ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি প্রধানমন্ত্রীকে বরনে প্রস্তুত পেকুয়া কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী কুতুবদিয়ায় উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে দিনব্যাপী কর্মসূচি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন, ক্ষতি প্রায় ১২ লাখ টাকা কক্সবাজারে ১২ ঘন্টার সফরে ১১ কর্মসূচীতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজের দোকানে ফাঁসিতে ঝুলেছে মুজিব: পরকিয়া ও টাকার লেনদেন বলছে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা বৃহত্তর মনোহরখালী ঐক্য পরিষদের জার্সি উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সফর, ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক : লাখো মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো

৮ বছর পর আলোয় আলোকময় রাতের সৈকত

  • আফজারা রিয়া:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 391

দীর্ঘদিন ধরে যে অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল অপরাধ আর ভয়।অবশেষে সে অন্ধকার মুছে গেছে নতুন আলোয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারো সৈকতের পিলার গুলোতে বসলো লাইট৷ জ্বললো বাতি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো সৈকতজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে  হেলোজেন লাইট। ফলে রাতের সৈকত এখন শুধু সৌন্দর্যমণ্ডিতই নয়,আরও নিরাপদ।

কক্সবাজারে হানিমুন করতে আসা ঢাকা বনানীর ফয়সাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নয়না ফাতিমা জানান,লাইট লাগানোর ফলে রাতের সৈকত কে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে আর নিরাপদবোধ করছি।

কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফার জাহান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, আগে সন্ধ্যা নামলেই সৈকত অন্ধকারে ডুবে যেত। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বিচে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।

৮ নভেম্বর থেকে সৈকতে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন এ কাজের তত্ত্বাবধানকারীরা। বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব বলেন,বর্তমানে অর্ধশতাধিক লাইট লাগানো হয়েছে। আগের অনেক পিলার অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন করে লাগাতে হয়েছে হোল্ডার, তারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ।

নতুন লাইটগুলোর কোনোটি ৪০০ ওয়াট, কোনোটি আবার ৭০০ ওয়াটের। তাই ঝাউবন আর সাগরপাড় থেকে শুরু করে পুরো বিচ এখন উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সৈকতে প্রথম ধাপের লাইট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে,প্রথমধাপে ডায়বেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পয়েন্টেও বসানো হবে।

জানা যায়,২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিটলাইট বসানো হলেও এর মধ্যে ৭৮টি বাতি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সন্ধ্যার পর সৈকত পরিণত হয় ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। ভুতুড়ে অন্ধকার নিয়ে গণমাধ্যমসহ টিটিএনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় নতুন করে আলো স্থাপনের উদ্যোগ।

পর্যটকেরা বলছেন, নবসজ্জিত আলো শুধু সৈকতের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি।ফিরিয়ে এনেছে নিরাপত্তা, স্বস্তি আর নির্ভরতার পরিবেশ। অন্ধকারের ভয় কাটিয়ে কক্সবাজারের রাতের সৈকত এখন আবারও প্রাণবন্ত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি

৮ বছর পর আলোয় আলোকময় রাতের সৈকত

আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিন ধরে যে অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল অপরাধ আর ভয়।অবশেষে সে অন্ধকার মুছে গেছে নতুন আলোয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারো সৈকতের পিলার গুলোতে বসলো লাইট৷ জ্বললো বাতি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো সৈকতজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে  হেলোজেন লাইট। ফলে রাতের সৈকত এখন শুধু সৌন্দর্যমণ্ডিতই নয়,আরও নিরাপদ।

কক্সবাজারে হানিমুন করতে আসা ঢাকা বনানীর ফয়সাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নয়না ফাতিমা জানান,লাইট লাগানোর ফলে রাতের সৈকত কে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে আর নিরাপদবোধ করছি।

কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফার জাহান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, আগে সন্ধ্যা নামলেই সৈকত অন্ধকারে ডুবে যেত। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বিচে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।

৮ নভেম্বর থেকে সৈকতে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন এ কাজের তত্ত্বাবধানকারীরা। বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব বলেন,বর্তমানে অর্ধশতাধিক লাইট লাগানো হয়েছে। আগের অনেক পিলার অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন করে লাগাতে হয়েছে হোল্ডার, তারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ।

নতুন লাইটগুলোর কোনোটি ৪০০ ওয়াট, কোনোটি আবার ৭০০ ওয়াটের। তাই ঝাউবন আর সাগরপাড় থেকে শুরু করে পুরো বিচ এখন উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সৈকতে প্রথম ধাপের লাইট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে,প্রথমধাপে ডায়বেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পয়েন্টেও বসানো হবে।

জানা যায়,২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিটলাইট বসানো হলেও এর মধ্যে ৭৮টি বাতি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সন্ধ্যার পর সৈকত পরিণত হয় ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। ভুতুড়ে অন্ধকার নিয়ে গণমাধ্যমসহ টিটিএনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় নতুন করে আলো স্থাপনের উদ্যোগ।

পর্যটকেরা বলছেন, নবসজ্জিত আলো শুধু সৈকতের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি।ফিরিয়ে এনেছে নিরাপত্তা, স্বস্তি আর নির্ভরতার পরিবেশ। অন্ধকারের ভয় কাটিয়ে কক্সবাজারের রাতের সৈকত এখন আবারও প্রাণবন্ত।