ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা সাজেকে চাঁদের গাড়ি উল্টে ৭ পর্যটক আহত জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বছরে কয়েকবার উচ্ছেদ, তবুও যানজটের কারণ সেই বিদ্যুতের খুঁটি ‘জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিককে প্রধান আসামি করে পুলিশের মামলা টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি : খোঁজ নেই নাহিদসহ পরিবারের ৪ জনের কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ১৩ পরিবার লোহাগাড়ায় এক কিশোরীর কান্ড আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে মরদেহগুলো : ডিএনএ টেস্টে সময় লাগবে ৪ সপ্তাহ
নগরায়নে হারিয়েছে ঢেকি

আজ পৌষ সংক্রান্তি

আজ পৌষ সংক্রান্তি। ঘরে ঘরে পিঠে—পুলির উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয়। যে কোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। আত্মীয়—পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে ওঠে পিঠে, পুলি, পায়েসের কথা। সেদ্ধ পুলি, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরণের মালপোয়া, ভাপাপিঠা, দুধপুলি… সহ বাহারি পিঠে—পুলির সম্ভার।

ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির সকালে স্নান শেষে মেরামেড়ির ঘরে আগুন দিয়ে হাত পা গরম করার ছবি। মেরামেরির অস্থায়ী এই ঘরটি তৈরি করা হয় পৌষ সংক্রান্তির রাতে। তারপর সেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি মেরামেরির ঘরটির মাঝে ছোট—বড়রা মিলেমিশে গান—বাজনা আমোদপ্রমোদ করতে থাকে। থাকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। এছাড়াও সংক্রান্তির ঘরে ঘরে তিল—কদমায়, পিঠা—পায়েসে ঠাকুর সেবা সহ আরও নানা আয়োজন হয়ে থাকে পৌষ সংক্রান্তিতে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ সংক্রান্তি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ জানুয়ারির আশেপাশে পৌষ বা মকর সংক্রান্তি পড়ে। কিন্তু এক হাজার বছর আগে মকর সংক্রান্তি হত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ, আবার এক হাজার বছর পরে সেটি ফেব্রুয়ারিতে সরে যাবে। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়। এই বিশেষ দিনটি নানা রকম নিয়মকানুন, অনুষ্ঠান ও আনন্দের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় প্রাচীনকাল থেকেই। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার—পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পৌষ সংক্রান্তির উৎসাহ আগের মতো ততটা নেই যতটা আছে নিয়মরক্ষার তাগিদ। নমো নমো করেই হচ্ছে সবকিছু। তবে এখনও শহরে অনেকে আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। সংক্রান্তির আগে গাইলে ও ঢেকিতে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়।

মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা—ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয়।সংক্রান্তি অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যে্যর এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়। সংক্রান্তি শব্দটি বিশ্লেষণ করলেও একই অর্থ পাওয়া যায়। সংক্রান্তি, সং অর্থ সঙ সাজা এবং ক্রান্তি অর্থ সংক্রমণ। অর্থাৎ, ভিন্ন রূপে সেজে অন্যত্র সংক্রমিত হওয়া বা নতুন সাজে, নতুন রূপে অন্যত্র সঞ্চার হওয়া বা গমন করাকে বোঝায়। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি

নগরায়নে হারিয়েছে ঢেকি

আজ পৌষ সংক্রান্তি

আপডেট সময় : ১১:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

আজ পৌষ সংক্রান্তি। ঘরে ঘরে পিঠে—পুলির উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয়। যে কোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। আত্মীয়—পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে ওঠে পিঠে, পুলি, পায়েসের কথা। সেদ্ধ পুলি, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরণের মালপোয়া, ভাপাপিঠা, দুধপুলি… সহ বাহারি পিঠে—পুলির সম্ভার।

ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির সকালে স্নান শেষে মেরামেড়ির ঘরে আগুন দিয়ে হাত পা গরম করার ছবি। মেরামেরির অস্থায়ী এই ঘরটি তৈরি করা হয় পৌষ সংক্রান্তির রাতে। তারপর সেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি মেরামেরির ঘরটির মাঝে ছোট—বড়রা মিলেমিশে গান—বাজনা আমোদপ্রমোদ করতে থাকে। থাকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। এছাড়াও সংক্রান্তির ঘরে ঘরে তিল—কদমায়, পিঠা—পায়েসে ঠাকুর সেবা সহ আরও নানা আয়োজন হয়ে থাকে পৌষ সংক্রান্তিতে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ সংক্রান্তি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ জানুয়ারির আশেপাশে পৌষ বা মকর সংক্রান্তি পড়ে। কিন্তু এক হাজার বছর আগে মকর সংক্রান্তি হত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ, আবার এক হাজার বছর পরে সেটি ফেব্রুয়ারিতে সরে যাবে। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়। এই বিশেষ দিনটি নানা রকম নিয়মকানুন, অনুষ্ঠান ও আনন্দের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় প্রাচীনকাল থেকেই। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার—পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পৌষ সংক্রান্তির উৎসাহ আগের মতো ততটা নেই যতটা আছে নিয়মরক্ষার তাগিদ। নমো নমো করেই হচ্ছে সবকিছু। তবে এখনও শহরে অনেকে আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। সংক্রান্তির আগে গাইলে ও ঢেকিতে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়।

মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা—ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয়।সংক্রান্তি অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যে্যর এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়। সংক্রান্তি শব্দটি বিশ্লেষণ করলেও একই অর্থ পাওয়া যায়। সংক্রান্তি, সং অর্থ সঙ সাজা এবং ক্রান্তি অর্থ সংক্রমণ। অর্থাৎ, ভিন্ন রূপে সেজে অন্যত্র সংক্রমিত হওয়া বা নতুন সাজে, নতুন রূপে অন্যত্র সঞ্চার হওয়া বা গমন করাকে বোঝায়। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি।