ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় ইউসুফ আলী হত্যা মামলার আসামি আকাশ মিয়া গ্রেফতার টেকনাফের লেদায় বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক উখিয়ায় অস্ত্রসহ কেফায়াত হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার বিশ্ব পর্যটন দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন কক্সবাজারে : মাস্টার প্ল্যানের কথা জানালেন এমপি কাজল সালমান বলছেন, ‘বিএনপি চাঁদা~বাজের দল—এটা ঢালাও অভিযোগ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতে গোসলে নেমে তরুণ নিখোঁজ, হাসপাতালে আরও এক পর্যটক বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারে ৩৬ জন গ্রেপ্তার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের টুটুল, মাসুসহ ৫ নেতা আটক শহরের বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সদ্য সাবেক কউক চেয়ারম্যানের বড় ভাই আলাউদ্দিন রাজা মারা গেছেন কক্সবাজার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ পেকুয়ার জাহেদ পেলেন পিপিএম পদক

ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে নাফ নদী সংলগ্ন চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের ভেতরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মো. সাদেক ওরফে হামিদ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা আহত হন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আমির হোসেন।

জানা গেছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হয়ে তিনি আহত হন।

এর আগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) একই এলাকার চাকমাকাটায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার ক্যাম্প-১৯ এর বাসিন্দা। বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর পাঁচ দিন আগে ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণে তাঁর একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং অন্য পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া গত ২৯ মার্চ নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। একইভাবে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও আরেক বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আনছার উদ্দিন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।”

রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানান, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকে সীমান্ত অতিক্রম করছেন।

বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। যা এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন চর ও শূন্যরেখার এলাকাজুড়ে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব মাইন স্থাপন করেছে।

সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় ইউসুফ আলী হত্যা মামলার আসামি আকাশ মিয়া গ্রেফতার

ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে নাফ নদী সংলগ্ন চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের ভেতরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মো. সাদেক ওরফে হামিদ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা আহত হন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আমির হোসেন।

জানা গেছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হয়ে তিনি আহত হন।

এর আগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) একই এলাকার চাকমাকাটায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার ক্যাম্প-১৯ এর বাসিন্দা। বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর পাঁচ দিন আগে ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণে তাঁর একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং অন্য পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া গত ২৯ মার্চ নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। একইভাবে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও আরেক বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আনছার উদ্দিন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।”

রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানান, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকে সীমান্ত অতিক্রম করছেন।

বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। যা এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন চর ও শূন্যরেখার এলাকাজুড়ে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব মাইন স্থাপন করেছে।

সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।