ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন? কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ চায় জাতিসংঘ টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে নির্বাচন: কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার ৪ টি আসনে কেন্দ্র ৫৯৮,কক্ষ ৩,৬৮৯, পোলিং প্রিসাইডিং ১২,২৫১,আইনশৃঙ্খলা সদস্য ১৩,৪৯৯ চকরিয়া-পেকুয়া : অভিজ্ঞের সাথে নতুনের লড়াই কক্সবাজারের ডিককুলে যৌথবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক ১ বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন মেনে নেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রার্থীর পক্ষ নেওয়া চার ‘আলোচিত’ নামে তোলপাড় ভোটের সমীকরণ!
নগরায়নে হারিয়েছে ঢেকি

আজ পৌষ সংক্রান্তি

আজ পৌষ সংক্রান্তি। ঘরে ঘরে পিঠে—পুলির উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয়। যে কোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। আত্মীয়—পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে ওঠে পিঠে, পুলি, পায়েসের কথা। সেদ্ধ পুলি, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরণের মালপোয়া, ভাপাপিঠা, দুধপুলি… সহ বাহারি পিঠে—পুলির সম্ভার।

ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির সকালে স্নান শেষে মেরামেড়ির ঘরে আগুন দিয়ে হাত পা গরম করার ছবি। মেরামেরির অস্থায়ী এই ঘরটি তৈরি করা হয় পৌষ সংক্রান্তির রাতে। তারপর সেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি মেরামেরির ঘরটির মাঝে ছোট—বড়রা মিলেমিশে গান—বাজনা আমোদপ্রমোদ করতে থাকে। থাকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। এছাড়াও সংক্রান্তির ঘরে ঘরে তিল—কদমায়, পিঠা—পায়েসে ঠাকুর সেবা সহ আরও নানা আয়োজন হয়ে থাকে পৌষ সংক্রান্তিতে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ সংক্রান্তি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ জানুয়ারির আশেপাশে পৌষ বা মকর সংক্রান্তি পড়ে। কিন্তু এক হাজার বছর আগে মকর সংক্রান্তি হত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ, আবার এক হাজার বছর পরে সেটি ফেব্রুয়ারিতে সরে যাবে। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়। এই বিশেষ দিনটি নানা রকম নিয়মকানুন, অনুষ্ঠান ও আনন্দের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় প্রাচীনকাল থেকেই। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার—পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পৌষ সংক্রান্তির উৎসাহ আগের মতো ততটা নেই যতটা আছে নিয়মরক্ষার তাগিদ। নমো নমো করেই হচ্ছে সবকিছু। তবে এখনও শহরে অনেকে আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। সংক্রান্তির আগে গাইলে ও ঢেকিতে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়।

মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা—ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয়।সংক্রান্তি অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যে্যর এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়। সংক্রান্তি শব্দটি বিশ্লেষণ করলেও একই অর্থ পাওয়া যায়। সংক্রান্তি, সং অর্থ সঙ সাজা এবং ক্রান্তি অর্থ সংক্রমণ। অর্থাৎ, ভিন্ন রূপে সেজে অন্যত্র সংক্রমিত হওয়া বা নতুন সাজে, নতুন রূপে অন্যত্র সঞ্চার হওয়া বা গমন করাকে বোঝায়। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন?

This will close in 6 seconds

নগরায়নে হারিয়েছে ঢেকি

আজ পৌষ সংক্রান্তি

আপডেট সময় : ১১:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

আজ পৌষ সংক্রান্তি। ঘরে ঘরে পিঠে—পুলির উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয়। যে কোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। আত্মীয়—পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে ওঠে পিঠে, পুলি, পায়েসের কথা। সেদ্ধ পুলি, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরণের মালপোয়া, ভাপাপিঠা, দুধপুলি… সহ বাহারি পিঠে—পুলির সম্ভার।

ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির সকালে স্নান শেষে মেরামেড়ির ঘরে আগুন দিয়ে হাত পা গরম করার ছবি। মেরামেরির অস্থায়ী এই ঘরটি তৈরি করা হয় পৌষ সংক্রান্তির রাতে। তারপর সেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি মেরামেরির ঘরটির মাঝে ছোট—বড়রা মিলেমিশে গান—বাজনা আমোদপ্রমোদ করতে থাকে। থাকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। এছাড়াও সংক্রান্তির ঘরে ঘরে তিল—কদমায়, পিঠা—পায়েসে ঠাকুর সেবা সহ আরও নানা আয়োজন হয়ে থাকে পৌষ সংক্রান্তিতে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ সংক্রান্তি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ জানুয়ারির আশেপাশে পৌষ বা মকর সংক্রান্তি পড়ে। কিন্তু এক হাজার বছর আগে মকর সংক্রান্তি হত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ, আবার এক হাজার বছর পরে সেটি ফেব্রুয়ারিতে সরে যাবে। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়। এই বিশেষ দিনটি নানা রকম নিয়মকানুন, অনুষ্ঠান ও আনন্দের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় প্রাচীনকাল থেকেই। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার—পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পৌষ সংক্রান্তির উৎসাহ আগের মতো ততটা নেই যতটা আছে নিয়মরক্ষার তাগিদ। নমো নমো করেই হচ্ছে সবকিছু। তবে এখনও শহরে অনেকে আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। সংক্রান্তির আগে গাইলে ও ঢেকিতে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়।

মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা—ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয়।সংক্রান্তি অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যে্যর এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়। সংক্রান্তি শব্দটি বিশ্লেষণ করলেও একই অর্থ পাওয়া যায়। সংক্রান্তি, সং অর্থ সঙ সাজা এবং ক্রান্তি অর্থ সংক্রমণ। অর্থাৎ, ভিন্ন রূপে সেজে অন্যত্র সংক্রমিত হওয়া বা নতুন সাজে, নতুন রূপে অন্যত্র সঞ্চার হওয়া বা গমন করাকে বোঝায়। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি।