ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত গর্জনিয়ার সিজান দাখিলে জিপিএ ৫ পাওয়ায় মক্কা প্রাদেশিক বিএনপি পরিবারের অভিনন্দন এসএসসিতে ১২৪৭ নম্বর পেয়ে ফাউজিয়া আফিয়া করিম কক্সবাজার জেলায় চতুর্থ ইপসা’র উদ্যোগে মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক পরামর্শ সভা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ, বিলবোর্ড ৭টায় টিটিএনে সংবাদ প্রকাশের পর লোহাগাড়ায় সড়ক দখলকরে ছাগলের বাজার বসানো ইজারাদারকে জরিমানা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন এসএসসিতে পেকুয়ার সেরা মাহাথিরের পুলিশে রদবদল, বিদায় নিচ্ছেন কক্সবাজারের এসপি? রামু থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে ছিনতাই : রক্তাক্ত অবস্থায় চালককে পেকুয়া থেকে উদ্ধার  লোহাগাড়ার পদুয়ায় সড়ক দখল করে ছাগলের বাজার, মহাসড়কে তীব্র যানজট কক্সবাজার আদালতে গোলাগুলি, আত্মসমর্পণ করে কারাগারে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী এসএসসিতে কক্সবাজারে সেরা মুনতাকা সাইবা,বিজ্ঞান, ব্যবসা ও মানবিক বিভাগে সেরা যারা আবারও রিমান্ডে ডেভিড ইমন সার ছি’নতাইয়ে আলোচিত সেই কামাল মেম্বারের ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ হারালো দুই বন্ধু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 166

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসের মূল ভিত্তি হলো রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটি কেবল খাবার ত্যাগ করার নাম নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর:

​১. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
​রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, আল্লাহকে সদা উপস্থিত মনে করে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই রোজার শিক্ষা।
​২. আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সংযম
​রোজা মানুষের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে। এটি মিথ্যা, গীবত, রাগ এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
​৩. পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
​৪. পরকালীন পাথেয় এবং জান্নাত লাভ
​জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। রোজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, রোজা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
​৫. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
​ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে বিত্তবানরা অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজে দান-সদকা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।