ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেরিন ড্রাইভে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ৬,আশঙ্কাজনক ২ ঘুমধুম সীমান্তে অনুপ্রবেশ, তিন আরকান আর্মি সদস্য আটক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছয় সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হবে সিটি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় সারজিস-হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপির কমিটি রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনী – সন্ত্রাসীর গোলাগুলি, নিহত ১ রমজানে মহানবী (সা.)-এর দিনলিপি সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি? টেকনাফের সাগরতীরের পাহাড়ে আগুন: ৪ ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে প্যারাবনে হাত দিলেই খবর আছে : এমপি আলমগীর ফরিদ রাজাপালংয়ের ‘রাজার চেয়ার’ দখলে যাবে কার? ঈদগাঁওয়ে সংরক্ষিত বনের গাছ কাটার সময় গ্রেপ্তার ২, কাঠ জব্দ রামুতে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় আসা সেই দুই সহোদর হারালেন বাবাকেও ​চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তোলায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা

সেন্টমার্টিনকে আগের অবস্থায় ফেরানোই পাঁচ মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য: পরিবেশ উপদেষ্টা

সেন্টমার্টিন দ্বীপকে আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পর্যটনের নামে অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপের পরিবেশ ধ্বংসের প্রধান কারণ।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণার কথা উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের সংবেদনশীল দ্বীপে রাতযাপন নিষিদ্ধ। ট্যুরিজম আর সেন্টমার্টিন এক বিষয় নয়। লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীপটিকে তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।

তিনি জানান, সেন্টমার্টিন রক্ষায় প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যান ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এই উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী কেন্দ্রিক। বহিরাগত নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপের পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল কারণ।

দ্বীপবাসীর বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। মাস্টারপ্ল্যানে প্রথম অগ্রাধিকার পাবে সংরক্ষণ আর অর্থনীতি ও পর্যটন আসবে পরে।

সেন্টমার্টিন বারবিকিউ বা লাউডস্পিকারের জায়গা নয় উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এটি প্রকৃতির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। স্থানীয়দের ঘরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেটিই হবে হোটেল ও রিসোর্ট নির্ভরতার টেকসই বিকল্প।

তিনি আরও জানান, দ্বীপের ভাঙন, সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সরকারিভাবেই নিয়মিত নজরদারিতে রয়েছে।

সেন্টমার্টিনের সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দ্বীপে কোনো কুকুর অনাহারে নেই বা অপুষ্টিতে ভুগছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। বরং দ্বীপের প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সরকারের এই অবস্থানের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধবভাবে সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: সমকাল

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

সেন্টমার্টিনকে আগের অবস্থায় ফেরানোই পাঁচ মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য: পরিবেশ উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৭:২৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

সেন্টমার্টিন দ্বীপকে আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পর্যটনের নামে অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপের পরিবেশ ধ্বংসের প্রধান কারণ।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণার কথা উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের সংবেদনশীল দ্বীপে রাতযাপন নিষিদ্ধ। ট্যুরিজম আর সেন্টমার্টিন এক বিষয় নয়। লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীপটিকে তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।

তিনি জানান, সেন্টমার্টিন রক্ষায় প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যান ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এই উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী কেন্দ্রিক। বহিরাগত নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপের পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল কারণ।

দ্বীপবাসীর বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। মাস্টারপ্ল্যানে প্রথম অগ্রাধিকার পাবে সংরক্ষণ আর অর্থনীতি ও পর্যটন আসবে পরে।

সেন্টমার্টিন বারবিকিউ বা লাউডস্পিকারের জায়গা নয় উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এটি প্রকৃতির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। স্থানীয়দের ঘরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেটিই হবে হোটেল ও রিসোর্ট নির্ভরতার টেকসই বিকল্প।

তিনি আরও জানান, দ্বীপের ভাঙন, সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সরকারিভাবেই নিয়মিত নজরদারিতে রয়েছে।

সেন্টমার্টিনের সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দ্বীপে কোনো কুকুর অনাহারে নেই বা অপুষ্টিতে ভুগছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। বরং দ্বীপের প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সরকারের এই অবস্থানের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধবভাবে সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: সমকাল