ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলায় ছাত্রদল সভাপতি হত্যা মামলার আসামী রামু থানার নতুন ওসি!! বালুখালীতে তুলকালাম : দেড় কোটি টাকার ইয়াবা নিয়ে লাপাত্তা তিন যুবক রামুতে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি: ১৫ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার কক্সবাজারের সন্তান ওয়াহিদ সরওয়ারের ভারতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৭০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩ নিবন্ধন পেল ঈদগাঁওর আলোকবর্তিকা যুব সমবায় সমিতি লিমিটেড মগনামায় জেলে কার্ড নিয়ে চেয়ারম্যানকে হেনস্তা-গালমন্দ পেকুয়ায় যাত্রীবেসে টমটম ছিনতাই ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত উখিয়ায় ঘরের ভেতর থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার মগনামায় ৯৩১ জেলে পরিবারকে ৭৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ মেরিন ড্রাইভে চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন, পুড়ে ছাই কক্সবাজারে সাড়ে ৬ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণ হলেও দেশে বেড়েছে সামান্য: জ্বালানিমন্ত্রী এবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে নাফ নদী সংলগ্ন চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের ভেতরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মো. সাদেক ওরফে হামিদ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা আহত হন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আমির হোসেন।

জানা গেছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হয়ে তিনি আহত হন।

এর আগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) একই এলাকার চাকমাকাটায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার ক্যাম্প-১৯ এর বাসিন্দা। বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর পাঁচ দিন আগে ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণে তাঁর একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং অন্য পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া গত ২৯ মার্চ নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। একইভাবে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও আরেক বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আনছার উদ্দিন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।”

রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানান, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকে সীমান্ত অতিক্রম করছেন।

বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। যা এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন চর ও শূন্যরেখার এলাকাজুড়ে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব মাইন স্থাপন করেছে।

সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে নাফ নদী সংলগ্ন চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের ভেতরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মো. সাদেক ওরফে হামিদ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা আহত হন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আমির হোসেন।

জানা গেছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হয়ে তিনি আহত হন।

এর আগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) একই এলাকার চাকমাকাটায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার ক্যাম্প-১৯ এর বাসিন্দা। বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর পাঁচ দিন আগে ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণে তাঁর একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং অন্য পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া গত ২৯ মার্চ নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। একইভাবে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও আরেক বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আনছার উদ্দিন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।”

রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানান, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকে সীমান্ত অতিক্রম করছেন।

বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। যা এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন চর ও শূন্যরেখার এলাকাজুড়ে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব মাইন স্থাপন করেছে।

সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।