কক্সবাজার সীমান্তে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার ফল। সীমান্তে উত্তেজনা, গোলাগুলির শব্দ, অনুপ্রবেশের আশঙ্কা; এসব আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়: কেন এমন হচ্ছে?
এর মূল কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা। দেশটিতে রাজনৈতিক সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা সীমান্ত এলাকাকে অনিরাপদ করে তুলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা সংকটের অমীমাংসিত বাস্তবতা। প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, আর তার চাপ এসে পড়ছে কক্সবাজার সীমান্তে।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত একটি কৌশলগত চাপের জায়গায় পরিণত হয়েছে। যখন ভেতরের সমস্যা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সীমান্তে উত্তেজনা অনেক সময় ভিন্ন বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে। এতে সরাসরি যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু অস্থিরতা তৈরি হয়।
আরেকটি বাস্তবতা হলো; আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ। কক্সবাজার কেবল একটি সীমান্ত অঞ্চল নয়; এটি ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। তাই এখানে যা ঘটে, তা বিভিন্ন পক্ষের নজরে থাকে এবং কখনো কখনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বাংলাদেশ এই পরিস্থিতির জন্মদাতা নয়, কিন্তু প্রভাবভোগী দেশ। সীমান্তের এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে তা নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উপর চাপ তৈরি করবে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
কেন এই রকম হচ্ছে? এর উত্তর এক কথায় নেই। এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, অমীমাংসিত সংকট এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মিলিত ফল। এই বাস্তবতাকে বুঝেই বাংলাদেশকে সংযত, কিন্তু দৃঢ় অবস্থানে থাকতে হবে।
কারণ সীমান্তের নীরব অস্থিরতাও ভবিষ্যতের বড় সংকেত হয়ে উঠতে পারে।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 




















