ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার শহরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় ১৮ কেজি গাঁজা স্ত্রীর পাতা ফাঁদে অপহরণ, অপহৃতদের হাতে প্রাণ গেল তিন অপহরণকারীর কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে উশো-কারাতে ক্লাবের উদ্বোধন প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি টেকনাফের গহীন পাহাড়ে তিন যুবক খু*ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে জরুরি ব্রিফিং ডেকেছেন শিক্ষামন্ত্রী কক্সবাজারে ৫৪ কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে ২৬ হাজার ৭৪৭ শিক্ষার্থী “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” কুতুবদিয়া উপজেলা কমিটির প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন বাঁচাতে হবে ছাত্র রাজনীতি মানব পাচার প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ কক্সবাজারের সাংবাদিকেরা খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবকের লাশ উদ্ধার টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
টেকনাফে ট্রিপল মার্ডার:

স্ত্রীর পাতা ফাঁদে অপহরণ, অপহৃতদের হাতে প্রাণ গেল তিন অপহরণকারীর

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালীর পাহাড়ে ঘটে যাওয়া তিন হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বেরিয়ে এসেছে।

মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করতে গিয়ে উল্টো অপহৃতদের হাতেই প্রাণ হারিয়েছে তিন অপহরণকারী। গোয়েন্দা ও স্থানীয় গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে এক দুর্ধর্ষ ও লোমহর্ষক কাহিনী।

ঘটনার সূত্রপাত: প্রলোভন ও অপহরণ

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিহত ডাকাত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কৌশলে ৫ জন রোহিঙ্গাকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাহারছড়ার পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ‘মোর্শেদ গ্রুপ’-এর সদস্যরা তাদের হাত-পা বেঁধে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ৫ জনের মধ্যে একজন কৌশলে পালিয়ে গিয়ে গ্রামের একটি মসজিদে আশ্রয় নিলেও বাকিদের অস্ত্র ঠেকিয়ে পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায় মুজিব ও মোর্শেদ।

পরদিন ১৯ এপ্রিল, মুজিবের স্ত্রী একইভাবে আরও ৩ জন রোহিঙ্গাকে কৌশলে অপহরণের উদ্দেশ্যে একই স্থানে নিয়ে আসে।

সারারাত নির্যাতন ও ভিকটিমের পাল্টা আক্রমণ

২০ এপ্রিল দিনগত সারারাত অপহৃতদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় চার অপহরণকারী— মুজিব, নূরুল বশর, মোর্শেদ ও রবি আলম। ভিকটিমদের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ফজরের আজানের পর অপহরণকারী মুজিব, নূরুল বশর ও রবি আলম ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

ঠিক তখনই সুযোগ কাজে লাগায় অপহৃতরা। ভাগ্যক্রমে এক ভিকটিম তার হাতের বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হন। নিজের এবং সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে তিনি ঘুমন্ত তিন অপহরণকারীর মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর দ্রুত তারা পাহাড় ত্যাগ করেন।

স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ

জানা গেছে, ঘটনার পর চৌকিদার পাড়া এলাকা দিয়ে ৫ জন ব্যক্তিকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় পাহাড় থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, এরাই সেই অপহৃত ব্যক্তি যারা অপহরণকারীদের হাত থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

এক নজরে ঘটনার মূল পয়েন্টসমূহ:

ঘটনার হোতা: নিহত ডাকাত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী (যিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে লোক সংগ্রহ করতেন)।
মূল অপরাধী চক্র: মোর্শেদ গ্রুপ।

নিহত অপহরণকারী: মুজিবুর রহমান, নূরুল বশর ও রবি আলম।

বেঁচে ফেরা: মোর্শেদ নামক অপহরণকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাকি তিনজন অপহৃতদের পাল্টা আক্রমণে নিহত হয়।

এই ঘটনায় পুরো বাহারছড়া ও উত্তর শিলখালী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অপহরণ বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে এসব ডাকাত দলের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার শহরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

টেকনাফে ট্রিপল মার্ডার:

স্ত্রীর পাতা ফাঁদে অপহরণ, অপহৃতদের হাতে প্রাণ গেল তিন অপহরণকারীর

আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালীর পাহাড়ে ঘটে যাওয়া তিন হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বেরিয়ে এসেছে।

মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করতে গিয়ে উল্টো অপহৃতদের হাতেই প্রাণ হারিয়েছে তিন অপহরণকারী। গোয়েন্দা ও স্থানীয় গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে এক দুর্ধর্ষ ও লোমহর্ষক কাহিনী।

ঘটনার সূত্রপাত: প্রলোভন ও অপহরণ

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিহত ডাকাত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কৌশলে ৫ জন রোহিঙ্গাকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাহারছড়ার পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ‘মোর্শেদ গ্রুপ’-এর সদস্যরা তাদের হাত-পা বেঁধে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ৫ জনের মধ্যে একজন কৌশলে পালিয়ে গিয়ে গ্রামের একটি মসজিদে আশ্রয় নিলেও বাকিদের অস্ত্র ঠেকিয়ে পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায় মুজিব ও মোর্শেদ।

পরদিন ১৯ এপ্রিল, মুজিবের স্ত্রী একইভাবে আরও ৩ জন রোহিঙ্গাকে কৌশলে অপহরণের উদ্দেশ্যে একই স্থানে নিয়ে আসে।

সারারাত নির্যাতন ও ভিকটিমের পাল্টা আক্রমণ

২০ এপ্রিল দিনগত সারারাত অপহৃতদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় চার অপহরণকারী— মুজিব, নূরুল বশর, মোর্শেদ ও রবি আলম। ভিকটিমদের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ফজরের আজানের পর অপহরণকারী মুজিব, নূরুল বশর ও রবি আলম ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

ঠিক তখনই সুযোগ কাজে লাগায় অপহৃতরা। ভাগ্যক্রমে এক ভিকটিম তার হাতের বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হন। নিজের এবং সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে তিনি ঘুমন্ত তিন অপহরণকারীর মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর দ্রুত তারা পাহাড় ত্যাগ করেন।

স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ

জানা গেছে, ঘটনার পর চৌকিদার পাড়া এলাকা দিয়ে ৫ জন ব্যক্তিকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় পাহাড় থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, এরাই সেই অপহৃত ব্যক্তি যারা অপহরণকারীদের হাত থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

এক নজরে ঘটনার মূল পয়েন্টসমূহ:

ঘটনার হোতা: নিহত ডাকাত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী (যিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে লোক সংগ্রহ করতেন)।
মূল অপরাধী চক্র: মোর্শেদ গ্রুপ।

নিহত অপহরণকারী: মুজিবুর রহমান, নূরুল বশর ও রবি আলম।

বেঁচে ফেরা: মোর্শেদ নামক অপহরণকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাকি তিনজন অপহৃতদের পাল্টা আক্রমণে নিহত হয়।

এই ঘটনায় পুরো বাহারছড়া ও উত্তর শিলখালী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অপহরণ বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে এসব ডাকাত দলের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।