সরকার গঠনের এক মাসের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ের তিনি এসব অর্জনের কথা তুলে ধরেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার আছে। এবং আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই প্রতিটি পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেবো। পাইলট প্রজেক্টের কাজ আমরা এরইমধ্যে শুরু করেছি। সরকারের মাত্র ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী এই পাইলট কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের একটা প্রকাশ্য জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে—আপনারা সবাই সেই দৃশ্য দেখেছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে ৩৭ হাজারেরও বেশি পরিবারকে—প্রায় ৩৮ হাজার পরিবারের মতো ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়ে গিয়েছে। এরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবেন। এই পাইলট প্রজেক্ট পর্যায়ক্রমে চলতে চলতে আমরা দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকেই আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসব।
ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী ভাতা
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা এরইমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু করেছি, যা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল। তাও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা শুরু করেছি—আপনারা দেখেছেন।
তিনি জানান, আগামী চারটি অর্থবছরে চারটি ধাপে সব মসজিদ, মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারে মাসিক সম্মানী ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
ঈদ উপহার ও যাকাত ব্যবস্থা
মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের শুরুতেই আমরা ঈদের এই উৎসবকে ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছি, সে কারণে প্রধানমন্ত্রী ঈদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করেছেন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়। সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এই সব এলাকায় গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস, লুঙ্গি, রুমাল এবং ১০ লাখ টাকার নগদ অনুদান বণ্টন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাকাতটা বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে সবাই দান করেন, এটাকে একটা ইনস্টিটিউশনাল স্ট্রাকচার দেওয়ার জন্য তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কৃষক কার্ড ও কৃষি প্রণোদনা
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ের এই কাজটি চলবে এবং ক্রমান্বয়ে আমরা দেশের সব কৃষকের মধ্যেই এই কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকের ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের মাঝে এই কার্ড দেওয়া হবে। টাঙ্গাইল থেকে এর যাত্রা শুরু হবে পহেলা বৈশাখ। কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য জনপ্রতি বার্ষিক আড়াই হাজার টাকা করে তারা প্রণোদনা পাবেন।
খাল খনন কর্মসূচি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিতে ঘোষণা করেছিলাম যে, সারাদেশে আমাদের এই পাঁচ বছরের মেয়াদে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন করব। এবং এরইমধ্যে দেশের ৫৪টি জেলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একযোগে আমরা এই খাল খননের কাজ শুরু করেছি। আমরা আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ১২০০ কিলোমিটার খাল খনন করতে চাই। এবং এই খাল খননের মাধ্যমে অনাবাদি জমিকে আবাদি জমিতে রূপান্তরিত করা এবং কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং চূড়ান্তভাবে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।
সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা বর্জন
তিনি বলেন, আমাদের সরকার গঠন করার দিন সকালেই সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার নেতৃত্বে আমরা ঘোষণা করেছি—আমরা আর কখনোই ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবো না এমপিরা। আমরা ওইদিনই ঘোষণা করেছি—আমরা কোনো প্লট নেবো না। এমপিদের যে সুবিধা—সেই বিশেষ সুবিধাগুলোকে আমরা বাতিল করার জন্য উদ্যোগ নেবো এবং আমরা তা গ্রহণ করব না। আমরা আশা করি, সরকারি দলের বাইরে অন্যান্য এমপিরাও আমাদের এই উদ্যোগের পাশে থাকবেন।
এসময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
টিটিএন ডেস্ক: 



















