান্ড হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান ও সিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৫১ সালে। স্যার আশুতোষ কলেজ, কামুনগোপাড়া, চট্টগ্রামে ইতিহাসের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ১৯৫৩—৫৭। কক্সবাজার বারে আইনজীবী হিসেবে যোগদান ১৯৫৭ সালে। কক্সবাজার টাউন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন ১৯৫৯—‘৬৩। কক্সবাজার কলেজ প্রতিষ্ঠা, অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ এবং কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ ১৯৬২। তৎকালীন পাকিস্তানের এমএলএ ও এমপিএ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে। প্রিপারেটরী স্কুল প্রতিষ্ঠা ১৯৬৫। সৈকত বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ১৯৮১। তাঁর স্মরণে এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর লিখেছেন : “উনি একজন সুবক্তা ছিলেন। যে কোন নিরস বিষয়ের উপরও উনি সুন্দর শ্রুতিমধুর ভাষায় বিশেষ ভঙ্গিতে বক্তৃতা করে দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে রাখতে পারতেন। সুযোগ পেলেই আমি উনার বক্তৃতা শোনার জন্য উপস্থিত হতাম। একবার কক্সবাজার পাবলিক হলে সরকারি কর্মসূচী হিসাবে ”ছেলে হোক মেয়ে হোক দু’টি সন্তানই যথেষ্ট” বিষয়ের ওপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাপতি ছিলেন মহকুমা প্রশাসক। প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসাবে ছিলেন ছিলেন যথাক্রমে শামসুল হুদা চৌধুরী সাহেব এবং এডভোকেট ফিরোজ আহমদ চৌধুরী সাহেব। উনারা কি বলেন শোনার জন্য অনেক দর্শক শ্রোতার সাথে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সে অনেক বছর আগের কথা। এখনও ভুলিনি। শামসুল হুদা সাহেব বলেছিলেন, “আপনারা অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন আমি আর আমার মামা ফিরোজ আহমদ চৌধুরী কি বলি তা শোনার জন্য। অনেকের মনে প্রশ্ন : আমাদের কেন প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা করা হয়েছে? আমাদের একজনের ছেলে-মেয়ে তের জন, অন্য জনের ছেলে-মেয়ে বার জন। দুই সন্তানের জনকদেরই প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা করা উচিৎ ছিল।
শুনেন, আমি এবং ফিরোজ আহমদ চৌধুরী কক্সবাজার মহকুমার সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত দুই জমিদার পরিবারের সন্তান। আল্লাহ আমাদেরকে তুলনামূলক ভাবে সম্পদশালীও করেছেন। তারপরও আমরা বার-তের সন্তানের জন্ম দিয়ে ভালো করিনি, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আপনারা সে ভুল করবেন না। ছেলে হোক মেয়ে হোক দু’টি সন্তানই যথেষ্ট।” সভার সভাপতি এসডিও সাহেবসহ হলভর্তি সকলে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে উনার অসাধারণ বক্তৃতার জন্য অভিনন্দন জানালেন।”
আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করলেও শিক্ষকতাই ছিলো তাঁর মূল কর্মক্ষেত্র। কক্সবাজার কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ, কক্সবাজার জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন এবং সাম্মানিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন ১৯৮৩। কক্সবাজার আইন কলেজ প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫। আইন কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ ১৯৯১।
এমন বর্ণাঢ্য জীবন-অভিজ্ঞতার অধিকারী এই কালজয়ী গুণীজন ১৯৯৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে মৃত্যু বরণ করেন। আমৃত্যু তিনি আলো ছড়িয়ে গেছেন। যার আলোয় আলোকময় এ জনপদ।