ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাসি-কান্নায় বিদায় নিল উখিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে? আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর উখিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস জব্দ শাহপরীরদ্বীপে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কবিরের, শনাক্ত করল পরিবার টেকনাফে আসামি ধরতে গিয়ে গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ এসআই দুলালের বিরুদ্ধে: অভিযোগ সঠিক নয় – ওসি লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকারের গোপন চেম্বারে ১৬ হাজার ইয়াবা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪ আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ শাহপরীরদ্বীপে সাগরে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ স্মৃতি শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ম্যাজিস্ট্রেট এড়িয়ে গেলেও ডিসি বললেন- অগোচরে চলছিল প্যারাসেইলিং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলতি মাসেই চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, আসছে আরও নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ঈদগাঁওয়ে প্রাইভেটকারে ৭৬ কেজি গাঁজা, একাধিক মামলার আসামিসহ আটক ২ নতুন দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বাস

স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি

রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতি, অবস্থান, এমনকি ভাষাও সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন জনসমক্ষে দেওয়া স্লোগান ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়।

সম্প্রতি এমপিদের পক্ষ থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি সুবিধার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের এই ধরনের সুবিধা চাওয়া অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়, এটি কি প্রয়োজন, নাকি প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা?

অন্যদিকে, “দিল্লি না ঢাকা” এই স্লোগান একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায়, সিদ্ধান্ত হবে আত্মমর্যাদা ও নীতির প্রশ্নে। কিন্তু বাস্তবতায় আবার দেখা যাচ্ছে, একই সময়েই দিল্লি থেকে ডিজেল নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়, স্লোগানটি কি আদর্শের প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?

রাজনীতির এই দ্বৈততা নতুন নয়। ক্ষমতার সমীকরণ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত সম্পর্ক, সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে। তাই আজকের প্রতিপক্ষ কাল আলোচনার টেবিলে বসতেই পারে; আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, বিএনপি ভেঙেও যেতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনও অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। যদি স্লোগান একরকম বার্তা দেয় আর বাস্তব সিদ্ধান্ত অন্য কিছু বলে, তাহলে সেই ফারাক আস্থাকে ক্ষয় করে।

বাস্তবতা হলো, রাজনীতিতে টিকে থাকাই বড় কথা, অস্তিত্বই মূল। কিন্তু সেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস যদি নীতির স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিনিময়ে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টেকসই, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাসি-কান্নায় বিদায় নিল উখিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা

স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৭:২০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতি, অবস্থান, এমনকি ভাষাও সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন জনসমক্ষে দেওয়া স্লোগান ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়।

সম্প্রতি এমপিদের পক্ষ থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি সুবিধার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের এই ধরনের সুবিধা চাওয়া অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়, এটি কি প্রয়োজন, নাকি প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা?

অন্যদিকে, “দিল্লি না ঢাকা” এই স্লোগান একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায়, সিদ্ধান্ত হবে আত্মমর্যাদা ও নীতির প্রশ্নে। কিন্তু বাস্তবতায় আবার দেখা যাচ্ছে, একই সময়েই দিল্লি থেকে ডিজেল নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়, স্লোগানটি কি আদর্শের প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?

রাজনীতির এই দ্বৈততা নতুন নয়। ক্ষমতার সমীকরণ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত সম্পর্ক, সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে। তাই আজকের প্রতিপক্ষ কাল আলোচনার টেবিলে বসতেই পারে; আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, বিএনপি ভেঙেও যেতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনও অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। যদি স্লোগান একরকম বার্তা দেয় আর বাস্তব সিদ্ধান্ত অন্য কিছু বলে, তাহলে সেই ফারাক আস্থাকে ক্ষয় করে।

বাস্তবতা হলো, রাজনীতিতে টিকে থাকাই বড় কথা, অস্তিত্বই মূল। কিন্তু সেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস যদি নীতির স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিনিময়ে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টেকসই, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।