জনসংখ্যা ও অবস্থানগত কারণে প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় কক্সবাজার জেলার অন্যতম ইউনিয়ন উখিয়ার রাজাপালং।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারাদেশের জনমনে প্রশ্ন কবে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচনগুলো? বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খুব শীঘ্রই স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার লক্ষ্যে কর্মতৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
এই অবস্থায় প্রায় লক্ষাধিক জনসংখ্যার রাজাপালংয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচন অংশগ্রহণ নিয়ে এখন থেকে শুরু হয়েছে আলোচনা। ফেসবুকে নেটিজেনদের লেখালেখিতে যা ‘টক অব দ্যা উখিয়া’ পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাইতে এই ইউনিয়নে উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সেসময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা স্থগিত হয়।
যারা আছেন আলোচনায় –
– ২০২১ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রার্থী হয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন চারবারের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ কামাল চৌধুরীর পুত্র সাদমান জামী চৌধুরী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে তিনি লড়াই করে অল্প ব্যবধানে হারলেও তরুণ হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত না হওয়া ২০২৪ এর উপ নির্বাচনেও জামী হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন।
বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষকদলের উপজেলার সদস্য সচিব হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা জামীর নাম আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে
এবারো জোর আলোচনায় আছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের অভিমত, বাবা শাহকামাল চৌধুরীর উত্তরসূরী জামী নিজ দক্ষতায় কৈশোর থেকেই গত একযুগ ধরে রাজাপালংয়ে বিচরণ করেছেন এবং নিজের পক্ষে জনমত তৈরি করেছেন। সেক্ষেত্রে তিনি যোগ্য হিসেবে এগিয়ে থাকবেন।
– হাসান বান্না, বর্তমান সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ভাতিজা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরীর পুত্র। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি প্রচারের মাঠে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।
জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন হাসান বান্না, আছে মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে মানুষের জন্য মানবিক কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। সমসামায়িক ধারায় বান্নাও হয়ে উঠতে পারেন জনপ্রতিনিধির দাবীদার এমনটা ধারণা করছেন অনেকে।
সাদমান জামী ও বান্না সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই । পারিবারিকভাবে তাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বান্নার বাবা ও বড়চাচা একেঅপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। নিজেদের বাবা-চাচাদের মতো এই দুই ভাই কি একইভাবে নির্বাচনযুদ্ধে অবর্তীণ হবেন নাকি যেকোন একজন শেষপর্যন্ত মাঠে থাকবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে সামনের দিনগুলোতে।
– ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব আছেন ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান। ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলে রোমানের নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে।
বিএনপি নেতা রোমানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শোনা যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন, এখন দেখার বিষয় ভার সামলানো রোমান কি সামনের নির্বাচনে সদস্য পদে অংশ নিবেন অথবা ক্ষণিকের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঝুঁকবেন চেয়ারম্যানের চেয়ারের দিকে?
– বাবা বখতিয়ার আহমদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয় পান ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন,২০২১ সালের নির্বাচনেও জিতে তিনি ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্যের দায়িত্বে আছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প সহ নানা কারণে আলোচিত কুতুপালংয়ে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে হেলালের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য তিনি আলাদা পরিচিত পেয়েছেন। হেলাল নির্বাচন করলে ভিন্নমাত্রা যোগ হবে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
প্রসঙ্গত, ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। গতবারের উপ নির্বাচনে তার ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, এখন পর্যন্ত তাদের পরিবার থেকে কেউ প্রার্থী হচ্ছেন কিনা জানা না গেলেও যেহেতু এটি দলীয় নয় স্থানীয় নির্বাচন সেহেতু পারিবারিক রীতির কারণে এই পরিবার থেকেও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















